তদন্ত প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত সব ধরনের অপারেশন কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ স্বাস্থ্য বিভাগের
পঞ্চগড়ে তিন দিনে প্রসূতি মা ও দুই নবজাতকের মৃত্যু: আদর্শ ক্লিনিকের ওটি ও লেবার রুম সিলগালা
- আপডেট সময় : ০৫:৫১:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬ ৩৭ বার পড়া হয়েছে

পঞ্চগড় | ১১ জুন ২০২৬ : পঞ্চগড়ে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ‘আদর্শ ক্লিনিক’-এ মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে এক প্রসূতি মা ও দুই নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় জনমনে ব্যাপক উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পরপর এসব মৃত্যুর ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির চিকিৎসাসেবার মান, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনাগুলো বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর স্বাস্থ্য বিভাগ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করে। গতকাল বুধবার (১০ জুন) রাত ১১টার দিকে পঞ্চগড়ের সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান ক্লিনিকটি পরিদর্শন করে অপারেশন থিয়েটার (ওটি) ও লেবার রুম সিলগালা করেন। একই সঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত ক্লিনিকে সব ধরনের অপারেশন কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ জুন রাতে আদর্শ ক্লিনিকে নরমাল ডেলিভারির সময় মনিরুল ইসলামের স্ত্রী মিতু আক্তারের নবজাতকের মৃত্যু হয়। এর দুই দিন পর ১০ জুন সদর উপজেলার অমরখানা ইউনিয়নের নূরনবীর স্ত্রী পাপড়ি আক্তারের প্রসবকালীন সময়ে প্রথমে নবজাতকের মৃত্যু ঘটে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রসূতি পাপড়ি আক্তারও মারা যান।
পরপর তিনটি মৃত্যুর ঘটনায় নিহতদের স্বজনরা চিকিৎসায় অবহেলা, দায়িত্বহীনতা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ও দক্ষ জনবলের ঘাটতির অভিযোগ তুলেছেন। তাদের দাবি, সময়মতো যথাযথ চিকিৎসা প্রদান করা হলে এসব প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব ছিল।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই বেসরকারি ক্লিনিকগুলোর কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আদর্শ ক্লিনিকের হালনাগাদ লাইসেন্স নেই বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে স্বাস্থ্য বিভাগ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
পঞ্চগড়ের সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান বলেন, ‘ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ক্লিনিকের ওটি ও লেবার রুম সিলগালা করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ক্লিনিকটির অপারেশন কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।’
স্বাস্থ্যসেবা খাতে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।














