চট্টগ্রাম ১২:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিঃ
বর্তমান সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় আধুনিক সকল ফিচার যুক্ত  জাতীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং মাল্টিমিডিয়া দৈনিক সারাদেশ ৭১  নিউজ পোর্টালে আপনাকে স্বাগতম। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিবন্ধনের আবেদনের  জন্য অপেক্ষমান দেশের অন্যতম প্রথম সারির অনলাইন পোর্টাল ও মাল্টিমিডিয়ার জন্য সংবাদদাতা আবশ্যক, বিশেষ সংবাদদাতা (৪),  ক্রাইম রিপোর্টার (৫), স্টাফ রিপোর্টার (১০), বিভাগীয় ব্যুরো (৩) উপজেলা প্রতিনিধি (১০), বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি (৪),  মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার (সকল জেলা ও উপজেলার জন্য) (১০) ইউনিয়ন প্রতিনিধি (৫)  আবেদনের জন্য সিভি, জাতীয় পরিচয় পত্র, আবেদন পাঠাবেন saradesh71@gmail.com এই মেইলে।
সংবাদ শিরোনামঃ
নান্দাইলে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য আনন্দ র‌্যালি নেত্রকোণায় জমি বিরোধে হামলা-হুমকি, নষ্ট করা হলো আমনের চারা শিবচরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি, উঠল ঐক্যের ডাক বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে কটিয়াদীতে দুই দফায় র‌্যালি-সমাবেশ কুসরকের নতুন কমিটি প্রকাশ, নেতৃত্বে নাহিদ-জাকারিয়া ওষুধে মেয়াদ শেষ, খাবার তৈরিতে অনিয়ম; খুলনায় বড় অঙ্কের জরিমানা নাগেশ্বরীতে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে শিক্ষক গ্রেপ্তার নানা আয়োজনে হরিরামপুরে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন ৭ হাজার একর জমিতে আখ রোপণের লক্ষ্যে ঠাকুরগাঁওয়ে কার্যক্রম শুরু বেনাপোল সীমান্তে ভারতীয় শাড়ি-কসমেটিক্সসহ ৫ লাখ ৮১ হাজার টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ

দাম কমায় লোকসানে পেঁয়াজ বিক্রি করছেন সালথার কৃষকরা

মোঃ ইলিয়াছ খান
  • আপডেট সময় : ০৫:৫৭:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬ ৩৭ বার পড়া হয়েছে
সারাদেশ ৭১ নিউজ – নির্ভরযোগ্য অনলাইন সংবাদ মাধ্যম গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মোঃ ইলিয়াছ খান |
সালথা উপজেলা প্রতিনিধি, ফরিদপুরঃ

পেঁয়াজের রাজধানী হিসেবে পরিচিত ফরিদপুরের সালথা উপজেলার পেঁয়াজ চাষিরা চলতি মৌসুমে বড় ধরনের সংকটে পড়েছেন। মৌসুমের শুরুতে ভালো দামের আশায় পেঁয়াজ চাষ করলেও রমজান মাসের মধ্যেই হঠাৎ করে বাজারে দাম কমে যাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।

শুক্রবার (৬ মার্চ) সরেজমিনে সালথা উপজেলার বালিয়া বাজারের পেঁয়াজ হাট ঘুরে দেখা যায়, বাজারে ক্রেতার তুলনায় বিক্রেতার সংখ্যা বেশি। ফলে অনেক কৃষক নগদ টাকার প্রয়োজন মেটাতে বাধ্য হয়ে কম দামে অপরিপক্ক পেঁয়াজ বিক্রি করছেন এবং হতাশ মনে বাড়ি ফিরছেন।

বর্তমানে প্রতি মণ পেঁয়াজ ৯৫০ থেকে ১১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা উৎপাদন খরচের তুলনায় অনেক কম। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সালথা উপজেলায় প্রায় ১২ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে।

