১৩ শিক্ষক-কর্মচারীর বিপরীতে বিদ্যালয়ে উপস্থিত মাত্র ৯ শিক্ষার্থী; এসএসসিতে অংশ নেওয়া ৫ জনের কেউই পাস করেনি
রুহিয়ায় ১৩ শিক্ষক-কর্মচারীর বিপরীতে ৫ পরীক্ষার্থী, এসএসসিতে পাসের হার শূন্য
- আপডেট সময় : ০৭:৪৫:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬ ২৭ বার পড়া হয়েছে

ঠাকুরগাঁও,রুহিয়া | ১১ আগস্ট ২০২৬: ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া উপজেলার মাধবপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। পাঁচজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে শতভাগ অকৃতকার্য হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির ফলাফল দাঁড়িয়েছে শূন্য।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নিম্ন মাধ্যমিক স্তরের এ প্রতিষ্ঠানটি বিশেষ অনুমোদনের মাধ্যমে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এবার পাঁচজন শিক্ষার্থীকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়। তবে প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, পরীক্ষায় অংশ নেওয়া পাঁচ শিক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেনি।
সরেজমিনে বিদ্যালয়টিতে গিয়ে জরাজীর্ণ ভৌত অবকাঠামো ও শিক্ষার অনুপযোগী পরিবেশের চিত্র দেখা যায়। বিদ্যালয়টিতে মোট ৮০ জন শিক্ষার্থী থাকার কথা থাকলেও পরিদর্শনের সময় উপস্থিত পাওয়া যায় মাত্র ৯ জনকে। সপ্তম শ্রেণিতে কোনো শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল না।
বিদ্যালয়টিতে শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন মোট ১৩ জন।
তাদের মধ্যে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকসহ চারজনকে পরিদর্শনের সময় অনুপস্থিত পাওয়া যায়। তবে উপস্থিত শিক্ষকরা অনুপস্থিতির বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করেন, বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জয়ন্তী রাণী জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে লবিংয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব নিয়েছেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, বিদ্যালয় পরিদর্শনের সময় হিন্দু ধর্মীয় বিষয়ের শিক্ষক মহেন্দ্র নাথ রায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবেদকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে। তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য শিক্ষক-কর্মচারীর সঙ্গেও তিনি প্রায়ই দুর্ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য জানতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জয়ন্তী রাণীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি এবং পাঠানো বার্তারও কোনো উত্তর দেননি।
রুহিয়া উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আরিফুল্লাহ বলেন, বিদ্যালয়টির ফলাফলের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, বিদ্যালয়টির শিক্ষার পরিবেশ ও ফলাফল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, শিক্ষার ন্যূনতম মান নিশ্চিত করা সম্ভব না হলে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পার্শ্ববর্তী সচল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হোক।
স্থানীয়দের মতে, একটি বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারী থাকার পরও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও ফলাফল এমন পর্যায়ে পৌঁছানো শিক্ষাব্যবস্থার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। বিষয়টি যথাযথভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।














