দাম কমায় লোকসানে পেঁয়াজ বিক্রি করছেন সালথার কৃষকরা
- আপডেট সময় : ০৫:৫৭:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬ ৩৯ বার পড়া হয়েছে

মোঃ ইলিয়াছ খান |
সালথা উপজেলা প্রতিনিধি, ফরিদপুরঃ
পেঁয়াজের রাজধানী হিসেবে পরিচিত ফরিদপুরের সালথা উপজেলার পেঁয়াজ চাষিরা চলতি মৌসুমে বড় ধরনের সংকটে পড়েছেন। মৌসুমের শুরুতে ভালো দামের আশায় পেঁয়াজ চাষ করলেও রমজান মাসের মধ্যেই হঠাৎ করে বাজারে দাম কমে যাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।
শুক্রবার (৬ মার্চ) সরেজমিনে সালথা উপজেলার বালিয়া বাজারের পেঁয়াজ হাট ঘুরে দেখা যায়, বাজারে ক্রেতার তুলনায় বিক্রেতার সংখ্যা বেশি। ফলে অনেক কৃষক নগদ টাকার প্রয়োজন মেটাতে বাধ্য হয়ে কম দামে অপরিপক্ক পেঁয়াজ বিক্রি করছেন এবং হতাশ মনে বাড়ি ফিরছেন।
বর্তমানে প্রতি মণ পেঁয়াজ ৯৫০ থেকে ১১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা উৎপাদন খরচের তুলনায় অনেক কম। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সালথা উপজেলায় প্রায় ১২ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে।
কৃষকদের দাবি, সার, বীজ, কীটনাশক, শ্রমিক মজুরি এবং পরিবহন খরচ মিলিয়ে প্রতি মণ পেঁয়াজ উৎপাদনে খরচ পড়েছে প্রায় ১৪০০ থেকে ১৫০০ টাকা। ফলে বাজারে বিক্রি করতে গিয়ে প্রতি মণে প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হচ্ছে চাষিদের।
বালিয়া গট্টি গ্রামের এক কৃষক জানান, তিনি ৫ থেকে ৬ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। প্রতি মণে তার খরচ পড়েছে প্রায় ১২ থেকে ১৩ শত টাকা। তিনি বলেন, যাদের ফলন ভালো হয়েছে তাদের খরচ কিছুটা কম পড়েছে, কিন্তু যাদের ফলন কম হয়েছে তাদের খরচ আরও বেশি হয়েছে।
বালিয়া বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি করতে আসা কৃষক শফিকুল ইসলাম বলেন, সার, কীটনাশক ও অন্যান্য কৃষি উপকরণের দাম বেশি হওয়ায় প্রতি মণ পেঁয়াজ উৎপাদনে প্রায় ১৪০০ থেকে ১৫০০ টাকা খরচ পড়েছে। অথচ বর্তমানে তিনি ৯৫০ থেকে ১১০০ টাকায় পেঁয়াজ বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।
সালথা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে নিয়মিত সাপ্তাহিক পেঁয়াজের হাট বসে। এর মধ্যে শনিবার ও বুধবার ঠেনঠেনিয়া ও সালথা সদর হাট, বৃহস্পতিবার ও রবিবার অন্য হাট এবং শুক্রবার ও সোমবার বালিয়া গট্টি, কাকদী জয়কাইল, মোন্তার মোড়, মাঝারদিয়া, বাউশখালী ও যদুনন্দী এলাকায় বড় বড় পেঁয়াজের হাট বসে। এসব হাটে ফরিদপুরসহ আশপাশের জেলা ও বিভাগীয় শহর থেকে পাইকাররা ট্রাকভর্তি পেঁয়াজ কিনে নিয়ে যান।
তবুও স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, তাদের ঘাম ঝরানো ফসল লোকসান দিয়েই বিক্রি করতে হচ্ছে।
পেঁয়াজ চাষিদের দাবি, ধান ও গমের মতো পেঁয়াজেরও সরকারিভাবে ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি প্রতিটি ইউনিয়নে হিমাগার বা কোল্ডস্টোরেজ নির্মাণ করা হলে কৃষকরা পেঁয়াজ সংরক্ষণ করে ভালো দামে বিক্রি করতে পারবেন।
এ বিষয়ে সালথা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সুদর্শন শিকদার বলেন, পেঁয়াজের দাম মূলত বাজারের চাহিদার ওপর নির্ভর করে। সাধারণত মৌসুমের শুরুতে দাম ভালো থাকে, তবে এ বছর এর ব্যতিক্রম দেখা যাচ্ছে। বর্তমানে বাজারে চাহিদা কম থাকায় দাম কমে গেছে। তবে কৃষকদের তিনি কিছুদিন পেঁয়াজ সংরক্ষণ করে রাখার পরামর্শ দেন, যাতে পরবর্তীতে বাজারে চাহিদা বাড়লে ভালো দাম পাওয়া যায়।





















