চট্টগ্রাম ০৯:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিঃ
বর্তমান সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় আধুনিক সকল ফিচার যুক্ত  জাতীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং মাল্টিমিডিয়া দৈনিক সারাদেশ ৭১  নিউজ পোর্টালে আপনাকে স্বাগতম। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিবন্ধনের আবেদনের  জন্য অপেক্ষমান দেশের অন্যতম প্রথম সারির অনলাইন পোর্টাল ও মাল্টিমিডিয়ার জন্য সংবাদদাতা আবশ্যক, বিশেষ সংবাদদাতা (৪),  ক্রাইম রিপোর্টার (৫), স্টাফ রিপোর্টার (১০), বিভাগীয় ব্যুরো (৩) উপজেলা প্রতিনিধি (১০), বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি (৪),  মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার (সকল জেলা ও উপজেলার জন্য) (১০) ইউনিয়ন প্রতিনিধি (৫)  আবেদনের জন্য সিভি, জাতীয় পরিচয় পত্র, আবেদন পাঠাবেন saradesh71@gmail.com এই মেইলে।
সংবাদ শিরোনামঃ
বেনাপোল সীমান্তে ভারতীয় শাড়ি-কসমেটিক্সসহ ৫ লাখ ৮১ হাজার টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ ডবলমুরিং-হালিশহরে মাদক, চাঁদাবাজি ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ; স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ব্যবস্থা চেয়ে আবেদন রংপুরের নতুন জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহানকে জেলা কংগ্রেসের ফুলেল শুভেচ্ছা রাণীশংকৈলে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত, পতাকা উত্তোলন ও বৃক্ষরোপণ দামুড়হুদায় মটর চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে চোরের মৃত্যু চুয়াডাঙ্গায় নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে হরিরামপুরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হাতীবান্ধা-পাটগ্রামে বিজিবির পৃথক অভিযান, উদ্ধার ভারতীয় পণ্য নজরুল বর্ষ ঘিরে পীরগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজন বিদ্রোহী কবির চেতনায় উখিয়ায় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা

দেশীয় উৎপাদন উপেক্ষা করে লবণ আমদানির সিদ্ধান্তে ক্ষোভ, অনিশ্চয়তায় উপকূলের হাজারো কৃষক পরিবার

লবণ আমদানির সিদ্ধান্তে কক্সবাজারে কৃষকের কান্না, হুমকির মুখে হাজারো লবণচাষীর জীবন-জীবিকা

মোঃ আবদুল্লাহ (আল-মামুন)
  • আপডেট সময় : ০২:৫১:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬ ৮১ বার পড়া হয়েছে
সারাদেশ ৭১ নিউজ – নির্ভরযোগ্য অনলাইন সংবাদ মাধ্যম গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মোঃ আবদুল্লাহ (আল-মামুন) | 

পর্যটন নগরী হিসেবে পরিচিত কক্সবাজার শুধু দেশের প্রধান সমুদ্রসৈকতের শহরই নয়, একই সঙ্গে এটি বাংলাদেশের লবণ উৎপাদনের প্রাণকেন্দ্র।

প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে রোদ, ঝড় ও লবণাক্ত পানির সঙ্গে লড়াই করে এখানকার হাজারো লবণচাষী পরিবার দেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ লবণ সরবরাহ করে আসছে। কিন্তু সরকারের সাম্প্রতিক লবণ আমদানির সিদ্ধান্ত কক্সবাজারের লবণচাষীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ, ক্ষোভ ও হতাশার জন্ম দিয়েছে।

লবণচাষীদের অভিযোগ, দেশীয় উৎপাদনের পর্যাপ্ত সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া মানে সরাসরি তাদের জীবন-জীবিকার ওপর আঘাত হানা। এতে দেশীয় লবণের ন্যায্যমূল্য মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা হাজারো কৃষক পরিবারকে আর্থিক অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

স্থানীয় লবণচাষীরা বলেন, “যেখানে দেশের মাঠেই পর্যাপ্ত লবণ উৎপাদন হচ্ছে, সেখানে বিদেশ থেকে লবণ আমদানির কোনো যৌক্তিকতা নেই। আমাদের ঘাম ঝরানো ফসলের ন্যায্য মূল্য না দিয়ে আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া মানে কৃষকের পেটে লাথি মারা।”

কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব এনামুল হক বলেন, লবণ চাষ কেবল একটি কৃষি কার্যক্রম নয়, এটি উপকূলীয় অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।

জেলার হাজারো পরিবার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে লবণ উৎপাদন, পরিবহন ও বিপণনের সঙ্গে যুক্ত। তিনি আরও বলেন, লবণ চাষের উন্নয়ন হলে কর্মসংস্থান বাড়বে, কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হবে এবং আমদানিনির্ভরতা কমে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় শিল্প, ব্যবসা ও রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পেয়ে কক্সবাজারের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী ও টেকসই হয়ে উঠবে।

