৬৮ পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ ৬৬, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১০ জন; শিক্ষকদের হোম মনিটরিং ও বিশেষ ক্লাসকে সাফল্যের অন্যতম কারণ বলছে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ।
মেধাবিকাশে অনন্য রুহিয়ার ব্রাইট স্টার কেজি অ্যান্ড মডেল স্কুল, এসএসসিতে ৯৭ শতাংশ পাস
- আপডেট সময় : ০৮:০৫:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬ ২০ বার পড়া হয়েছে

রুহিয়া (ঠাকুরগাঁও) | ১০ আগস্ট ২০২৬: ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্রাইট স্টার কেজি অ্যান্ড মডেল স্কুল এবারের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় ঈর্ষণীয় ফলাফল অর্জন করেছে। প্রতিষ্ঠানটি থেকে এ বছর ৬৮ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৬৬ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। এর মধ্যে ১০ জন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ ফলাফল জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। ফলে প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৭ শতাংশ।
১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ব্রাইট স্টার কেজি অ্যান্ড মডেল স্কুল রুহিয়া অঞ্চলে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে আসছে। শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ, সুশিক্ষা, নিয়মিত পাঠদান ও যথাযথ দিকনির্দেশনার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয়ভাবে অভিভাবক ও এলাকাবাসীর আস্থা অর্জন করেছে।
এবারের এসএসসি ফলাফলেও প্রতিষ্ঠানটির ধারাবাহিক সাফল্যের প্রতিফলন ঘটেছে। ৬৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬৬ জনের উত্তীর্ণ হওয়া এবং ১০ জনের জিপিএ-৫ অর্জনকে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল হিসেবে দেখছেন প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা।
প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ আশ্বিনী চন্দ্র বর্মন জানান, শিক্ষার্থীদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনের লক্ষ্যে শিক্ষকরা শুরু থেকেই নিবিড়ভাবে কাজ করেছেন। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও সার্বিক প্রস্তুতির তদারকিতে প্রতিটি শিক্ষকের অধীনে চারজন করে শিক্ষার্থী ভাগ করে নিয়মিত হোম মনিটরিং করা হয়েছে। পাশাপাশি পিছিয়ে পড়া ও তুলনামূলক দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ও বিশেষ ক্লাসের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
অধ্যক্ষ বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণ, নিয়মিত দিকনির্দেশনা এবং দুর্বল শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়ার কারণে ফলাফলে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তবে ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল অর্জনই তাঁদের লক্ষ্য।
প্রতিষ্ঠানের ধারাবাহিক সাফল্যের বিষয়ে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও গিন্নিদেবী আগরওয়াল মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা বলেন, শিক্ষকদের সুপরিকল্পিত হোম মনিটরিং, নিয়মিত দিকনির্দেশনা এবং সার্বক্ষণিক তদারকি এ সাফল্যের অন্যতম প্রধান কারণ।
তিনি আরও জানান, গ্রামাঞ্চলের পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় এগিয়ে নিতে প্রতিষ্ঠানটিতে উন্নত হোস্টেল সুবিধা ও আলাদা যত্নের ব্যবস্থা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি তাদের সার্বিক বিকাশের দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
গোলাম মোস্তফা আশা প্রকাশ করেন, যথাযথ সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, আর্থিক সহায়তা ও প্রয়োজনীয় সুবিধা পেলে ব্রাইট স্টার কেজি অ্যান্ড মডেল স্কুল ভবিষ্যতে রুহিয়াসহ অবহেলিত অঞ্চলে শিক্ষার প্রসারে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টদের মতে, এবারের এসএসসি পরীক্ষায় ৯৭ শতাংশের কাছাকাছি পাসের হার এবং ১০ জন শিক্ষার্থীর জিপিএ-৫ অর্জন শুধু একটি ফলাফল নয়; বরং শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত প্রচেষ্টার একটি ইতিবাচক প্রতিফলন।














