নাদিয়ার মৃত্যুকে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলের সঙ্গে যুক্ত করে প্রচারিত তথ্য নিয়ে আপত্তি স্বজনদের; প্রকৃত কারণ জানতে পুলিশের তদন্ত চলছে
কচুয়ায় নাদিয়ার মৃত্যু ঘিরে নানা প্রশ্ন, পরীক্ষার ফল নিয়ে স্বজনদের ভিন্ন দাবি
- আপডেট সময় : ০৭:৩১:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬ ২২ বার পড়া হয়েছে

চাঁদপুরের কচুয়া পৌরসভার কোয়া চাঁদপুর গ্রামের কালাগাজী বাড়িতে নাদিয়া আক্তার নামে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিজ ঘর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি তদন্ত করছে কচুয়া থানা পুলিশ।
নাদিয়া আক্তার কচুয়া উপজেলার তুলপাই গ্রামের মো. বিল্লাল হোসেনের মেয়ে। সে কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার কৈলান উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তার বয়স ১৬ থেকে ১৮ বছর উল্লেখ করা হয়েছে; তাই বয়সটি নিশ্চিত সূত্র ছাড়া এখানে উল্লেখ করা হলো না।
নাদিয়ার স্বজনদের দাবি, তার মৃত্যুর পেছনে পরীক্ষার ফলাফল নয়, বরং দীর্ঘদিনের পারিবারিক সমস্যা ভূমিকা রাখতে পারে। স্বজন ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, নাদিয়ার বাবা মো. বিল্লাল হোসেন দ্বিতীয় বিয়ে করার পর প্রথম স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়মিত খোঁজখবর ও ভরণপোষণ করতেন না। নাদিয়ার মা নুরুন্নাহার বেগম স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে কাজ করে দুই মেয়ের দেখাশোনা করতেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এসব বক্তব্য এখনো স্বজন ও স্থানীয়দের দাবি হিসেবে রয়েছে। পুলিশের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নাদিয়া আক্তার এসএসসি পরীক্ষায় তিন বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ার কারণে আত্মহত্যা করেছে—এমন প্রচারণা ছড়িয়ে পড়েছে বলে স্বজনরা অভিযোগ করেছেন।
স্বজনদের দাবি, পরীক্ষার ফলাফলকে মৃত্যুর একমাত্র কারণ হিসেবে প্রচার করা সঠিক নয়। তারা এ ধরনের তথ্যকে যাচাইহীন ও বিভ্রান্তিকর হিসেবে উল্লেখ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব না ছড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে নাদিয়ার মা নুরুন্নাহার বেগমের বরাতে বলা হয়েছে, নাদিয়া ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় তিন বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছিল। তবে মা তাকে এ কারণে বকাঝকা বা শাসন করেননি বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
এখানে উল্লেখযোগ্য, ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল ১০ আগস্ট প্রকাশের তথ্য পাওয়া গেছে।
কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজিজুল ইসলাম জানিয়েছেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে।
পুলিশের তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
এদিকে নাদিয়ার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের যাচাইহীন তথ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট বা অনুমানভিত্তিক বক্তব্য প্রচার না করার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। তদন্তের ফলাফল না আসা পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে কোনো দাবিকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে প্রচার না করাই সমীচীন।














