পুলিশের আগে মরদেহ নামানো, স্ত্রী-সন্তান আত্মগোপনে—তদন্তে নতুন প্রশ্ন
নবীগঞ্জে ৩ সন্তানের জনক দুলাল মিয়ার রহস্যজনক মৃত্যু: ঝুলন্ত মরদেহ, হত্যা নাকি আত্মহত্যা—ধূম্রজাল ঘনীভূত
- আপডেট সময় : ১০:৪৩:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬ ৩৬ বার পড়া হয়েছে

নবীগঞ্জ, হবিগঞ্জ | ২০ মে ২০২৬ : হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলা এলাকায় তিন সন্তানের জনক দুলাল মিয়া (৪০)-এর রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যা দাবি করা হলেও অভিযুক্তদের কাউকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, পুলিশ বলছে—ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নবীগঞ্জ উপজেলার ৬নং কুর্শী ইউনিয়ন এর এনাতাবাদ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত দুলাল মিয়ার স্ত্রী জানান, গত সোমবার তিনি এক আত্মীয়ের বাড়িতে সাহায্যের জন্য গেলে তা নিয়ে পারিবারিক কলহের সৃষ্টি হয়। এ সময় দুলাল মিয়া তাঁর ভাইয়ের স্ত্রী তসিবা বেগমের কাছে স্ত্রীর অবস্থান জানতে চাইলে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ উঠেছে, ওই ঘটনার জেরে রাতেই তসিবা বেগমের স্বামী ও সন্তানরা ঘুমন্ত অবস্থায় দুলাল মিয়াকে বেধড়ক মারধর করে। পরদিন মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে আত্মীয়স্বজনরা ডাকাডাকি করেন। একপর্যায়ে ভাতিজারা ঘরের পেছনের টিন কেটে ভেতরে প্রবেশ করে দুলাল মিয়াকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।
এদিকে, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই ঝুলন্ত অবস্থা থেকে মরদেহ নামিয়ে ফেলা হয়—যা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহতের স্ত্রী তসিবা বেগম অভিযোগ করে বলেন, “আমার স্বামীকে তাঁর ভাই ও ভাতিজারা পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ঝুলিয়ে রেখেছে। ঘটনার পর থেকে আমি সন্তানদের নিয়ে প্রাণভয়ে আত্মগোপনে আছি।”
তবে তিনি ঝগড়া বা মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।
দুলাল মিয়া এনাতাবাদ গ্রামের মৃত আব্দুর রহিমের পুত্র। তিনি পেশায় দিনমজুর ছিলেন এবং তিন সন্তানের জনক।
ঘটনার খবর পেয়ে নবীগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।
এ বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই এ.কে.এম মনজুরুল জানান, “মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পরেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।”
ঘটনাটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা—এ প্রশ্নের উত্তর এখন ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায়। এদিকে, অভিযুক্তদের অনুপস্থিতি ও মরদেহ নামিয়ে ফেলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ধূম্রজাল আরও ঘনীভূত হয়েছে।














