পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে হামলা, বসতঘর ভাঙচুর ও প্রায় ১৪ লাখ টাকার মালামাল লুটের অভিযোগ
সোনারগাঁয়ে সংঘবদ্ধ হামলা: গর্ভবতী নারীসহ একই পরিবারের ৪ জন আহত, নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুটের অভিযোগ
- আপডেট সময় : ১০:৫৯:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬ ১০৪ বার পড়া হয়েছে

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় পূর্ব বিরোধ ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে ৯ মাসের গর্ভবতী নারীসহ একই পরিবারের অন্তত চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। হামলার সময় বসতঘর ভাঙচুর, মারধর এবং নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার সোনারগাঁ থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৫ এপ্রিল রবিবার আনুমানিক রাত ১০টার দিকে উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের বাছাব এলাকায় আলাউদ্দিন (৬৫)-এর নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে ভুক্তভোগীদের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীদের হাতে ধারালো রামদা, ছুরি, ছেনা, চাকু, লোহার রড, এসএস পাইপ ও লাঠিসোঁটা ছিল। তারা পরিকল্পিতভাবে একত্রিত হয়ে বাড়িতে প্রবেশ করে এবং বসতবাড়ির অন্তত পাঁচটি ঘর ভাঙচুর করে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করে।
হামলার সময় বাড়ির কর্তা এমদাদুল হক প্রতিবাদ করলে হামলাকারীরা তাকে লক্ষ্য করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় কুপিয়ে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। তার চিৎকারে পরিবারের অন্য সদস্যরা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে।
এ সময় এমদাদুল হকের ভাই ওবায়দুল হক (৩০)-কে ধারালো রামদা দিয়ে মাথা ও পিঠে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। অপর ভাই ইলিয়াছ ভূঁইয়া (৩২)-কে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে আঘাত করা হলে তিনি হাত দিয়ে ঠেকাতে গেলে তার হাতের আঙুল ও পায়ে গভীর জখম হয়। এছাড়া হামলাকারীরা এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাঠিপেটা করে তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে।
সবচেয়ে নৃশংসতার শিকার হন গর্ভবতী মাহমুদা আক্তার (২৯)। তিনি অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা তার পরিহিত কাপড় টানাহেঁচড়া করে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে এবং তাকে বুকে, পিঠে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধর করে। একপর্যায়ে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, হামলাকারীরা বাড়ি থেকে নগদ প্রায় ৪ লাখ টাকা, চারটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন (আনুমানিক মূল্য ১ লাখ টাকা) এবং প্রায় ৪ ভরি স্বর্ণালঙ্কার (আনুমানিক মূল্য ১০ লাখ ২০ হাজার টাকা) লুট করে নিয়ে যায়। হামলার সময় বাড়ির আসবাবপত্রও ভাঙচুর করা হয়।
ঘটনার পর ভুক্তভোগীদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়। আহতদের মধ্যে ওবায়দুল হকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ করেছে, হামলাকারীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে এবং ঘটনাস্থল ত্যাগের সময় পুনরায় প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যায়। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে সোনারগাঁও থানা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।














