উন্নয়ন কার্যক্রম, আইনশৃঙ্খলা ও কৃষিজমি রক্ষায় কঠোর নির্দেশনা জেলা প্রশাসকের
কুমিল্লায় জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত, উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলা জোরদারের নির্দেশ
- আপডেট সময় : ০৮:১২:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫ ৭৪ বার পড়া হয়েছে

এ.কে পলাশ | কুমিল্লা প্রতিনিধিঃ
কুমিল্লা জেলার মাসিক জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (২১ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাইফুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন ডা. আলী নুর বশির, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাইনউদ্দিন চিশতি, বিএডিসি (সেচ) নির্বাহী প্রকৌশলী রুবাইয়াত ফয়সাল আল মাসুম, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল হাসান হীরা, সিনিয়র জেল সুপার হালিমা খাতুন, কৃষি অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মিজানুর রহমানসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও)।
সভায় জেলার চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং যানজট সমস্যা সমাধানের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে জুলাই শহীদদের কবরের নির্মাণকাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন হচ্ছে কি না,সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এছাড়া গৃহহীন জুলাই শহীদ ও আহতদের জন্য ঘর নির্মাণের বিষয়েও আলোচনা হয়। সভায় জানানো হয়, মুরাদনগর উপজেলায় আহত ও গৃহহীন জুলাই যোদ্ধার জন্য ইতোমধ্যে একটি ঘর নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান বলেন, “আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক ও তৎপর থাকতে হবে।” তিনি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা ও নথিপত্র সংরক্ষণের বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি প্রত্যেক দপ্তরকে নিজ নিজ কার্যালয়ের নিরাপত্তা জোরদার করার আহ্বান জানান।
সভায় কৃষি অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মিজানুর রহমান বলেন, নির্বিচারে কৃষিজমি ধ্বংস করা হচ্ছে। ড্রেজার ও এক্সকেভেটর ব্যবহার করে ইটভাটার জন্য কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি (টপ সয়েল) তুলে নেওয়া হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে কৃষি উৎপাদনের জন্য মারাত্মক হুমকি। তিনি জানান, টপ সয়েল তৈরি হতে ৩০ থেকে ৪০ বছর সময় লাগে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও কঠোর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
সভা শেষে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সকল দপ্তর প্রধানকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।














