চুনতি রেঞ্জের অভিযানে উদ্ধার মুখপোড়া হনুমান ও ১২ কচ্ছপ; পুনর্বাসনের পর প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করা হবে
লোহাগাড়ায় বিলুপ্তপ্রায় মুখপোড়া হনুমান ও কচ্ছপ পাচারচেষ্টা: যুবকের এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড
- আপডেট সময় : ০৮:৫৭:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬ ৭৫ বার পড়া হয়েছে

লোহাগাড়া, চট্টগ্রাম | ১০ জুন ২০২৬ : চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় বিলুপ্তপ্রায় বন্যপ্রাণী পাচারের অভিযোগে আটক এক যুবককে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া একটি বিরল প্রজাতির মুখপোড়া হনুমান ও ১২টি কচ্ছপকে প্রয়োজনীয় পরিচর্যা শেষে প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে বন বিভাগ।
মঙ্গলবার (৯ জুন) কক্সবাজারের চকরিয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. ফরহান সাদিক এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত মো. হাদিস রহমান ঢাকার মিরপুর-১১ এলাকার বাসিন্দা সুলতান মিয়ার ছেলে।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সোমবার (৮ জুন) বিকেলে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, চট্টগ্রামের চুনতি রেঞ্জের একটি বিশেষ অভিযানে চকরিয়া পৌরসভার ভাঙ্গারমুখ এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় পাচারের প্রস্তুতিকালে একটি বিলুপ্তপ্রায় মুখপোড়া হনুমান ও ১২টি কচ্ছপ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে হাদিস রহমানকে আটক করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে বন বিভাগ জানতে পারে, উদ্ধার হওয়া বন্যপ্রাণীগুলো অবৈধভাবে সংগ্রহ করে পাচারের উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছিল। পরে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।
চুনতি অভয়ারণ্য রেঞ্জের বনরেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আনিসুজ্জামান শেখ বলেন, “মুখপোড়া হনুমান বাংলাদেশের অত্যন্ত বিরল ও বিপন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণী। বন ও জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্য রক্ষায় এ প্রাণীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এ ধরনের প্রাণী পাচার পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি।”
তিনি আরও জানান, উদ্ধার হওয়া মুখপোড়া হনুমান ও কচ্ছপ বর্তমানে বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে নিরাপদে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, পর্যবেক্ষণ ও পুনর্বাসন শেষে ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের মাধ্যমে উপযুক্ত প্রাকৃতিক আবাসস্থলে অবমুক্ত করা হবে।
বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা নূরজাহান বেগম বলেন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। কোথাও বন্যপ্রাণী শিকার, অবৈধভাবে আটক বা পাচারের ঘটনা নজরে এলে দ্রুত বন বিভাগ অথবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করার জন্য তিনি সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, “বন্যপ্রাণী পাচার রোধে বন বিভাগের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”














