বৈধ ইজারাপ্রাপ্ত মৎস্যজীবীদের মাছ আহরণে বাধা, কলমুগাড়া খালে অবৈধ বাঁধ নির্মাণে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিল ভাতিয়া দখলের অভিযোগ: মৎস্যজীবীদের ওপর হামলা, অবৈধ বাঁধে ঝুঁকিতে ২ হাজার একর ফসলি জমি
- আপডেট সময় : ০৭:৪৩:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬ ৪৪ বার পড়া হয়েছে

চাঁপাইনবাবগঞ্জ | ০৬ জুন ২০২৬ : চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিল হিসেবে পরিচিত বিল ভাতিয়া জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। হামলা, ভয়ভীতি ও মামলা দিয়ে বৈধ ইজারাপ্রাপ্ত মৎস্যজীবীদের মাছ আহরণে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগীরা।
শনিবার (০৬ জুন) সকাল ১১টায় শিবগঞ্জ উপজেলার কর্নখালী ব্রিজ চত্বরে দুর্গাপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় মৎস্যজীবী, কৃষক, জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা জানান, সরকারি বিধি মোতাবেক বিল ভাতিয়ার ইজারা পেয়েছে দুর্গাপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি। কিন্তু একটি অসাধু চক্র হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে সমিতির সদস্যদের বঞ্চিত করে বিলটি দখল করে নিয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে বিলে চাষ করা মাছ আহরণ করতে পারছেন না প্রকৃত মৎস্যজীবীরা।
এতে তারা ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, দখলদাররা কলমুগাড়া এলাকায় খালের ওপর অবৈধ বাঁধ নির্মাণ করেছে। এর ফলে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং প্রায় ২ হাজার একর ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে কয়েক হাজার কৃষক ও মৎস্যজীবী চরম উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, জামবাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাসিম মেম্বার এবং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য আব্দুল কালামের নেতৃত্বে এই দখল ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। তারা বলেন, যুগ যুগ ধরে স্থানীয় জেলে সম্প্রদায় বিল ভাতিয়া থেকে মাছ আহরণ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। কিন্তু বর্তমানে দখলদারদের কারণে সেই জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, অস্ত্র নিয়ে জেলেদের ওপর হামলা, মারধর এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি অব্যাহত রয়েছে। ফলে মৎস্যজীবীরা চরম আতঙ্কের মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন দুর্গাপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি আমিনুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম কালু, সদস্য জিন্নুর আলী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিক আলী, দাইপুকুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আকতারুল ইসলাম এবং সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল মালেকসহ অন্যান্যরা।
বক্তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং খালের অবৈধ বাঁধ অপসারণের দাবি জানান।














