চট্টগ্রাম ১০:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিঃ
বর্তমান সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় আধুনিক সকল ফিচার যুক্ত  জাতীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং মাল্টিমিডিয়া দৈনিক সারাদেশ ৭১  নিউজ পোর্টালে আপনাকে স্বাগতম। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিবন্ধনের আবেদনের  জন্য অপেক্ষমান দেশের অন্যতম প্রথম সারির অনলাইন পোর্টাল ও মাল্টিমিডিয়ার জন্য সংবাদদাতা আবশ্যক, বিশেষ সংবাদদাতা (৪),  ক্রাইম রিপোর্টার (৫), স্টাফ রিপোর্টার (১০), বিভাগীয় ব্যুরো (৩) উপজেলা প্রতিনিধি (১০), বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি (৪),  মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার (সকল জেলা ও উপজেলার জন্য) (১০) ইউনিয়ন প্রতিনিধি (৫)  আবেদনের জন্য সিভি, জাতীয় পরিচয় পত্র, আবেদন পাঠাবেন saradesh71@gmail.com এই মেইলে।
সংবাদ শিরোনামঃ
বেনাপোল সীমান্তে ভারতীয় শাড়ি-কসমেটিক্সসহ ৫ লাখ ৮১ হাজার টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ ডবলমুরিং-হালিশহরে মাদক, চাঁদাবাজি ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ; স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ব্যবস্থা চেয়ে আবেদন রংপুরের নতুন জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহানকে জেলা কংগ্রেসের ফুলেল শুভেচ্ছা রাণীশংকৈলে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত, পতাকা উত্তোলন ও বৃক্ষরোপণ দামুড়হুদায় মটর চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে চোরের মৃত্যু চুয়াডাঙ্গায় নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে হরিরামপুরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হাতীবান্ধা-পাটগ্রামে বিজিবির পৃথক অভিযান, উদ্ধার ভারতীয় পণ্য নজরুল বর্ষ ঘিরে পীরগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজন বিদ্রোহী কবির চেতনায় উখিয়ায় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা

অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযানেই ক্ষুব্ধ চক্রের অপচেষ্টা, প্রশাসনের কঠোর অবস্থান

লামায় সুবিধা না পেয়ে ইউএনওর বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অপপ্রচার: সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ

মোঃ শফিকুল ইসলাম তুহিন
  • আপডেট সময় : ০১:৫৮:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬ ১১৭ বার পড়া হয়েছে
সারাদেশ ৭১ নিউজ – নির্ভরযোগ্য অনলাইন সংবাদ মাধ্যম গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মোঃ শফিকুল ইসলাম তুহিন |
বান্দরবান জেলা প্রতিনিধিঃ

বান্দরবান জেলার লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

প্রশাসনিক সুবিধা না পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে এ চক্রটি লামা উপজেলা প্রশাসনকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
সরকারি একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য ও ভুক্তভোগীদের বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, সাধারণ মানুষকে হয়রানি, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জিম্মি করে অর্থ আদায় এবং নানা সামাজিক অপরাধের সঙ্গে জড়িত।

সম্প্রতি মো. মামুন নামের এক ব্যক্তি নিজেকে ফাইতং ইউনিয়নের রাইম্যাখোলা ইউএমবি ইটভাটার মালিক দাবি করে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ করেন। ওই ভিডিওতে পরিবেশ অধিদপ্তরের যৌথ অভিযান, সেনাবাহিনী, র‍্যাব, বিজিবি, পুলিশ, কক্সবাজারের পুলিশ সুপার, লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং কয়েকজন সাংবাদিকের নাম উল্লেখ করে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দেওয়া হয়।

ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পরপরই মো. মামুন ফেসবুকে আরেকটি ভিডিও বার্তায় জানান,তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন। একটি ঘরোয়া পরিবেশে কয়েকজন সাংবাদিকের সঙ্গে আলাপচারিতার সময় দেওয়া বক্তব্য এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে বিকৃত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

তিনি দাবি করেন, তিনি ইউএমবি ইটভাটার মালিক নন এবং লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দিন কিংবা অফিস সহায়ক মো. সোহেলের সঙ্গে তার কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন হয়নি।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, মো. মঈন উদ্দিন লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদানের পর অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, পাহাড় কাটা ও পরিবেশ ধ্বংসকারী অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনা করেন।

এসব অভিযানে তিন কোটির বেশি টাকা রাজস্ব আদায় হয় এবং সাতটি অবৈধ ইটভাটা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে একটি স্বার্থান্বেষী চক্র প্রশাসনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়।
অভিযোগ রয়েছে, চক্রটি একজনকে ইটভাটার মালিক সাজিয়ে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে বক্তব্য বিকৃত করে ইউএনও ও তার অফিস সহায়ককে হেয়প্রতিপন্ন করতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচার করছে।

লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসের সহকারী মো. সোহেল বলেন, “সুবিধা না পেয়ে একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে আমাকে ও ইউএনও স্যারকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে।”