কৃষকদের দাবি, সার, বীজ, কীটনাশক, শ্রমিক মজুরি এবং পরিবহন খরচ মিলিয়ে প্রতি মণ পেঁয়াজ উৎপাদনে খরচ পড়েছে প্রায় ১৪০০ থেকে ১৫০০ টাকা। ফলে বাজারে বিক্রি করতে গিয়ে প্রতি মণে প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হচ্ছে চাষিদের।

বালিয়া গট্টি গ্রামের এক কৃষক জানান, তিনি ৫ থেকে ৬ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। প্রতি মণে তার খরচ পড়েছে প্রায় ১২ থেকে ১৩ শত টাকা। তিনি বলেন, যাদের ফলন ভালো হয়েছে তাদের খরচ কিছুটা কম পড়েছে, কিন্তু যাদের ফলন কম হয়েছে তাদের খরচ আরও বেশি হয়েছে।
বালিয়া বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি করতে আসা কৃষক শফিকুল ইসলাম বলেন, সার, কীটনাশক ও অন্যান্য কৃষি উপকরণের দাম বেশি হওয়ায় প্রতি মণ পেঁয়াজ উৎপাদনে প্রায় ১৪০০ থেকে ১৫০০ টাকা খরচ পড়েছে। অথচ বর্তমানে তিনি ৯৫০ থেকে ১১০০ টাকায় পেঁয়াজ বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

সালথা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে নিয়মিত সাপ্তাহিক পেঁয়াজের হাট বসে। এর মধ্যে শনিবার ও বুধবার ঠেনঠেনিয়া ও সালথা সদর হাট, বৃহস্পতিবার ও রবিবার অন্য হাট এবং শুক্রবার ও সোমবার বালিয়া গট্টি, কাকদী জয়কাইল, মোন্তার মোড়, মাঝারদিয়া, বাউশখালী ও যদুনন্দী এলাকায় বড় বড় পেঁয়াজের হাট বসে। এসব হাটে ফরিদপুরসহ আশপাশের জেলা ও বিভাগীয় শহর থেকে পাইকাররা ট্রাকভর্তি পেঁয়াজ কিনে নিয়ে যান।
তবুও স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, তাদের ঘাম ঝরানো ফসল লোকসান দিয়েই বিক্রি করতে হচ্ছে।

পেঁয়াজ চাষিদের দাবি, ধান ও গমের মতো পেঁয়াজেরও সরকারিভাবে ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি প্রতিটি ইউনিয়নে হিমাগার বা কোল্ডস্টোরেজ নির্মাণ করা হলে কৃষকরা পেঁয়াজ সংরক্ষণ করে ভালো দামে বিক্রি করতে পারবেন।

এ বিষয়ে সালথা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সুদর্শন শিকদার বলেন, পেঁয়াজের দাম মূলত বাজারের চাহিদার ওপর নির্ভর করে। সাধারণত মৌসুমের শুরুতে দাম ভালো থাকে, তবে এ বছর এর ব্যতিক্রম দেখা যাচ্ছে। বর্তমানে বাজারে চাহিদা কম থাকায় দাম কমে গেছে। তবে কৃষকদের তিনি কিছুদিন পেঁয়াজ সংরক্ষণ করে রাখার পরামর্শ দেন, যাতে পরবর্তীতে বাজারে চাহিদা বাড়লে ভালো দাম পাওয়া যায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

দাম কমায় লোকসানে পেঁয়াজ বিক্রি করছেন সালথার কৃষকরা

আপডেট সময় : ০৫:৫৭:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬

মোঃ ইলিয়াছ খান |
সালথা উপজেলা প্রতিনিধি, ফরিদপুরঃ

পেঁয়াজের রাজধানী হিসেবে পরিচিত ফরিদপুরের সালথা উপজেলার পেঁয়াজ চাষিরা চলতি মৌসুমে বড় ধরনের সংকটে পড়েছেন। মৌসুমের শুরুতে ভালো দামের আশায় পেঁয়াজ চাষ করলেও রমজান মাসের মধ্যেই হঠাৎ করে বাজারে দাম কমে যাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।

