চট্টগ্রাম ০৩:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিঃ
বর্তমান সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় আধুনিক সকল ফিচার যুক্ত  জাতীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং মাল্টিমিডিয়া দৈনিক সারাদেশ ৭১  নিউজ পোর্টালে আপনাকে স্বাগতম। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিবন্ধনের আবেদনের  জন্য অপেক্ষমান দেশের অন্যতম প্রথম সারির অনলাইন পোর্টাল ও মাল্টিমিডিয়ার জন্য সংবাদদাতা আবশ্যক, বিশেষ সংবাদদাতা (৪),  ক্রাইম রিপোর্টার (৫), স্টাফ রিপোর্টার (১০), বিভাগীয় ব্যুরো (৩) উপজেলা প্রতিনিধি (১০), বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি (৪),  মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার (সকল জেলা ও উপজেলার জন্য) (১০) ইউনিয়ন প্রতিনিধি (৫)  আবেদনের জন্য সিভি, জাতীয় পরিচয় পত্র, আবেদন পাঠাবেন saradesh71@gmail.com এই মেইলে।
সংবাদ শিরোনামঃ
বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে হরিরামপুরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হাতীবান্ধা-পাটগ্রামে বিজিবির পৃথক অভিযান, উদ্ধার ভারতীয় পণ্য নজরুল বর্ষ ঘিরে পীরগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজন বিদ্রোহী কবির চেতনায় উখিয়ায় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা নওগাঁয় ডিবি পুলিশের অভিযানে ৪২ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ১ পটিয়ায় পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতি, দুই প্রবাসীর ঘরে লুট: স্বর্ণ-নগদ টাকা ও সিসিটিভির হার্ডডিস্ক নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ কচুয়ায় ২৫ পিস ইয়াবাসহ ৩ জন গ্রেপ্তার, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা উখিয়ায় রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিয়ে অংশীজন সংলাপ জননিরাপত্তায় দক্ষ SWAT গড়তে চট্টগ্রামে বিশেষ প্রশিক্ষণ বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে কবি নজরুলের বিকল্প নেই: কটিয়াদীতে ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬’-এর উদ্বোধন

কুড়িগ্রাম, কুড়িগ্রামের খবর, ব্রহ্মপুত্র নদ, ব্রহ্মপুত্র নদীভাঙন, নদীভাঙন, চিলমারী, রৌমারী, রাজিবপুর, কোদালকাটি, জিও ব্যাগ, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, নদীভাঙন প্রতিরোধ, কুড়িগ্রাম নদীভাঙন

ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে নদীর পেটে জনপদ, ভিটেমাটি হারানোর আতঙ্কে চিলমারী-রৌমারী-কোদালকাটির মানুষ

মো. শাহরিয়ার
  • আপডেট সময় : ০৮:০১:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬ ৭৪ বার পড়া হয়েছে
সারাদেশ ৭১ নিউজ – নির্ভরযোগ্য অনলাইন সংবাদ মাধ্যম গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কুড়িগ্রাম | ৮ আগস্ট ২০২৬: কুড়িগ্রামের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ব্রহ্মপুত্র নদের অব্যাহত ভাঙনে ক্রমেই বিলীন হচ্ছে নদীতীরবর্তী জনপদের বিস্তীর্ণ ভূখণ্ড। নদীর তীব্র ভাঙনে চিলমারী, রৌমারী ও চর রাজিবপুর উপজেলার কোদালকাটি এলাকার বসতভিটা, ফসলি জমি, রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা হুমকির মুখে পড়েছে। ভিটেমাটি হারানোর আতঙ্কে দিন কাটছে নদীতীরবর্তী এসব এলাকার মানুষের।

নদীভাঙনের পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এমপি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সুরাইয়া জেরিন রনি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী এবং চিলমারী, রৌমারী ও কোদালকাটি এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা।

পরিদর্শনকালে নদীতীরবর্তী মানুষ তাদের দুর্ভোগ ও ভাঙনকবলিত এলাকার পরিস্থিতি প্রতিমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। স্থানীয়রা জানান, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম এলেই ব্রহ্মপুত্রের ভাঙন নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। নদীর তীব্র স্রোতে একের পর এক ফসলি জমি ও বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেক পরিবার তাদের জমি হারিয়েছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে আরও বহু পরিবারকে বসতভিটা হারিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

