ধানের শীষ বনাম দাঁড়িপাল্লা— বাগমারায় মূল লড়াই ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ
বাগমারায় ভোটের সভা-সমাবেশে লোকসমাগমে এগিয়ে বিএনপির ধানের শীষ প্রার্থী ডিএম জিয়াউর রহমান
- আপডেট সময় : ০৭:৪৬:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৪২ বার পড়া হয়েছে

মোস্তাফিজুর রহমান জীবন | রাজশাহী প্রতিনিধিঃ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় ভোটের সভা-সমাবেশে জনসমাগমের দিক থেকে অন্যান্য প্রার্থীদের তুলনায় অনেকটাই এগিয়ে রয়েছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ডিএম জিয়াউর রহমান জিয়া।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ডিএম জিয়া এর আগে আউচপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ ও বাগমারা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় এলাকায় তাঁর নিজস্ব শক্তিশালী ভোটব্যাংক গড়ে উঠেছে।
মনোনয়ন পাওয়ার আগেই তিনি গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে ঘুরে ভোটের মাঠ চষে বেড়ানোর সুযোগ পেয়েছেন। নিয়মিত উপস্থিত থেকেছেন ধর্মীয় অনুষ্ঠান, ইসলামি জালসা, হরিবাসর ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচিতে। স্থানীয়দের মতে, মসজিদ উন্নয়নসহ দান-খয়রাতেও তিনি অন্যান্য প্রার্থীদের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ সহায়তা করেছেন, ফলে অধিকাংশ কর্মসূচিতে তাঁকেই প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়।
তফসিল ঘোষণার আগেই বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘদিনের অসুস্থতা ও পরবর্তীতে তাঁর ইন্তেকালের ঘটনায় বাগমারার প্রতিটি ইউনিয়নে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
এসব অনুষ্ঠানের প্রায় সবকটিতেই উপস্থিত ছিলেন ডিএম জিয়াউর রহমান। এতে স্থানীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা আরও বেড়েছে। প্রতিটি কর্মসূচিতে গড়ে ১০ থেকে ২০ হাজার মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।
সবচেয়ে বড় জনসভাটি অনুষ্ঠিত হয় হামিরকুৎসা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে। এর কিছুদিন পর জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল বারী সরদার হাটগাঙ্গোপাড়া হাইস্কুল মাঠে একটি জনসভা করেন। তবে স্থানীয়দের মতে, ডিএম জিয়ার জনসভায় লোকসমাগম তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি ছিল।
অন্যদিকে, জামায়াত প্রার্থী আব্দুল বারী সরদার ইউনিয়নভিত্তিক সভা-সমাবেশের পাশাপাশি ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, হাজী সমাবেশ ও ধর্মীয় সভায় সভাপতিত্ব করে বেশ কিছু ভোটারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তিনি এবারই প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
এদিকে, বিএনপি প্রার্থী ডিএম জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন সময় অপপ্রচার চালানো হলেও সেসবের প্রতিবাদে তিনি হাজার হাজার নেতা-কর্মী নিয়ে রাজপথে সোচ্চার থেকেছেন।
জাতীয় পার্টির মনোনীত লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী ফজলুল ও ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী তাজুল ইসলাম খান নির্বাচনে অংশ নিলেও প্রচার-প্রচারণায় তেমন সক্রিয় নন বলে স্থানীয়রা জানান।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজশাহী-বাগমারা আসনে এবার মূল লড়াই হবে দ্বিমুখী— বিএনপির ধানের শীষ প্রার্থী ডিএম জিয়াউর রহমান এবং জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল বারী সরদারের মধ্যে। অতীত নির্বাচনের হিসাব অনুযায়ী জামায়াতে ইসলামীর ভোট প্রায় ৪০ হাজার এবং বিএনপির ভোট এক লক্ষাধিক।
সূত্র জানায়, সনাতন ধর্মাবলম্বী ভোটাররা এবার জয়-পরাজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। তারা ১৯৭১ সালের চেতনার কথা মাথায় রেখে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন বলে অনেক ভোটার জানিয়েছেন।
সব মিলিয়ে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে প্রাথমিকভাবে ধানের শীষের প্রার্থী ডিএম জিয়াউর রহমান জিয়াকে এগিয়ে রাখা হচ্ছে।














