৪৮ একর ওয়াকফ সম্পত্তিতে বরাদ্দ, দখল ও নির্মাণকাজ নিয়ে প্লট মালিকদের অভিযোগ; নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা দাবি
দুয়ারীপাড়ায় ওয়াকফ প্লট মালিকদের বিক্ষোভ-মানববন্ধন, আদালতের স্থিতাবস্থা অমান্যের অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০৭:২৮:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬ ৫৮ বার পড়া হয়েছে
রাজধানীর দুয়ারীপাড়ায় ওয়াকফ প্লট মালিকরা জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের বরাদ্দ ও ভূমি দখলের অভিযোগে বিক্ষোভ-মানববন্ধন করেছেন। আদালতের স্থিতাবস্থা অমান্য, অবৈধ নির্মাণ বন্ধ ও অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন তারা।

ঢাকা | ২৫ আগস্ট ২০২৬ :
রাজধানীর রূপনগর থানাধীন দুয়ারীপাড়া বাজারসংলগ্ন এলাকায় আইনুদ্দিন হায়দার ও ফয়জুন্নেসা ওয়াকফ স্টেটের প্লট মালিকরা বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন। জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী, দালাল ও ভূমিদখলকারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে শনিবার এ কর্মসূচি পালন করেন তারা।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া প্লট মালিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, প্রায় ৪৮ একর জমি নিয়ে গঠিত সংশ্লিষ্ট ওয়াকফ সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। তাদের দাবি, আবুল কালাম আনসারী জামাল বৈধ মোতাওয়াল্লি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যেই আদালতের নির্দেশনা ও জমির আইনগত অবস্থান উপেক্ষা করে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তি বিভিন্ন ব্যক্তি ও ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের নামে সম্পত্তি বরাদ্দ দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেন তারা।
প্লট মালিকদের অভিযোগ, আইনগত বিরোধ চলমান থাকা অবস্থায় সংশ্লিষ্ট জমির বিভিন্ন অংশে ভবন নির্মাণ, কাঠামোগত পরিবর্তন, প্লট দখল ও বিক্রির তৎপরতা চালানো হচ্ছে। এতে প্রকৃত প্লট মালিক এবং ওয়াকফ সম্পত্তির স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি করেন তারা।
সুপ্রিম কোর্টের স্থিতাবস্থা অমান্যের অভিযোগ
মানববন্ধনে বক্তারা জানান, সংশ্লিষ্ট ভূমি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল মামলা নং ১৫২১/২০২১ চলমান রয়েছে। তাদের দাবি, সম্পত্তির দখল ও অবস্থানের ক্ষেত্রে স্থিতাবস্থা (Status Quo) বজায় রাখার নির্দেশনা রয়েছে।
প্লট মালিকদের অভিযোগ, আদালতের নির্দেশনা বহাল থাকা অবস্থায় জমিতে নির্মাণকাজ, দখল বা কোনো ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন করা হলে তা আদালতের আদেশের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। তাই এ ধরনের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
মানববন্ধনে ড্যাফোডিল মান্নান ও মোক্তার হোসেন নামে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধেও আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে জমিতে কার্যক্রম চালানোর অভিযোগ তোলা হয়। প্লট মালিকরা জানান, এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগ এবং বিভিন্ন পর্যায়ে নোটিশ দেওয়া হলেও তাদের অভিযোগ অনুযায়ী কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
সাংবাদিক পরিচয়দানকারী ব্যক্তির বিরুদ্ধেও অভিযোগ
এদিকে ইমন নামে সাংবাদিক পরিচয়দানকারী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধেও অভিযোগ তোলেন মানববন্ধনকারীরা। তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট ওয়াকফ স্টেটের প্রায় ৯০ কাঠা জমি বিভিন্ন ব্যক্তিকে দেওয়ার প্রলোভন দেখানো এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের মাধ্যমে পরিস্থিতি আরও জটিল করা হচ্ছে।
তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্যও এ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। তাই অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে নথিপত্র, আদালতের আদেশ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য পর্যালোচনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন মানববন্ধনকারীরা।
নির্মাণকাজ নিয়ে রাজউকের নোটিশের দাবি
প্লট মালিকরা আরও জানান, আদালতের নির্দেশনা বহাল থাকা অবস্থায় সংশ্লিষ্ট জমির বিভিন্ন ভবনে নির্মাণকাজ চালানোর অভিযোগ রয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টে মামলা নং ৬২/২০২৪-এর বিষয়টিও সামনে এসেছে বলে দাবি করেন তারা।
তাদের ভাষ্য, এ-সংক্রান্ত বিষয়ে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) সংশ্লিষ্টদের নোটিশ দিয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও নথিপত্র স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের বরাদ্দ নিয়ে তদন্ত দাবি
মানববন্ধনে বক্তারা প্রশ্ন তোলেন, বিতর্কিত ওয়াকফ সম্পত্তিতে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ কীভাবে বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে বরাদ্দ দিয়েছে। বরাদ্দ প্রক্রিয়ায় কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী অনিয়ম বা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকলে তা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
তারা বলেন, আদালতের নির্দেশনা বহাল থাকা অবস্থায় কেউ জোরপূর্বক জমি দখল, অবৈধ নির্মাণ, প্লট হস্তান্তর বা বিক্রির চেষ্টা করলে রাজনৈতিক কিংবা সামাজিক পরিচয় বিবেচনা না করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
মানববন্ধন থেকে ভূমি দখল, অবৈধ নির্মাণ ও কথিত দালালচক্রের তৎপরতা বন্ধ, আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন এবং উত্থাপিত অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়।
প্লট মালিকরা প্রশাসনের কাছে সংশ্লিষ্ট জমির প্রকৃত মালিকানা, ওয়াকফ সম্পত্তির আইনগত অবস্থান এবং আদালতের আদেশ যাচাই করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
তবে মানববন্ধনে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলো আদালতের নথি, বরাদ্দসংক্রান্ত কাগজপত্র এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য যাচাই সাপেক্ষে চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।