শুক্রবার (৬ মার্চ) সরেজমিনে সালথা উপজেলার বালিয়া বাজারের পেঁয়াজ হাট ঘুরে দেখা যায়, বাজারে ক্রেতার তুলনায় বিক্রেতার সংখ্যা বেশি। ফলে অনেক কৃষক নগদ টাকার প্রয়োজন মেটাতে বাধ্য হয়ে কম দামে অপরিপক্ক পেঁয়াজ বিক্রি করছেন এবং হতাশ মনে বাড়ি ফিরছেন।

বর্তমানে প্রতি মণ পেঁয়াজ ৯৫০ থেকে ১১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা উৎপাদন খরচের তুলনায় অনেক কম। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সালথা উপজেলায় প্রায় ১২ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে।

কৃষকদের দাবি, সার, বীজ, কীটনাশক, শ্রমিক মজুরি এবং পরিবহন খরচ মিলিয়ে প্রতি মণ পেঁয়াজ উৎপাদনে খরচ পড়েছে প্রায় ১৪০০ থেকে ১৫০০ টাকা। ফলে বাজারে বিক্রি করতে গিয়ে প্রতি মণে প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হচ্ছে চাষিদের।

বালিয়া গট্টি গ্রামের এক কৃষক জানান, তিনি ৫ থেকে ৬ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। প্রতি মণে তার খরচ পড়েছে প্রায় ১২ থেকে ১৩ শত টাকা। তিনি বলেন, যাদের ফলন ভালো হয়েছে তাদের খরচ কিছুটা কম পড়েছে, কিন্তু যাদের ফলন কম হয়েছে তাদের খরচ আরও বেশি হয়েছে।
বালিয়া বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি করতে আসা কৃষক শফিকুল ইসলাম বলেন, সার, কীটনাশক ও অন্যান্য কৃষি উপকরণের দাম বেশি হওয়ায় প্রতি মণ পেঁয়াজ উৎপাদনে প্রায় ১৪০০ থেকে ১৫০০ টাকা খরচ পড়েছে। অথচ বর্তমানে তিনি ৯৫০ থেকে ১১০০ টাকায় পেঁয়াজ বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

সালথা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে নিয়মিত সাপ্তাহিক পেঁয়াজের হাট বসে। এর মধ্যে শনিবার ও বুধবার ঠেনঠেনিয়া ও সালথা সদর হাট, বৃহস্পতিবার ও রবিবার অন্য হাট এবং শুক্রবার ও সোমবার বালিয়া গট্টি, কাকদী জয়কাইল, মোন্তার মোড়, মাঝারদিয়া, বাউশখালী ও যদুনন্দী এলাকায় বড় বড় পেঁয়াজের হাট বসে। এসব হাটে ফরিদপুরসহ আশপাশের জেলা ও বিভাগীয় শহর থেকে পাইকাররা ট্রাকভর্তি পেঁয়াজ কিনে নিয়ে যান।
তবুও স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, তাদের ঘাম ঝরানো ফসল লোকসান দিয়েই বিক্রি করতে হচ্ছে।

পেঁয়াজ চাষিদের দাবি, ধান ও গমের মতো পেঁয়াজেরও সরকারিভাবে ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি প্রতিটি ইউনিয়নে হিমাগার বা কোল্ডস্টোরেজ নির্মাণ করা হলে কৃষকরা পেঁয়াজ সংরক্ষণ করে ভালো দামে বিক্রি করতে পারবেন।

এ বিষয়ে সালথা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সুদর্শন শিকদার বলেন, পেঁয়াজের দাম মূলত বাজারের চাহিদার ওপর নির্ভর করে। সাধারণত মৌসুমের শুরুতে দাম ভালো থাকে, তবে এ বছর এর ব্যতিক্রম দেখা যাচ্ছে। বর্তমানে বাজারে চাহিদা কম থাকায় দাম কমে গেছে। তবে কৃষকদের তিনি কিছুদিন পেঁয়াজ সংরক্ষণ করে রাখার পরামর্শ দেন, যাতে পরবর্তীতে বাজারে চাহিদা বাড়লে ভালো দাম পাওয়া যায়।