ট্রাইব্রেকারে বেতাল ছুবেজ্জামান একাদশকে হারিয়ে শিরোপা জয়, আচমিতা জর্জ ইনস্টিটিউট মাঠকে স্টেডিয়ামে রূপান্তরের ঘোষণা প্রতিমন্ত্রীর
কটিয়াদীতে গোল্ডকাপ ফুটবলের মেগা ফাইনাল: প্রতিমন্ত্রী ও এমপির উপস্থিতিতে লক্ষাধিক দর্শকের ঢল, চ্যাম্পিয়ন বোয়ালিয়া ফুটবল একাডেমি
- আপডেট সময় : ০৯:০৮:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬ ৬৪ বার পড়া হয়েছে

কটিয়াদী, কিশোরগঞ্জ | ৬ জুন ২০২৬ : কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় ঐতিহ্যবাহী গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচকে ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে অভূতপূর্ব ফুটবল উন্মাদনা। উপজেলার আচমিতা জর্জ ইনস্টিটিউট মাঠে অনুষ্ঠিত ৩৩তম লক্ষ টাকা প্রাইজমানি গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের জমকালো ফাইনাল খেলায় অংশ নেয় বোয়ালিয়া ফুটবল একাডেমি ও বেতাল ছুবেজ্জামান একাদশ।
গতকাল শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে অনুষ্ঠিত এই মেগা ফাইনাল উপভোগ করতে মাঠে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মো. শরিফুল আলম এবং কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য মো. জালাল উদ্দিন।
ফাইনাল ম্যাচকে কেন্দ্র করে কটিয়াদীসহ আশপাশের বিভিন্ন উপজেলায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
নরসিংদী, গাজীপুর, ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আগত দর্শকদের উপস্থিতিতে দুপুরের পর থেকেই আচমিতা জর্জ ইনস্টিটিউট মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। আয়োজকদের দাবি, প্রায় লক্ষাধিক দর্শকের সমাগম ঘটে মাঠ ও আশপাশের এলাকায়। স্থান সংকুলান না হওয়ায় অনেক দর্শককে গাছের ডালে উঠে খেলা উপভোগ করতে দেখা যায়।
অষ্টঘরিয়া পাপ্পু ক্রীড়াচক্রের আয়োজনে মাসব্যাপী চলা এই টুর্নামেন্টে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শক্তিশালী দল অংশ নেয়। ফাইনাল ম্যাচে উভয় দলই বিদেশি ফুটবলার ও জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড়দের নিয়ে শক্তিশালী স্কোয়াড গঠন করে মাঠে নামে।
নির্ধারিত ৯০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি। ফলে ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হলে শিরোপা নির্ধারণে ট্রাইব্রেকারের আশ্রয় নেওয়া হয়। চরম উত্তেজনাপূর্ণ ট্রাইব্রেকারে বেতাল ছুবেজ্জামান একাদশকে ১-০ গোলে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে বোয়ালিয়া ফুটবল একাডেমি।
খেলা শেষে প্রধান অতিথি প্রতিমন্ত্রী মো. শরিফুল আলম এবং উদ্বোধক সংসদ সদস্য মো. জালাল উদ্দিন বিজয়ী দলের হাতে গোল্ডকাপ ট্রফি ও এক লাখ টাকার প্রাইজমানি তুলে দেন।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দর্শকদের সুবিধার্থে ঐতিহাসিক আচমিতা জর্জ ইনস্টিটিউট মাঠকে একটি আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ স্টেডিয়ামে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হবে। আগামী বছরের টুর্নামেন্টের আগেই এই উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়নের আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, খেলাধুলা যুবসমাজকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখার কার্যকর মাধ্যম। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ক্রীড়া চর্চা বিস্তারে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীরা মনে করছেন, কটিয়াদীর এই ঐতিহ্যবাহী গোল্ডকাপ টুর্নামেন্ট শুধু একটি ক্রীড়া আয়োজন নয়, বরং এটি এলাকার সামাজিক সম্প্রীতি, যুব উন্নয়ন এবং ফুটবল সংস্কৃতির অন্যতম প্রাণকেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।














