কৃষকদের সঙ্গে ধস্তাধস্তির অভিযোগ; ঘটনাস্থলে গিয়ে অস্ত্র ও যোগাযোগ সরঞ্জাম হেফাজতে নিল ১৫ বিজিবি
বনচৌকি সীমান্তে সংঘর্ষের অভিযোগ, বিএসএফের অস্ত্র-ওয়াকিটকি উদ্ধার
- আপডেট সময় : ০৮:৪২:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬ ১৮ বার পড়া হয়েছে

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার বনচৌকি সীমান্তে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে স্থানীয় কৃষকদের ওপর ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) সদস্যদের হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় স্থানীয়দের প্রতিরোধ ও ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে বিএসএফ সদস্যরা দুটি শর্টগান ও একটি ওয়াকিটকি ফেলে ভারতের দিকে চলে যান বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেল ৩টার দিকে বনচৌকি সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সীমান্তসংলগ্ন নিজেদের জমিতে কৃষিকাজ করছিলেন কয়েকজন বাংলাদেশি কৃষক। এ সময় বিএসএফের কয়েকজন সদস্য সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন এবং কৃষকদের সঙ্গে অসদাচরণ ও মারধরে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনাটি দেখতে পেয়ে আশপাশের স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে এগিয়ে আসেন। পরে বিএসএফ সদস্যদের সঙ্গে স্থানীয়দের তীব্র বাকবিতণ্ডা, হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তির পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।
একপর্যায়ে স্থানীয়দের প্রতিরোধের মুখে বিএসএফ সদস্যরা দুটি শর্টগান ও একটি ওয়াকিটকি ফেলে সীমান্তের ওপারে ভারতের দিকে চলে যান বলে জানা গেছে।
ঘটনার খবর পেয়ে লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে বিএসএফ সদস্যদের ফেলে যাওয়া বলে দাবি করা দুটি শর্টগান ও একটি ওয়াকিটকি বিজিবির হেফাজতে নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে ১৫ বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম জানান, সীমান্ত পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে বিএসএফের সঙ্গে আলোচনা চলছে। পরবর্তী সময়ে দুই বাহিনীর ব্যাটালিয়ন/কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা ও পতাকা বৈঠক হলে ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
সীমান্তে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় ও পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে এ ধরনের ঘটনা নিরসনের নজির রয়েছে। ২০১৯ সালে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে বিএসএফ সদস্যরা একটি শর্টগান ও ওয়াকিটকি ফেলে যাওয়ার পর বিজিবি-বিএসএফের পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই বৈঠকে অনুপ্রবেশের ঘটনায় বিএসএফ দুঃখ প্রকাশ করেছিল।
হাতীবান্ধার বনচৌকি সীমান্তে সাম্প্রতিক সময়েও সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে একাধিক ঘটনা ঘটেছে। ২০২৬ সালের মে মাসে একই এলাকার আমঝোল সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে খাদেমুল ইসলাম নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হওয়ার ঘটনা নিয়ে বিজিবির পক্ষ থেকে তদন্ত ও পতাকা বৈঠকের কথা জানানো হয়েছিল।
এর আগে জুন মাসে বনচৌকি সীমান্তে বিএসএফের মাধ্যমে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টার অভিযোগ ওঠে। সে সময় বিজিবি ও স্থানীয়দের তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং সীমান্তে টহল জোরদার করা হয়।
এদিকে আজকের ঘটনার পর বনচৌকি সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা যাতে আর না বাড়ে, সে জন্য বিজিবির নজরদারি ও টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। পতাকা বৈঠকের পর বিএসএফের অবস্থান, সীমান্ত অতিক্রমের কারণ এবং উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও যোগাযোগ সরঞ্জাম নিয়ে বিস্তারিত তথ্য সামনে আসতে পারে।














