মাঝারদিয়া ইউনিয়নে স্বেচ্ছায় অস্ত্র সমর্পণ; প্রশাসনের ব্যতিক্রমী উদ্যোগে সামাজিক সম্প্রীতির নতুন বার্তা
সালথায় দেশীয় অস্ত্র জমাদানকারীদের ফুলেল সংবর্ধনা, রক্তপাতের পথ ছেড়ে শান্তির পথে জনগণ
- আপডেট সময় : ১১:০৫:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬ ৭৫ বার পড়া হয়েছে

ফরিদপুর | ১০ জুন ২০২৬ : ফরিদপুরের সালথা উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নে দীর্ঘদিনের সংঘাত, সহিংসতা ও রক্তপাতের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে শান্তি, সম্প্রীতি এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন স্থানীয় জনগণ।

স্বেচ্ছায় দেশীয় অস্ত্র জমাদান এবং সেই উদ্যোগকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছার মাধ্যমে স্বাগত জানানোর ঘটনায় এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে ইতিবাচক ও মানবিক বার্তা।
বুধবার (১০ জুন) বিকেলে মাঝারদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে আয়োজিত এক ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠানে ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দারা তাদের কাছে থাকা দেশীয় অস্ত্র স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করেন। দীর্ঘদিনের বিরোধ, প্রতিহিংসা ও সংঘাত ভুলে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল অস্ত্র জমাদানকারীদের প্রতি প্রশাসনের ফুলেল সংবর্ধনা। শাস্তির ভয় প্রদর্শনের পরিবর্তে সম্মান, সামাজিক স্বীকৃতি এবং ইতিবাচক উৎসাহের মাধ্যমে মানুষকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল করে তোলার এ উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ফাতেমা ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন, সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা সার্কেল) মুহম্মদ আল ফাহাদসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাতেমা ইসলাম বলেন, “জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠন সম্ভব নয়। যারা স্বেচ্ছায় অস্ত্র জমা দিয়েছেন, তারা সমাজের জন্য একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।”
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল মনে করেন, শুধুমাত্র আইন প্রয়োগ নয়, বরং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সম্মান প্রদানের মাধ্যমে মানুষের আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। সালথার এই উদ্যোগ সেই বাস্তবতারই প্রতিফলন।
এলাকাবাসীর মতে, প্রশাসন ও জনগণের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এ ধরনের কর্মসূচি ভবিষ্যতে অপরাধপ্রবণতা কমাতে এবং সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দেশীয় অস্ত্র জমাদানের এই আয়োজন ইতোমধ্যে এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এবং একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনের অনুকরণীয় মডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে উপস্থিত সবাই শান্তি, সম্প্রীতি, সামাজিক ঐক্য এবং অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। সালথার এই মানবিক উদ্যোগ এখন ফরিদপুর জেলার পাশাপাশি দেশের অন্যান্য এলাকার জন্যও একটি ইতিবাচক অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।














