গ্রামীণ নারীর কৃষিতে অবদান ও স্থানীয় বীজ সংরক্ষণে নারীর দক্ষতা তুলে ধরা হয় অনুষ্ঠানে
মানিকগঞ্জে বিশ্ব গ্রামীণ নারী দিবস ২০২৫ উদযাপন: কৃষিতে নারীর অবদান ও বীজ সংরক্ষণে গুরুত্বারোপ
- আপডেট সময় : ১০:৪৪:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৫ ৬৩ বার পড়া হয়েছে

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার পুটাইল ইউনিয়নের মধ্য পুটাইল গ্রামে কৃষিপ্রতিবেশবিদ্যা শিক্ষন কেন্দ্রে বিশ্ব গ্রামীণ নারী দিবস ২০২৫ পালিত হয়েছে। মধ্য পুটাইল উদ্যোমী নারী সংগঠনের আয়োজনে এবং বেসরকারি গবেষণাধর্মী প্রতিষ্ঠান বারসিক (BARCIK) ও PANAP-এর সহযোগিতায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন শতাধিক নারী, যুব, কৃষক, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ইউপি সদস্য ও উন্নয়ন কর্মী।
দিবসটি উদযাপনের মাধ্যমে কৃষিতে গ্রামীণ নারীর অবদানকে দৃশ্যমান করা হয়। অনুষ্ঠানে ৬০ জন কৃষক ২৬০ প্রকার স্থানীয় বীজ নিয়ে প্রদর্শনী করেন। প্রদর্শনীতে ধান, সবজি ও মসলার স্থানীয় বীজ সংরক্ষণে ব্যবহৃত ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি যেমন মাটির কলস, হাড়ি, ঝাঁঝরি, পিতলের কলস, নকশিকাঁথা, লাঙ্গল, জোয়াল, কাস্তে ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ প্রদর্শন করা হয়।
বিশেষ আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন মধ্য পুটাইল উদ্যোমী নারী সংগঠনের সভাপতি রওশনআরা বেগম। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন কৃষিপ্রতিবেশবিদ্যা শিক্ষন কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক রহিমা বেগম, নারী সংগঠনের সদস্য মধুমালা, রিজিয়া বেগম, অধ্যাপক মনোয়ার হোসেন, প্রোগ্রাম অফিসার কমল চন্দ্র দত্ত, গাজী শাহাদত হোসেন বাদল, সুবীর কুমার সরকার এবং বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী বিমল চন্দ্র রায়। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন বারসিক কর্মী শিবানী চক্রবর্তী।
রওশনআরা বেগম বলেন, “প্রাচীনকাল থেকে নারীরাই বীজ সংরক্ষণের কাজ করে আসছে। জমিতে যেই ফসল ভালো হয়, সেটিই প্রথমে বীজ হিসেবে বেছে নিয়ে আলাদা করে শুকানো হয় এবং বিভিন্ন মাটির পাত্রে সংরক্ষণ করা হয়। বীজ সংরক্ষণের সময় তারা নিমপাতা, ছাই, তামাকপাতা ব্যবহার করে প্রাকৃতিকভাবে পোকামাকড় প্রতিরোধ করে।”
তিনি আরও বলেন, “বাজারের কেনা বীজে কোনো গ্যারান্টি নেই, কিন্তু ঘরের সংরক্ষিত বীজের মান ও উৎপাদন সম্পর্কে আমরা নিশ্চিত থাকতে পারি।”

রহিমা বেগম বলেন, “বীজ সংরক্ষণে নারীরাই সবচেয়ে অভিজ্ঞ, কারণ তারা সারাদিন ঘরে থাকেন এবং নিয়মিত বীজ শুকানো, ঝাড়াই-বাছাই ও সংরক্ষণের কাজটি সতর্কভাবে করেন।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অংশগ্রহণকারীরা বিষমুক্ত জৈব কৃষি চর্চা, স্থানীয় বীজ সংরক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন এবং নারী কৃষকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা বাড়ানোর জন্য সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের আহ্বান জানান।














