হাসপাতাল কেন্দ্রিক অনিয়ম, সন্ত্রাস ও ঠিকাদারি সিন্ডিকেটে জড়িত থাকার অভিযোগে তোলপাড় বাঘা
বাঘায় হুন্ডি মুকুল ও টিএইচও আসাদের দৌরাত্ম্য: হাসপাতাল কেন্দ্রিক লুটপাট, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির রাজত্ব ফাঁস
- আপডেট সময় : ০৯:৪৫:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬ ১২০ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহী প্রতিনিধিঃ
রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় কথিত নেতা দাবিদার হুন্ডি মুকুলের বিরুদ্ধে চুরি, ছিনতাই, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, সাংবাদিক নির্যাতন ও হাসপাতাল কেন্দ্রিক দুর্নীতিসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয়দের দাবি, তার দাপটে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষ ভয় ও আতঙ্কে মুখ খুলতে পারছে না।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, হুন্ডি মুকুল এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ চোর ও সন্ত্রাসী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। কেউ তার কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করলে হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এমনকি হাসপাতালের ভেতরেও সন্ত্রাসী কায়দায় হামলার শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তিনি ঠিকাদারি কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন। স্থানীয়দের দাবি, সরকারি হাসপাতালে কালো অর্থের প্রভাব বিস্তার করে তিনি একটি সন্ত্রাসী বলয় তৈরি করেছেন।
জানা যায়, ঠিকাদারি দায়িত্ব পাওয়ার পর হাসপাতাল কার্যত জিম্মি করে রোগীদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি ওষুধ ও খাবার আত্মসাৎ করে অবৈধভাবে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে একদিকে রোগীরা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, অন্যদিকে সরকার বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললেই হুন্ডি মুকুলের নেতৃত্বে সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে হামলা চালানো হয়। এসব হামলায় নারী, বৃদ্ধ, রোগী এমনকি স্থানীয় সাংবাদিকরাও রেহাই পাননি বলে দাবি করা হয়।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, মুকুল ওরফে হুন্ডি মুকুলের বিরুদ্ধে রাজশাহীর চারঘাট থানায় নাশকতা মামলাসহ বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা চলমান রয়েছে।
স্থানীয়ভাবে তিনি ‘হাসমাতাল মোড়ের মাদক ফাদার’ নামেও পরিচিত। রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে তিনি দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে আইনকে চ্যালেঞ্জ করে নানা অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে বিএনপির একজন পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করছে। জানা গেছে, তার বিরুদ্ধে দলের উচ্চপর্যায়ে লিখিত অভিযোগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন দপ্তরেও লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
এদিকে বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিএইচও আসাদুজ্জামান আসাদের বিরুদ্ধেও ক্ষমতার অপব্যবহার, ঠিকাদার সিন্ডিকেটের সঙ্গে যোগসাজশ এবং অনিয়ম-দুর্নীতিতে মদদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, টিএইচও আসাদুজ্জামান আসাদ ও হুন্ডি মুকুলের যোগসাজশেই হাসপাতাল কেন্দ্রিক এই অনিয়ম ও লুটপাট দীর্ঘদিন ধরে চলমান রয়েছে।
উল্লেখ্য, এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে ইতোমধ্যে একাধিক জাতীয় দৈনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, অপকর্ম আড়াল করতে কিছু কমিশনভিত্তিক সাংবাদিক দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীদের দাবি, বাঘা উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কথিত বিএনপি নেতা হুন্ডি মুকুল ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।














