কুমিল্লা বিভাগ, বিমানবন্দর ও মেট্রোপলিটন সিটির পরিকল্পনার ঘোষণা
কুমিল্লাকে বাসযোগ্য আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই: মনিরুল হক চৌধুরী
- আপডেট সময় : ০৬:৪৭:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৪৬ বার পড়া হয়েছে

এ.কে পলাশ | কুমিল্লা প্রতিনিধিঃ
কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও সাবেক সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী বলেছেন, তিনি কুমিল্লাকে একটি বাসযোগ্য ও আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চান। দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। নির্বাচিত হলে কুমিল্লার সার্বিক উন্নয়নে বৃহৎ ও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করবেন বলে তিনি জানান।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কুমিল্লা টাউন হল মাঠে ‘আমার স্বপ্ন, আমার কুমিল্লা’ শীর্ষক উন্নয়ন প্রস্তাবনা উপস্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, কুমিল্লা বিভাগ কুমিল্লাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি। কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চলকে অন্তর্ভুক্ত করে অবিলম্বে কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।
কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি জাকারিয়া তাহের সুমনের সভাপতিত্বে এবং মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, সাবেরা আলাউদ্দিন হেনা, জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট কাইমুল হক রিংকু, মহানগর বিএনপির সভাপতি উৎবাতুল বারী আবু, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিমসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ব্রিটিশ আমলে প্রতিষ্ঠিত কুমিল্লা বিমানবন্দর দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। অথচ বিমানবন্দরের পাশে রয়েছে কুমিল্লা ইপিজেড, যেখানে নিয়মিত বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আসেন। বিমানবন্দর চালু হলে বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে এবং প্রবাসীদের দুর্ভোগ লাঘব হবে। কুমিল্লা বিমানবন্দর চালু করা তার অন্যতম অগ্রাধিকারমূলক পরিকল্পনা।
সিটি করপোরেশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কুমিল্লা সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠার ১১ বছর পেরিয়ে গেলেও এটি এখনো মেগাসিটিতে রূপ নেয়নি। সীমানাও বাড়ানো হয়নি। নির্বাচিত হলে কুমিল্লা সিটিকে মেট্রোপলিটন সিটিতে রূপান্তর ও সীমানা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
নগরীর যানজট সমস্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যানজট বর্তমানে কুমিল্লার প্রধান সমস্যা। পুরোনো শহরের সংকীর্ণ রাস্তায় ছোট পরিকল্পনায় সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।
এজন্য শহরকে বিকেন্দ্রীকরণ, দক্ষিণে সরকারি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থানান্তর এবং উত্তরে গোমতী নদীর তীর ঘেঁষে উপশহর গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
পয়োনিষ্কাশন ও জলাবদ্ধতা বিষয়ে তিনি বলেন, বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা কুমিল্লার অন্যতম বড় সমস্যা। দখলকৃত খাল উদ্ধার, খনন, ড্রেন সম্প্রসারণ ও খালগুলোর সাথে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে জগন্নাথপুর এলাকায় বর্জ্যের স্তূপ পাহাড়ের আকার ধারণ করেছে। এতে এলাকাবাসী মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে।
এজন্য ‘ওয়েস্ট রিসাইকেল প্রজেক্ট’ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
এছাড়া কোটবাড়ি ও লালমাই পাহাড় ঘিরে স্যাটেলাইট সিটি ও ইকো ট্যুরিজম হাব গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
ঢাকা-কুমিল্লা বিকল্প সড়ক এবং সরাসরি রেললাইন (কর্ডলাইন) প্রকল্প অনেকদূর এগিয়েছে উল্লেখ করে বলেন, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) সরাসরি রেললাইনে অর্থায়নে সম্মত হয়েছে।
সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলমান রয়েছে এবং অচিরেই এটি বাস্তবায়িত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।














