দেবীদ্বারে ৩৮ ক্যান্সার রোগী পেলেন জনপ্রতি ১০ হাজার টাকা সহায়তা ও ঔষধি গাছের চারা
কুমিল্লার দেবীদ্বারে ক্যান্সার আক্রান্তদের মাঝে নগদ সহায়তা ও ঔষধি চারা বিতরণ
- আপডেট সময় : ০২:৩৮:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬ ২৯ বার পড়া হয়েছে

কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলায় অসহায় ও দরিদ্র ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীদের মাঝে আর্থিক সহায়তা, ঔষধি গাছের চারা এবং ফল ও সবজির বীজ বিতরণ করা হয়েছে। মানবিক এই উদ্যোগে ৩৮ জন ক্যান্সার রোগীকে জনপ্রতি ১০ হাজার টাকা করে সহায়তা প্রদান করা হয়।
শুক্রবার (১২ জুন) বিকেল ৩টায় দেবীদ্বার সুজাত আলী সরকারি কলেজ মিলনায়তনে “Raise Your Hands for Needs Cancer Patients” গ্রুপের উদ্যোগে এবং “দেবীদ্বার উপজেলা জনকল্যাণ সংঘ”-এর সহযোগিতায় এ সহায়তা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান এবং দেবীদ্বার সুজাত আলী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আহসান পারভেজ।
তিনি বলেন, “ক্যান্সার রোগীদের শুধু ওষুধ নয়, প্রয়োজন মানসিক শক্তি ও সামাজিক সমর্থন। ক্যান্সার একটি পরিবারের জন্য শারীরিক কষ্টের পাশাপাশি বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংকটও সৃষ্টি করে। তাই সমাজের বিত্তবান ও সচেতন মানুষদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন।”
তিনি আরও বলেন, “নিজেদের রোগী নয়, যোদ্ধা হিসেবে ভাবুন। ইতিবাচক মনোভাব আপনাদের সুস্থতার পথে এগিয়ে নেবে।”
দেবীদ্বার ফর ক্যানসার কেয়ার ফাউন্ডেশনের জনসংযোগ ও প্রচার সম্পাদক এবং ঢাকার সরকারি বাংলা কলেজের মৃত্তিকা বিভাগের অধ্যাপক ও ক্যান্সারজয়ী প্রফেসর ড. জেসমিন পারভীন সীমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সঞ্চালনা করেন মো. সফিউল্লাহ সোহাগ।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বরুণ চন্দ্র দে, সমাজসেবক ও রাজনীতিক মো. আনোয়ার হোসেন ভুলু পাঠান, দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, সমাজসেবক মো. মোজাফ্ফর আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, সাংবাদিক সৈয়দ খলিলুর রহমান বাবুল এবং ক্যান্সার আক্রান্ত মো. শাহ আলম।
স্বাগত বক্তব্য দেন ব্যাংক কর্মকর্তা মো. আব্দুস সালাম মুন্সী। এছাড়া ক্যান্সার বিষয়ে সচেতনতামূলক পরামর্শ দেন ডা. মো. আল আমিন ও ডা. মো. সাহেদ কামাল।
অনুষ্ঠানে গলা, ফুসফুস, স্তন, জরায়ু, ব্লাড ও ব্রেইন ক্যান্সারসহ বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সারে আক্রান্ত ৩৮ জন রোগীর মাঝে আর্থিক সহায়তা বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক বিভিন্ন ঔষধি গাছের চারা এবং ফল ও সবজির বীজও প্রদান করা হয়।
সহায়তা গ্রহণকারী এক রোগীর স্বজন বলেন, “চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে আমরা দিশেহারা হয়ে পড়েছিলাম। এই সহায়তা আমাদের জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি।”
সভাপতির বক্তব্যে ড. জেসমিন পারভীন সীমা বলেন, “আমি নিজেও ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করেছি। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকে এই উদ্যোগ নিয়েছি। অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারাই আমার সবচেয়ে বড় সার্থকতা।”
অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত সবার মাঝে মানবিকতা, সহমর্মিতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে এ আয়োজন।














