গাছ ও বাঁশবোঝাই ট্রাক থেকে ৩০০–৫০০ টাকা আদায়ের অভিযোগ, গোপন ক্যামেরায় উঠে এলো অনুসন্ধানী তথ্য
মদুনাঘাট–নোয়াপাড়ায় চাঁদাবাজির অভিযোগ: গোপন ক্যামেরায় টাকা আদায়ের দৃশ্য, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
- আপডেট সময় : ০৪:১৭:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬ ১৮১ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রাম | ২১ মে ২০২৬:
চট্টগ্রামের হাটহাজারী মডেল থানার অধীনস্থ মদুনাঘাট পুলিশ ফাঁড়ি এবং রাউজান থানাধীন নোয়াপাড়া পুলিশ ফাঁড়ি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজি চলছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় চালক, ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের তথ্য অনুযায়ী, গাছ ও বাঁশবোঝাই ট্রাক এবং পণ্যবাহী যানবাহন থেকে নিয়মিতভাবে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হচ্ছে।
‘সারাদেশ ৭১’ ইনভেস্টিগেশন টিমসহ একাধিক গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে এসব অভিযোগের বিভিন্ন তথ্য, ভিডিও ফুটেজ ও গোপন ক্যামেরার রেকর্ড সামনে এসেছে। অনুসন্ধানী টিমের দাবি, তাদের কাছে রয়েছে সরাসরি টাকা আদায়ের ভিডিও, চালকদের বক্তব্য এবং ঘটনাস্থলের ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণের প্রমাণ।
অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে রাউজান নোয়াপাড়া এলাকায় একটি বাঁশবোঝাই গাড়িতে ছদ্মবেশে অবস্থান নেন ‘সারাদেশ ৭১’-এর বিশেষ প্রতিনিধি রাজু আহমেদ। তিনি গাড়ির জিপে ড্রাইভারের পাশে বসে গোপন ক্যামেরা চালু রেখে পুরো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছিলেন।
এসময় অভিযোগ অনুযায়ী, নোয়াপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির আশপাশে সক্রিয় একটি চক্রের সদস্য গাড়িটি থামিয়ে চালকের কাছে টাকা দাবি করে। তবে একপর্যায়ে সাংবাদিক রাজু আহমেদের হাতে থাকা মাইক্রোফোন ও ক্যামেরা দেখতে পেয়ে সে তাৎক্ষণিকভাবে টাকা নেওয়া থেকে বিরত থাকে। পরে অভিযুক্ত ব্যক্তি ড্রাইভারকে উদ্দেশ্য করে বলে, “পরবর্তীতে কল দিব”—এই কথা বলে বাঁশবোঝাই গাড়িটি ছেড়ে দেয়।
অন্যদিকে হাটহাজারী মডেল থানাধীন মদুনাঘাট পুলিশ ফাঁড়ির অদূরে আরও একটি ঘটনা সামনে আসে। অনুসন্ধানী টিমের দাবি, সেখানে এক ব্যক্তিকে গাছবোঝাই গাড়ি থেকে টাকা নেওয়ার সময় হাতেনাতে আটক করা হয়। তার পরিচয় জানতে চাইলে তার নাম হাসান বলেন এই এলাকার বাসিন্দা বলে পরিচয় দেন৷ কার অনুমতিতে এই চাঁদা তুলতেছেন প্রশ্ন করলে তার এক বড় ভাই মহিন সহ আরও কয়েক জনের নাম বলেন। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মদুনাঘাট পুলিশ ফাঁড়িতে নেওয়া হয়।
ঘটনার সময় মদুনাঘাট পুলিশ ফাঁড়ির সিনিয়র ইনচার্জ (আইসি) কার্তিক মজুমদার ছুটিতে ছিলেন। ফলে ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে ছিলেন এসআই মোঃ মাকসুদ।
সাংবাদিকদের দাবি, অভিযুক্তকে ফাঁড়িতে নেওয়ার পর এসআই মাকসুদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি “দৈনন্দিন রুটিন কাজে বাইরে আছেন” এবং সবাইকে ফাঁড়িতে বসে অপেক্ষা করতে বলেন।
এসময় উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের অভিযোগ, মদুনাঘাট পুলিশ ফাঁড়িতে দায়িত্বে থাকা সদস্যদের কাছ থেকে তারা কার্যকর কোনো সহযোগিতা পাননি। এমনকি আটক ব্যক্তিকে পুলিশি নিয়ম অনুযায়ী হ্যান্ডকাফ পরানো হয়নি এবং তাকে লকআপেও নেওয়া হয়নি।
সাংবাদিকদের ভাষ্যমতে, অভিযুক্তকে দীর্ঘসময় সাধারণভাবে বসিয়ে রাখা হলেও তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দৃশ্যমান কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে পুরো ঘটনাকে ঘিরে দায়িত্ব পালনের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি হয়েছে।
ঘটনার পরদিন সন্ধ্যায় এসআই মোঃ মাকসুদ তার অধীনস্থ সদস্যদের নিয়ে একটি অভ্যন্তরীণ বৈঠক করেন বলে জানা গেছে। সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো বার্তায় দাবি করা হয়, ওই বৈঠকে সাম্প্রতিক ঘটনার বিষয়টি আলোচনা করা হয়েছে এবং সদস্যদের “কাউন্সেলিং” করা হয়েছে।
স্থানীয় চালক ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, নোয়াপাড়া ও মদুনাঘাট এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। বিশেষ করে গাছ, বাঁশ ও অন্যান্য মালবাহী ট্রাকগুলোকে টার্গেট করে নিয়মিত টাকা আদায় করা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।