বান্দরবান জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, মহামান্য হাইকোর্টের রিট পিটিশন নং-১৩১৯১/২২ অনুযায়ী ইউএমবি ইটভাটার প্রকৃত মালিক মকছুদ আহাম্মদ। ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি মোক্তার আহাম্মদ বলেন, প্রশাসনের সঙ্গে ইটভাটা মালিকদের সংঘাতে জড়াতে একটি চক্র অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তবে জেলা প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে ইটভাটা মালিকদের অনৈতিক সম্পর্ক নেই।

লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দিন বলেন, “কোনো ইটভাটা মালিকের সঙ্গে আমার অনৈতিক লেনদেনের প্রশ্নই ওঠে না। যদি থাকত, তাহলে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে জরিমানা, কারাদণ্ড ও ভাঙচুর অভিযান পরিচালনা করা হতো না।”

তিনি জানান, অবৈধ ইটভাটা বন্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ বিষয়ে বান্দরবান জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি বলেন, “যত ষড়যন্ত্রই হোক না কেন, জনস্বার্থ ও পরিবেশ রক্ষায় অবৈধ ইটভাটা, বালু উত্তোলনসহ সব ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান চলমান থাকবে।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযানেই ক্ষুব্ধ চক্রের অপচেষ্টা, প্রশাসনের কঠোর অবস্থান

লামায় সুবিধা না পেয়ে ইউএনওর বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অপপ্রচার: সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ

আপডেট সময় : ০১:৫৮:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬

মোঃ শফিকুল ইসলাম তুহিন |
বান্দরবান জেলা প্রতিনিধিঃ

বান্দরবান জেলার লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

প্রশাসনিক সুবিধা না পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে এ চক্রটি লামা উপজেলা প্রশাসনকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
সরকারি একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য ও ভুক্তভোগীদের বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, সাধারণ মানুষকে হয়রানি, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জিম্মি করে অর্থ আদায় এবং নানা সামাজিক অপরাধের সঙ্গে জড়িত।

সম্প্রতি মো. মামুন নামের এক ব্যক্তি নিজেকে ফাইতং ইউনিয়নের রাইম্যাখোলা ইউএমবি ইটভাটার মালিক দাবি করে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ করেন। ওই ভিডিওতে পরিবেশ অধিদপ্তরের যৌথ অভিযান, সেনাবাহিনী, র‍্যাব, বিজিবি, পুলিশ, কক্সবাজারের পুলিশ সুপার, লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং কয়েকজন সাংবাদিকের নাম উল্লেখ করে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দেওয়া হয়।

ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পরপরই মো. মামুন ফেসবুকে আরেকটি ভিডিও বার্তায় জানান,তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন। একটি ঘরোয়া পরিবেশে কয়েকজন সাংবাদিকের সঙ্গে আলাপচারিতার সময় দেওয়া বক্তব্য এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে বিকৃত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

তিনি দাবি করেন, তিনি ইউএমবি ইটভাটার মালিক নন এবং লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দিন কিংবা অফিস সহায়ক মো. সোহেলের সঙ্গে তার কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন হয়নি।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, মো. মঈন উদ্দিন লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদানের পর অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, পাহাড় কাটা ও পরিবেশ ধ্বংসকারী অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনা করেন।

এসব অভিযানে তিন কোটির বেশি টাকা রাজস্ব আদায় হয় এবং সাতটি অবৈধ ইটভাটা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে একটি স্বার্থান্বেষী চক্র প্রশাসনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়।
অভিযোগ রয়েছে, চক্রটি একজনকে ইটভাটার মালিক সাজিয়ে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে বক্তব্য বিকৃত করে ইউএনও ও তার অফিস সহায়ককে হেয়প্রতিপন্ন করতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচার করছে।

লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসের সহকারী মো. সোহেল বলেন, “সুবিধা না পেয়ে একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে আমাকে ও ইউএনও স্যারকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে।”

বান্দরবান জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, মহামান্য হাইকোর্টের রিট পিটিশন নং-১৩১৯১/২২ অনুযায়ী ইউএমবি ইটভাটার প্রকৃত মালিক মকছুদ আহাম্মদ। ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি মোক্তার আহাম্মদ বলেন, প্রশাসনের সঙ্গে ইটভাটা মালিকদের সংঘাতে জড়াতে একটি চক্র অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তবে জেলা প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে ইটভাটা মালিকদের অনৈতিক সম্পর্ক নেই।

লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দিন বলেন, “কোনো ইটভাটা মালিকের সঙ্গে আমার অনৈতিক লেনদেনের প্রশ্নই ওঠে না। যদি থাকত, তাহলে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে জরিমানা, কারাদণ্ড ও ভাঙচুর অভিযান পরিচালনা করা হতো না।”

তিনি জানান, অবৈধ ইটভাটা বন্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ বিষয়ে বান্দরবান জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি বলেন, “যত ষড়যন্ত্রই হোক না কেন, জনস্বার্থ ও পরিবেশ রক্ষায় অবৈধ ইটভাটা, বালু উত্তোলনসহ সব ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান চলমান থাকবে।”