চকরিয়ার ভাঙ্গারমুখ এলাকায় বিশেষ অভিযান; বন্যপ্রাণী পাচারচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে বন বিভাগ
চকরিয়ায় বন বিভাগের অভিযানে বিলুপ্তপ্রায় মুখপোড়া হনুমান ও ১২ কচ্ছপ উদ্ধার, পাচারচক্রের সদস্য আটক
- আপডেট সময় : ০৯:১৪:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬ ৮২ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রাম | ৯ জুন ২০২৬ : চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বনাঞ্চল থেকে বন্যপ্রাণী সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচারের সঙ্গে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্যকে আটক করেছে বন বিভাগ। অভিযানে একটি বিলুপ্তপ্রায় মুখপোড়া হনুমান ও ১২টি কচ্ছপ উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় বন্যপ্রাণী পাচারের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
সোমবার (৮ জুন) বিকেল ৫টার দিকে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, চট্টগ্রামের চুনতি বন্যপ্রাণী ও অভয়ারণ্য রেঞ্জের উদ্যোগে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ভাঙ্গারমুখ বাজার এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। চুনতি রেঞ্জ কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান শেখের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে একটি বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় একটি মুখপোড়া হনুমান এবং ১২টি কচ্ছপ।
আটক ব্যক্তি মো. হাদিস রহমান (৪০)। তিনি ঢাকা জেলার মিরপুর-১১ এলাকার বাসিন্দা এবং সুলতান মিয়ার ছেলে।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি শক্তিশালী পাচারচক্র চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন বনাঞ্চল থেকে বিরল ও বিপন্ন বন্যপ্রাণী সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাচার করে আসছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, চকরিয়ার একটি বাড়িতে পাচারের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন বন্যপ্রাণী মজুদ রাখা হয়েছে। পরে তথ্যের সত্যতা যাচাই করে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানকালে উদ্ধার হওয়া মুখপোড়া হনুমানটি বাংলাদেশে ক্রমশ সংকটাপন্ন হয়ে পড়া একটি বিরল প্রজাতির বন্যপ্রাণী। এছাড়া উদ্ধার হওয়া কচ্ছপগুলোও সংরক্ষিত বন্যপ্রাণীর আওতাভুক্ত। বন বিভাগ জানিয়েছে, এসব প্রাণী অবৈধভাবে সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি ও পাচারের প্রস্তুতি চলছিল।
চুনতি বন্যপ্রাণী ও অভয়ারণ্য রেঞ্জ কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান শেখ জানান, উদ্ধার হওয়া প্রাণীগুলোকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের পর উপযুক্ত আবাসস্থলে অবমুক্ত করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইসঙ্গে আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, চট্টগ্রামের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবু নাছের মোহাম্মদ ইয়াসিন নেওয়াজ বলেন, বাংলাদেশে বন্যপ্রাণী শিকার, হত্যা, আটক, ক্রয়-বিক্রয় এবং পাচার আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। অপরাধের ধরন ও সংশ্লিষ্ট প্রাণীর গুরুত্ব অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১২ বছর কারাদণ্ড এবং ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বনাঞ্চলকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ বন্যপ্রাণী পাচারচক্র সক্রিয় রয়েছে। এসব অপরাধ দমনে বন বিভাগের গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
পরিবেশবিদরা বলছেন, জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বন্যপ্রাণী পাচার রোধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধিও জরুরি। বন বিভাগের এ ধরনের অভিযান বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।














