মাদক পাচারের রুট বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা, প্রতিটি থানায় বসবে তথ্য বক্স; মাদক ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে আগ্রহীদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ
১৮ আগস্ট থেকে কুমিল্লায় মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান, কাউকে ছাড় নয়: গৃহায়নমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের
- আপডেট সময় : ১১:১৮:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬ ২২ বার পড়া হয়েছে

কুমিল্লা | ১১ আগস্ট ২০২৬: কুমিল্লায় মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযানের ঘোষণা দিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের। তিনি বলেছেন, আগামী ১৮ আগস্ট থেকে মাদকের বিরুদ্ধে কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি মাদক ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে আগ্রহীদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিকেলে কুমিল্লা টাউন হল মাঠে মাদকবিরোধী র্যালির আগে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে ধ্বংস করে না, এটি একটি পরিবার এবং পুরো সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। মাদক থেকে অপরাধ, সন্ত্রাস ও সামাজিক অবক্ষয় বাড়ে। তাই সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে মাদকের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছে। যুবসমাজকে মাদকের ভয়াল গ্রাস থেকে রক্ষা করতে ব্যাপক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মাদকবিরোধী আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ করা হবে।
কুমিল্লা মাদক পাচারের গুরুত্বপূর্ণ রুট:
কুমিল্লাকে মাদক পাচারের গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে উল্লেখ করে জাকারিয়া তাহের বলেন, সীমান্ত দিয়ে ইয়াবা, ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক কুমিল্লায় প্রবেশ করছে। পাশাপাশি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ককেও মাদক কারবারিরা পাচারের অন্যতম রুট হিসেবে ব্যবহার করছে। মাদক সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর বলেও জানান তিনি।
‘কুমিল্লায় কোনো মাদক কারবারিকে আশ্রয় দেওয়া যাবে না’—হুঁশিয়ারি দিয়ে মন্ত্রী বলেন, জেলা পুলিশের পাশাপাশি বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন, পেশাজীবী, গণমাধ্যমকর্মীসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে হবে।
প্রতিটি থানায় থাকবে তথ্য বক্স:
মাদকবিরোধী অভিযান আরও কার্যকর করতে কুমিল্লার প্রতিটি থানায় একটি করে তথ্য বক্স স্থাপন করা হবে বলেও জানান গৃহায়নমন্ত্রী। এসব তথ্য বক্সে মাদক ব্যবসায়ী ও পাচারকারীদের বিষয়ে তথ্য দেওয়ার সুযোগ থাকবে।
মাদক ব্যবসা ছেড়ে যারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চান, তাদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীরা সঠিক পথে ফিরে আসবেন—এটাই প্রত্যাশা। তবে যারা মাদক ব্যবসা অব্যাহত রাখবেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ধারাবাহিক সামাজিক আন্দোলনের ঘোষণা:
জাকারিয়া তাহের বলেন, মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া মাদকবিরোধী কর্মসূচি কুমিল্লার প্রতিটি প্রান্তে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। এটি কোনো একদিনের কর্মসূচি নয়; বরং একটি ধারাবাহিক সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়া হবে।
মাদকমুক্ত কুমিল্লা গড়তে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী, পেশাজীবী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, যুবসমাজ ও সুশীল সমাজসহ সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে এই লড়াই শুধু পুলিশের নয়, এটি পুরো সমাজের লড়াই। কুমিল্লা জেলা পুলিশ সামনে থেকে নেতৃত্ব দেবে এবং তাদের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে সবাইকে।
বর্ণাঢ্য র্যালি
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু, কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মিজ্ রোজী আক্তার, কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান উদবাতুল বারী আবু, কুমিল্লা ওয়াসার চেয়ারম্যান আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম এবং কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মুস্তাক মিয়া।
আলোচনা শেষে কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য মাদকবিরোধী র্যালি বের হয়। র্যালিটি নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় টাউন হল মাঠে এসে শেষ হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান।