সচেতন মহলের মতে, লবণ আমদানির পথে না গিয়ে সরকার চাইলে দেশীয় লবণচাষীদের প্রণোদনা, ভর্তুকি এবং আধুনিক প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করতে পারত। এতে উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি পেত, কৃষক লাভবান হতো এবং ভবিষ্যতে লবণ রপ্তানির মাধ্যমে দেশ প্রকৃত অর্থে আত্মনির্ভরশীল হতে পারত।

বিশিষ্টজনেরা মনে করছেন, কৃষককে উপেক্ষা করে কোনো উন্নয়নই টেকসই হতে পারে না। কৃষকের ঘাম শুকানোর আগেই যদি তার স্বপ্ন ভেঙে দেওয়া হয়, তবে উন্নয়নের গল্প কেবল কাগজেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

এ পরিস্থিতিতে কক্সবাজারের লবণচাষীদের দাবি স্পষ্ট—দেশীয় লবণকে অগ্রাধিকার দিতে হবে, লবণচাষীদের ন্যায্যমূল্য ও অধিকার নিশ্চিত করতে হবে এবং কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় সরকারের আমদানি সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে হবে। সচেতন মহলের কণ্ঠে এখন একটাই আহ্বান—কৃষক বাঁচুক, দেশ বাঁচুক।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

দেশীয় উৎপাদন উপেক্ষা করে লবণ আমদানির সিদ্ধান্তে ক্ষোভ, অনিশ্চয়তায় উপকূলের হাজারো কৃষক পরিবার

লবণ আমদানির সিদ্ধান্তে কক্সবাজারে কৃষকের কান্না, হুমকির মুখে হাজারো লবণচাষীর জীবন-জীবিকা

আপডেট সময় : ০২:৫১:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

মোঃ আবদুল্লাহ (আল-মামুন) | 

পর্যটন নগরী হিসেবে পরিচিত কক্সবাজার শুধু দেশের প্রধান সমুদ্রসৈকতের শহরই নয়, একই সঙ্গে এটি বাংলাদেশের লবণ উৎপাদনের প্রাণকেন্দ্র।

প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে রোদ, ঝড় ও লবণাক্ত পানির সঙ্গে লড়াই করে এখানকার হাজারো লবণচাষী পরিবার দেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ লবণ সরবরাহ করে আসছে। কিন্তু সরকারের সাম্প্রতিক লবণ আমদানির সিদ্ধান্ত কক্সবাজারের লবণচাষীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ, ক্ষোভ ও হতাশার জন্ম দিয়েছে।

লবণচাষীদের অভিযোগ, দেশীয় উৎপাদনের পর্যাপ্ত সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া মানে সরাসরি তাদের জীবন-জীবিকার ওপর আঘাত হানা। এতে দেশীয় লবণের ন্যায্যমূল্য মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা হাজারো কৃষক পরিবারকে আর্থিক অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

স্থানীয় লবণচাষীরা বলেন, “যেখানে দেশের মাঠেই পর্যাপ্ত লবণ উৎপাদন হচ্ছে, সেখানে বিদেশ থেকে লবণ আমদানির কোনো যৌক্তিকতা নেই। আমাদের ঘাম ঝরানো ফসলের ন্যায্য মূল্য না দিয়ে আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া মানে কৃষকের পেটে লাথি মারা।”

কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব এনামুল হক বলেন, লবণ চাষ কেবল একটি কৃষি কার্যক্রম নয়, এটি উপকূলীয় অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।

জেলার হাজারো পরিবার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে লবণ উৎপাদন, পরিবহন ও বিপণনের সঙ্গে যুক্ত। তিনি আরও বলেন, লবণ চাষের উন্নয়ন হলে কর্মসংস্থান বাড়বে, কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হবে এবং আমদানিনির্ভরতা কমে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় শিল্প, ব্যবসা ও রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পেয়ে কক্সবাজারের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী ও টেকসই হয়ে উঠবে।

সচেতন মহলের মতে, লবণ আমদানির পথে না গিয়ে সরকার চাইলে দেশীয় লবণচাষীদের প্রণোদনা, ভর্তুকি এবং আধুনিক প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করতে পারত। এতে উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি পেত, কৃষক লাভবান হতো এবং ভবিষ্যতে লবণ রপ্তানির মাধ্যমে দেশ প্রকৃত অর্থে আত্মনির্ভরশীল হতে পারত।

বিশিষ্টজনেরা মনে করছেন, কৃষককে উপেক্ষা করে কোনো উন্নয়নই টেকসই হতে পারে না। কৃষকের ঘাম শুকানোর আগেই যদি তার স্বপ্ন ভেঙে দেওয়া হয়, তবে উন্নয়নের গল্প কেবল কাগজেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

এ পরিস্থিতিতে কক্সবাজারের লবণচাষীদের দাবি স্পষ্ট—দেশীয় লবণকে অগ্রাধিকার দিতে হবে, লবণচাষীদের ন্যায্যমূল্য ও অধিকার নিশ্চিত করতে হবে এবং কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় সরকারের আমদানি সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে হবে। সচেতন মহলের কণ্ঠে এখন একটাই আহ্বান—কৃষক বাঁচুক, দেশ বাঁচুক।