জামালপুরে ১৩টি ঘোড়ার প্রায় এক হাজার কেজি মাংস জব্দের ঘটনায় পাঁচজনকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
ঢাকার রেস্তোরাঁয় বিক্রির জন্য ঘোড়ার মাংস নেওয়ার সময় জামালপুরে আটক ৫, কারাদণ্ড
- আপডেট সময় : ১০:৩১:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬ ৩২ বার পড়া হয়েছে

জামালপুর | ২৪ আগস্ট ২০২৬ :
জামালপুর সদর উপজেলায় ঘোড়া জবাই করে ঢাকার বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় বিক্রির উদ্দেশ্যে মাংস নিয়ে যাওয়ার সময় পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে ১৩টি ঘোড়ার প্রায় এক হাজার কেজি মাংস জব্দ করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আটক পাঁচজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রোববার দুপুরে জামালপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইমন হোসেন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তিনজনকে ছয় মাস এবং দুজনকে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। পরে দণ্ডপ্রাপ্তদের কারাগারে পাঠানো হয়।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার শোলাকড়ি গ্রামের মো. হুমায়ুন কবির (৪০), গোপালপুর উপজেলার চরদুবাকান্দি গ্রামের আলফাজ (৪২) ও মো. শহিদ (৩৫)। এ ছাড়া জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার জোরব্রিজ এলাকার পিকআপ ভ্যানচালক মো. জুয়েল এবং শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বাটকুল গ্রামের পিকআপ ভ্যানের সহকারী তাসির মিয়া (২৫) দণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের আদেশে হুমায়ুন কবির, আলফাজ ও শহিদকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পিকআপ ভ্যানচালক জুয়েল ও তাঁর সহকারী তাসির মিয়াকে দেওয়া হয় দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, জামালপুর সদর উপজেলার তুলসীরচর এলাকায় চক্রটি ১৩টি ঘোড়া কিনে জবাই করে। পরে ঘোড়ার মাংস ১৮টি বস্তায় ভরে একটি পিকআপ ভ্যানে তোলা হয়। মাংসগুলো ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নরুন্দি পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের সদস্যরা উপজেলার মিরাপুর এলাকায় অভিযান চালান।
অভিযানে পাঁচজনকে আটক করা হয় এবং মাংস বহনকারী পিকআপ ভ্যানটি জব্দ করা হয়। পরে জব্দ করা প্রায় এক হাজার কেজি ঘোড়ার মাংস নরুন্দি পুলিশ তদন্তকেন্দ্রে নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরে মাংসগুলো মাটিতে পুঁতে নষ্ট করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা এর আগেও একইভাবে কয়েক দফা ঘোড়ার মাংস ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, চক্রটি ঢাকার বিভিন্ন এলাকার রেস্তোরাঁয় প্রতি কেজি প্রায় ৪০০ টাকা দরে ওই মাংস বিক্রি করত বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
এ ছাড়া জিজ্ঞাসাবাদে এমন অভিযোগও উঠে এসেছে যে, কিছু ক্ষেত্রে ওই মাংস গরুর মাংস হিসেবে বিক্রির জন্য সরবরাহ করা হতো। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তসাপেক্ষ বলে জানিয়েছে পুলিশ।
জামালপুর সদর উপজেলার নরুন্দি পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ মো. নাজমুল হক বলেন, একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে ঘোড়া জবাই করে মাংস বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ নজরদারি করছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাংসসহ চক্রটির পাঁচ সদস্যকে আটক করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পর ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেওয়া হয়েছে।
প্রতিনিধি, জামালপুর: নাজমুল হাসান

















