অনলাইনে জামিননামা দাখিল ও নথি আদান-প্রদানের মাধ্যমে কমবে সময়, ভোগান্তি ও দীর্ঘসূত্রতা
ঠাকুরগাঁওয়ে বিচার ব্যবস্থায় নতুন সংযোজন, চালু হলো ই-বেইল বন্ড
- আপডেট সময় : ০৫:১০:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬ ৩৮ বার পড়া হয়েছে

আদালত থেকে জামিনের আদেশ পাওয়ার পর আসামিদের কারাগার থেকে দ্রুত মুক্তির লক্ষ্যে ঠাকুরগাঁওয়ে চালু হয়েছে অনলাইন ই-বেইল বন্ড (e-Bail Bond) সেবা। নতুন এ ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে জামিননামা দাখিল, যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও স্বচ্ছ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালে ঠাকুরগাঁও জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ই-বেইল বন্ড কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সচিবালয় থেকে ঠাকুরগাঁওসহ দেশের ১২টি জেলায় একযোগে ই-বেইল বন্ড কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
ই-বেইল বন্ড চালুর ফলে আদালত থেকে জামিনের আদেশ দেওয়ার পর প্রচলিত কাগজভিত্তিক প্রক্রিয়ায় বেইল বন্ড দাখিল ও নথিপত্র আদান-প্রদানে যে সময় লাগে, তা কমবে। অনলাইন ব্যবস্থায় আদালত থেকে সংশ্লিষ্ট কারা কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য ও জামিননামা দ্রুত পাঠানো সম্ভব হবে।
ফলে জামিন পাওয়ার পরও নথিপত্রের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে যে অতিরিক্ত সময় অপেক্ষা করতে হয়, তা অনেকাংশে কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে জামিনপ্রাপ্ত ব্যক্তি দ্রুত কারামুক্তির সুযোগ পাবেন।
এর আগে দেশের বিভিন্ন জেলায় ধাপে ধাপে ই-বেইল বন্ড ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জাতীয় সংসদে দেওয়া এক বক্তব্যে জানিয়েছিলেন, ২০২৬ সালের এপ্রিলের মধ্যে ১৬টি জেলায় ই-বেইল বন্ড চালু হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বিচার ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও গতিশীল করতে বিভিন্ন ডিজিটাল উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।
ই-বেইল বন্ড মূলত আদালতে জামিন মঞ্জুর হওয়ার পর জামিননামা দ্রুত সংশ্লিষ্ট কারাগারে পৌঁছে দেওয়ার একটি অনলাইন ব্যবস্থা। এর ফলে বিচারপ্রার্থী, আইনজীবী, আদালত এবং কারা প্রশাসনের মধ্যে নথি আদান-প্রদানের সময় কমানোর পাশাপাশি প্রক্রিয়াটিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বিচার বিভাগের সরকারি ওয়েবসাইটেও ই-বেইল বন্ডকে বিচারিক ই-সেবার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই তালিকায় মামলা ব্যবস্থাপনা, আইনজীবী বাতায়ন, জামিন যাচাই সফটওয়্যার, জুডিপে, ই-কার্যতালিকা ও ই-ফাইলিংয়ের মতো ডিজিটাল সেবাও রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রচলিত পদ্ধতিতে জামিনের আদেশের পর বেইল বন্ড প্রস্তুত, দাখিল, যাচাই এবং কারাগারে নথি পৌঁছাতে সময় লাগে। বিশেষ করে দূরবর্তী এলাকার বিচারপ্রার্থীদের ক্ষেত্রে এ প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয়ের অভিযোগ রয়েছে।
ডিজিটাল ই-বেইল বন্ড ব্যবস্থায় এসব ধাপের বড় একটি অংশ অনলাইনে সম্পন্ন করা সম্ভব হওয়ায় জামিন-পরবর্তী কারামুক্তির প্রক্রিয়া আরও গতিশীল হবে। একই সঙ্গে নথির গতিবিধি ডিজিটালভাবে সংরক্ষিত থাকায় প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ই-বেইল বন্ডের কার্যক্রম প্রথমে নারায়ণগঞ্জে পাইলট প্রকল্প হিসেবে শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে কয়েক ধাপে দেশের বিভিন্ন জেলায় এ সেবা সম্প্রসারণ করা হয়।
ঠাকুরগাঁওয়ে নতুন এ সেবা চালুর ফলে জেলার বিচারপ্রার্থী ও জামিনপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের জন্য জামিন-পরবর্তী কারামুক্তির প্রক্রিয়া আরও সহজ, দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত হবে—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।




















