চট্টগ্রাম ১০:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিঃ
বর্তমান সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় আধুনিক সকল ফিচার যুক্ত  জাতীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং মাল্টিমিডিয়া দৈনিক সারাদেশ ৭১  নিউজ পোর্টালে আপনাকে স্বাগতম। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিবন্ধনের আবেদনের  জন্য অপেক্ষমান দেশের অন্যতম প্রথম সারির অনলাইন পোর্টাল ও মাল্টিমিডিয়ার জন্য সংবাদদাতা আবশ্যক, বিশেষ সংবাদদাতা (৪),  ক্রাইম রিপোর্টার (৫), স্টাফ রিপোর্টার (১০), বিভাগীয় ব্যুরো (৩) উপজেলা প্রতিনিধি (১০), বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি (৪),  মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার (সকল জেলা ও উপজেলার জন্য) (১০) ইউনিয়ন প্রতিনিধি (৫)  আবেদনের জন্য সিভি, জাতীয় পরিচয় পত্র, আবেদন পাঠাবেন saradesh71@gmail.com এই মেইলে।
সংবাদ শিরোনামঃ
বেনাপোল সীমান্তে ভারতীয় শাড়ি-কসমেটিক্সসহ ৫ লাখ ৮১ হাজার টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ ডবলমুরিং-হালিশহরে মাদক, চাঁদাবাজি ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ; স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ব্যবস্থা চেয়ে আবেদন রংপুরের নতুন জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহানকে জেলা কংগ্রেসের ফুলেল শুভেচ্ছা রাণীশংকৈলে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত, পতাকা উত্তোলন ও বৃক্ষরোপণ দামুড়হুদায় মটর চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে চোরের মৃত্যু চুয়াডাঙ্গায় নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে হরিরামপুরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হাতীবান্ধা-পাটগ্রামে বিজিবির পৃথক অভিযান, উদ্ধার ভারতীয় পণ্য নজরুল বর্ষ ঘিরে পীরগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজন বিদ্রোহী কবির চেতনায় উখিয়ায় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা

সালথার জগজ ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপারের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীর লিখিত অভিযোগ; তদন্তের নির্দেশ প্রশাসনের

ফরিদপুরের সালথায় দাখিল পরীক্ষার্থীকে কুপ্রস্তাবের অভিযোগ, মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু

মোঃ ইলিয়াছ খান
  • আপডেট সময় : ০৯:২০:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬ ৪৬ বার পড়া হয়েছে
সারাদেশ ৭১ নিউজ – নির্ভরযোগ্য অনলাইন সংবাদ মাধ্যম গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ফরিদপুর | ১১ জুন ২০২৬ : ফরিদপুরের সালথা উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নের যদুনন্দী বাজার সংলগ্ন জগজ ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মো. ইব্রাহীম হোসাইনের বিরুদ্ধে এক দাখিল পরীক্ষার্থীকে কুপ্রস্তাব দেওয়া ও মানসিক হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসন তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বুধবার (১১ জুন) সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত প্রায় এক বছর ধরে মাদ্রাসার সুপার বিভিন্ন সময় ওই শিক্ষার্থীকে অনাকাঙ্ক্ষিত প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন।

শিক্ষার্থী তার প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় তাকে বিভিন্নভাবে মানসিক চাপ প্রয়োগ করা হয়। এমনকি চলতি দাখিল পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।

শিক্ষার্থী আরও অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন বিষয়টি গোপন রাখলেও পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠলে তিনি তার বাবা-মাকে বিষয়টি জানান। পরে তার মা মাদ্রাসায় গিয়ে সুপারের কাছে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তাকে অপমানজনক আচরণ ও গালিগালাজের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান থেকে বের করে দেওয়া হয়। বিষয়টি মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিকে অবহিত করা হলেও কোনো কার্যকর সমাধান পাননি বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে অভিযোগের বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন জগজ ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মো. ইব্রাহীম হোসাইন। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না। আমি প্রশাসন ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত চাই। তদন্তে যদি আমি দোষী প্রমাণিত হই, তাহলে আইন অনুযায়ী যে কোনো শাস্তি মেনে নেব। আর অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে আমাকে যারা হয়রানি করছে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”

শিক্ষার্থীর মাকে গালিগালাজ করার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি একজন শিক্ষক। কোনো শিক্ষার্থীর অভিভাবকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করার প্রশ্নই আসে না।”

মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আবুল কালাম পিকুল মোল্লা বলেন, “সুপারের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগের কথা শুনেছি। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে, যেন কোনো নির্দোষ ব্যক্তির সুনাম ক্ষুণ্ন না হয়।”

এ বিষয়ে সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন জানান, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিষয়টি তদন্তের জন্য অবহিত করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও সচেতন মহল দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সালথার জগজ ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপারের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীর লিখিত অভিযোগ; তদন্তের নির্দেশ প্রশাসনের

ফরিদপুরের সালথায় দাখিল পরীক্ষার্থীকে কুপ্রস্তাবের অভিযোগ, মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু

আপডেট সময় : ০৯:২০:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

ফরিদপুর | ১১ জুন ২০২৬ : ফরিদপুরের সালথা উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নের যদুনন্দী বাজার সংলগ্ন জগজ ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মো. ইব্রাহীম হোসাইনের বিরুদ্ধে এক দাখিল পরীক্ষার্থীকে কুপ্রস্তাব দেওয়া ও মানসিক হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসন তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বুধবার (১১ জুন) সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত প্রায় এক বছর ধরে মাদ্রাসার সুপার বিভিন্ন সময় ওই শিক্ষার্থীকে অনাকাঙ্ক্ষিত প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন।

শিক্ষার্থী তার প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় তাকে বিভিন্নভাবে মানসিক চাপ প্রয়োগ করা হয়। এমনকি চলতি দাখিল পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।

শিক্ষার্থী আরও অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন বিষয়টি গোপন রাখলেও পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠলে তিনি তার বাবা-মাকে বিষয়টি জানান। পরে তার মা মাদ্রাসায় গিয়ে সুপারের কাছে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তাকে অপমানজনক আচরণ ও গালিগালাজের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান থেকে বের করে দেওয়া হয়। বিষয়টি মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিকে অবহিত করা হলেও কোনো কার্যকর সমাধান পাননি বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে অভিযোগের বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন জগজ ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মো. ইব্রাহীম হোসাইন। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না। আমি প্রশাসন ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত চাই। তদন্তে যদি আমি দোষী প্রমাণিত হই, তাহলে আইন অনুযায়ী যে কোনো শাস্তি মেনে নেব। আর অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে আমাকে যারা হয়রানি করছে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”

শিক্ষার্থীর মাকে গালিগালাজ করার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি একজন শিক্ষক। কোনো শিক্ষার্থীর অভিভাবকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করার প্রশ্নই আসে না।”

মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আবুল কালাম পিকুল মোল্লা বলেন, “সুপারের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগের কথা শুনেছি। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে, যেন কোনো নির্দোষ ব্যক্তির সুনাম ক্ষুণ্ন না হয়।”

এ বিষয়ে সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন জানান, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিষয়টি তদন্তের জন্য অবহিত করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও সচেতন মহল দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।