২২ জুলাই আদালতের স্থিতাবস্থা আদেশের পরও দুটি টিনের ঘর নির্মাণের অভিযোগ; পাল্টাপাল্টি মামলা ও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়ে উত্তেজনা
আদালতের স্থিতাবস্থা আদেশ অমান্য করে মহিপুরে বিরোধপূর্ণ জমিতে ফের স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০৯:০৮:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬ ৩৮ বার পড়া হয়েছে

আদালতের স্থিতাবস্থা আদেশের পরও মহিপুরে বিরোধপূর্ণ জমিতে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ
পটুয়াখালীর কলাপাড়ার মহিপুরে আদালতের স্থিতাবস্থা (স্ট্যাটাস কো) আদেশ থাকা একটি বিরোধপূর্ণ জমিতে ফের দুটি টিনের স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জমির মালিক দাবিদার মো. মজিবুর রহমানের পক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মজিবুর রহমানের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তার চাচি ফাতেমা বেগম।
লিখিত বক্তব্যে ফাতেমা বেগম বলেন, কলাপাড়া উপজেলার ইউসুফপুর মৌজার জে.এল. নং-২৭, বি.এস. দাগ নং-৩৭২ ও ৮১৬ এবং খতিয়ান নং-১২৯, ২৩০৩ ও ২০৭-এর মোট ১ দশমিক ২৫ একর জমি নিয়ে কলাপাড়া সিনিয়র সিভিল জজ আদালতে একটি দেওয়ানি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
তার দাবি, বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন করা হলে গত ২২ জুলাই আদালত উভয় পক্ষকে ওই জমির ওপর স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। আদালতের এ আদেশের পরও মো. ইমরান হাওলাদার, হানিফ, ইব্রাহিমসহ কয়েকজন এবং তাদের সঙ্গে থাকা লোকজন জমিতে প্রবেশ করে টিন ও কাঠ দিয়ে পাটাতন নির্মাণ করে দুটি ঘর তোলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ফাতেমা বেগম আরও বলেন, এর আগে স্থানীয়ভাবে সালিশ-মীমাংসার মাধ্যমে জমি নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি। পরে আবারও বিরোধপূর্ণ জমিতে স্থাপনা নির্মাণের ঘটনা ঘটে। এ সময় তাকে ও পরিবারের সদস্যদের গালিগালাজ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
একই জমি নিয়ে পাল্টাপাল্টি মামলা
এদিকে একই বিরোধকে কেন্দ্র করে ইমরান হাওলাদার বাদী হয়ে স্থানীয় ১০ জনকে আসামি করে চাঁদাবাজির মামলা করেছেন বলে জানা গেছে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত মামলার আসামি মাহাতাব মাওলানা ও শাহীন মীর অভিযোগ করেন, তাদের বিরুদ্ধে করা মামলাটি ‘মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক’। জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে তাদের মামলায় আসামি করা হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
তবে মামলার অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের বিষয়ে আদালতের বিচারাধীন কার্যক্রমের চূড়ান্ত ফলাফল পাওয়া যায়নি।
এর আগেও স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগে বিরোধপূর্ণ ওই জমিতে নির্মাণ করা দুটি ঘর মহিপুর থানা বিএনপির উদ্যোগে উচ্ছেদ করা হয়েছিল। সম্প্রতি একই জমিতে আবারও দুটি টিনের স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থাপনা নির্মাণের পেছনে স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তির সহযোগিতা ছিল বলেও অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এ অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এর আগে জুন মাসেও একই এলাকার জমি নিয়ে দখলচেষ্টা, স্থাপনা নির্মাণ, হামলা ও চাঁদাবাজির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলনের খবর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। তখন অভিযুক্ত ইমরান হাওলাদার অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছিলেন, তিনি নিজের জমিতে কাজ করেছেন এবং আদালতের কোনো নোটিশ পাননি।
বিএনপি ও পুলিশের বক্তব্য
এ বিষয়ে মহিপুর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহজাহান পারভেজ বলেন, উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হবে। তবে স্থাপনা নির্মাণের পেছনে বিএনপির কোনো ইন্ধন রয়েছে—এমন অভিযোগের বিষয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি।
ঘটনাস্থলে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে মজিবুর রহমানের পরিবারের পক্ষ থেকে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতা করেছে।
মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হাওলাদার বলেন, “বিষয়টি আদালতের বিষয়। আদালত নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। পুলিশ সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করেছে। শুক্রবার নামাজের সময় তারা ঘর উত্তোলন করেন। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়।”
আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় দুই পক্ষ
আদালতের স্থিতাবস্থা আদেশের পরও বিরোধপূর্ণ জমিতে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ, একই জমিকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি মামলা এবং রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগে এলাকায় উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে আদালতের আদেশ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, জমি নিয়ে বিরোধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি আদালতের মাধ্যমে হওয়ায় আদালতের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত কোনো পক্ষ যেন আইন নিজের হাতে তুলে না নেয়—এমন আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।














