১৬ নম্বর ওয়ার্ডের কয়েরদাড়া এলাকায় দীর্ঘদিনের উত্যক্তের পর গভীর রাতে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বাড়ির ছবি তোলা
রাজশাহীর কয়েরদাড়ায় বখাটেদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ তরুণী, গভীর রাতে বাড়ির ছবি তুলে আতঙ্ক
- আপডেট সময় : ০৪:০৩:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬ ৪৪ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহী নগরীর ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের কয়েরদাড়া খ্রিস্টানপাড়া এলাকায় এক তরুণী দীর্ঘদিন ধরে বখাটেদের উত্যক্ত ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সর্বশেষ গভীর রাতে অজ্ঞাত দুই ব্যক্তি এসে তার বাড়ির ছবি তুলে নেওয়ার ঘটনায় তিনি ও তাঁর পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
ভুক্তভোগী তরুণীর দাবি, গত আগস্ট মাস থেকে এলাকার কিছু যুবক বিভিন্নভাবে তাকে বিরক্ত করে আসছে। সেপ্টেম্বর মাসে কয়েকজন যুবক তাদের বাড়িতে ইট ছুড়ে মারে। এরপর অক্টোবর থেকে এক যুবক নিয়মিত কখনও বিকেল, কখনও সন্ধ্যা কিংবা রাতে তার নাম ধরে চিৎকার ও অশ্লীল মন্তব্য করতে থাকে।
তরুণী জানান, বাড়ির পেছনের রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় কয়েকজন যুবক তার নাম উল্লেখ করে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছে। এছাড়া একাধিকবার অচেনা কণ্ঠে “আই লাভ ইউ”সহ বিভিন্ন অশ্লীল ভাষায় ডাকা হয়েছে। কয়েকটি কণ্ঠ চিনতে পারলেও সরাসরি কাউকে শনাক্ত করতে পারেননি তিনি।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটে ২ মার্চ দিবাগত গভীর রাতে (৩ মার্চ ভোরে)। রাত আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে একটি রিকশায় করে দুই ব্যক্তি এসে বাড়ির পেছনে দাঁড়িয়ে কথাবার্তা বলতে থাকে। তরুণীর ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের একজনকে বলতে শোনা যায়, “কোন বাড়িটা হবে?” অপরজন একটি বাড়ির দিকে ইঙ্গিত করে বলে, “এই বাড়িটা।” পরে একজন আরেকজনকে ছবি তুলতে বললে বাড়ির ছবি তোলা হয়।
ঘটনাটি টের পেয়ে তরুণী বাইরে এলে রিকশাটি দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। এরপর থেকেই পরিবারটি চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সিটি বাইপাস সড়কমুখী ওই এলাকায় প্রায়ই চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। পাশেই একটি রাজনৈতিক দলের ক্লাব রয়েছে, যেখানে কিছু যুবক রাতে আড্ডা ও মাদক সেবন করে এবং অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগী তরুণী Prime Institute of Medical Technology-এর প্রথম বর্ষের ছাত্রী এবং আদিবাসী মাহলি সম্প্রদায়ের সদস্য। তিনি বর্তমানে ভীতসন্ত্রস্ত অবস্থায় রয়েছেন এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার আশঙ্কা করছেন।
তিনি প্রশাসনের কাছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রাও দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।














