দুই দিনের টানা অনুসন্ধানের পর দৌলতখানে উদ্ধার, নিরাপত্তা জোরদারের দাবি স্থানীয়দের
মেঘনায় নৌ দুর্ঘটনা: নিখোঁজের ২ দিন পর ভেসে উঠল পুলিশ সদস্য ফখরুল ইসলামের মরদেহ
- আপডেট সময় : ০৭:৫২:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬ ১৫৬ বার পড়া হয়েছে

ভোলা
ভোলার লালমোহন উপজেলায় মেঘনা নদীতে মর্মান্তিক নৌ দুর্ঘটনায় নিখোঁজ হওয়া পুলিশ সদস্য ফখরুল ইসলামের মরদেহ দুই দিন পর উদ্ধার হয়েছে।
শুক্রবার (২০ মার্চ) সন্ধ্যার কিছু সময় আগে দৌলতখান উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের বটতলা সংলগ্ন এলাকায় নদীতে ভাসমান অবস্থায় স্থানীয়রা মরদেহটি দেখতে পান। পরে পুলিশে খবর দিলে তা উদ্ধার করা হয়।
জানা যায়, গত বুধবার সন্ধ্যায় ইলিশ শিকারের দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে মৎস্য অধিদপ্তরের অভিযানে অংশ নিতে গিয়ে লালমোহনের মঙ্গল শিকদার এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে দুর্ঘটনার শিকার হন কনস্টেবল ফখরুল ইসলাম। তিনি একটি স্পিডবোটে অবস্থান করছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রবল স্রোতের কারণে একটি লঞ্চের সঙ্গে স্পিডবোটটির সংঘর্ষ হলে সেটি উল্টে যায় এবং ফখরুল নদীতে পড়ে গিয়ে নিখোঁজ হন।
ঘটনার পরপরই তাকে উদ্ধারে নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড এবং ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল যৌথ অভিযান শুরু করে।
টানা দুই দিন ব্যাপক তল্লাশি চালিয়েও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ সময় নিখোঁজের স্বজনরা মেঘনা নদীর তীরে অবস্থান নিয়ে প্রিয়জনের অপেক্ষায় ছিলেন। তাদের কান্না ও আহাজারিতে পুরো এলাকা ভারী হয়ে ওঠে।
নিখোঁজ অবস্থায় পরিবারের সদস্যরা শেষ পর্যন্ত আশাবাদী ছিলেন। তারা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছিলেন যেন ফখরুল ইসলাম জীবিত ফিরে আসেন। কিন্তু সেই আশার অবসান ঘটে তার মরদেহ উদ্ধারের মধ্য দিয়ে।
দৌলতখান থানা পুলিশ জানায়, মরদেহ শনাক্তের প্রাথমিক প্রক্রিয়া শেষে এটি নিখোঁজ পুলিশ সদস্য ফখরুল ইসলামের মরদেহ বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
উদ্ধার কাজে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মেঘনা নদীর প্রবল স্রোত ও গভীরতার কারণে অভিযান পরিচালনায় যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছে। তবুও সম্ভাব্য সব স্থানে অনুসন্ধান চালিয়ে অবশেষে মরদেহটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন জেলা পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওসার, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন এবং দৌলতখান উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
পুলিশ সুপার সাংবাদিকদের জানান, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত। আমরা শুরু থেকেই উদ্ধার অভিযান সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পরিচালনা করেছি।”
এদিকে এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতের পরিবার, সহকর্মী ও স্থানীয়দের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে নৌপথে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও স্বজনরা।