স্থানীয়দের দাবি, ভাঙনপ্রবণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে সাময়িক প্রতিরোধের পরিবর্তে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন থেকে দীর্ঘমেয়াদে জনপদ রক্ষায় কার্যকর ও টেকসই মহাপরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “নদী আমাদের শুধু জমি কেড়ে নিচ্ছে না, বাপ-দাদার ভিটাও কেড়ে নিচ্ছে। এই মাটির সঙ্গে আমাদের জীবন ও স্মৃতি জড়িয়ে আছে।ভিটাটুকু হারালে আমাদের যাওয়ার জায়গা থাকবে না।”

স্থানীয়রা আরও জানান, নদীভাঙনের কারণে প্রতিবছর নতুন করে জমি হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়। স্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা না থাকায় নদীর গতিপথ পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নতুন নতুন এলাকা ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। তাই দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এমপি নদীভাঙন মোকাবিলায় আরও মহাপরিকল্পনা গ্রহণের আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, নদীভাঙন রোধে সরকার বেশ কয়েকটি পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। প্রয়োজন অনুযায়ী জিও ব্যাগ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে নদীভাঙন থেকে মানুষের ঘরবাড়ি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রতিমন্ত্রীর সরেজমিন পরিদর্শন ও আশ্বাসে নদীতীরবর্তী মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। তবে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত জিও ব্যাগ স্থাপনসহ প্রতিরোধমূলক কাজ শুরু হবে এবং দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙন থেকে রক্ষা পাবে তাদের জনপদ।
চিলমারী, রৌমারী ও কোদালকাটির মানুষের এখন একটাই প্রত্যাশা—নদীভাঙনের কবল থেকে রক্ষা পাক তাদের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও বাপ-দাদার ভিটেমাটি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কুড়িগ্রাম, কুড়িগ্রামের খবর, ব্রহ্মপুত্র নদ, ব্রহ্মপুত্র নদীভাঙন, নদীভাঙন, চিলমারী, রৌমারী, রাজিবপুর, কোদালকাটি, জিও ব্যাগ, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, নদীভাঙন প্রতিরোধ, কুড়িগ্রাম নদীভাঙন

ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে নদীর পেটে জনপদ, ভিটেমাটি হারানোর আতঙ্কে চিলমারী-রৌমারী-কোদালকাটির মানুষ

আপডেট সময় : ০৮:০১:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

কুড়িগ্রাম | ৮ আগস্ট ২০২৬: কুড়িগ্রামের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ব্রহ্মপুত্র নদের অব্যাহত ভাঙনে ক্রমেই বিলীন হচ্ছে নদীতীরবর্তী জনপদের বিস্তীর্ণ ভূখণ্ড। নদীর তীব্র ভাঙনে চিলমারী, রৌমারী ও চর রাজিবপুর উপজেলার কোদালকাটি এলাকার বসতভিটা, ফসলি জমি, রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা হুমকির মুখে পড়েছে। ভিটেমাটি হারানোর আতঙ্কে দিন কাটছে নদীতীরবর্তী এসব এলাকার মানুষের।

নদীভাঙনের পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এমপি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সুরাইয়া জেরিন রনি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী এবং চিলমারী, রৌমারী ও কোদালকাটি এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা।

পরিদর্শনকালে নদীতীরবর্তী মানুষ তাদের দুর্ভোগ ও ভাঙনকবলিত এলাকার পরিস্থিতি প্রতিমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। স্থানীয়রা জানান, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম এলেই ব্রহ্মপুত্রের ভাঙন নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। নদীর তীব্র স্রোতে একের পর এক ফসলি জমি ও বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেক পরিবার তাদের জমি হারিয়েছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে আরও বহু পরিবারকে বসতভিটা হারিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

স্থানীয়দের দাবি, ভাঙনপ্রবণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে সাময়িক প্রতিরোধের পরিবর্তে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন থেকে দীর্ঘমেয়াদে জনপদ রক্ষায় কার্যকর ও টেকসই মহাপরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “নদী আমাদের শুধু জমি কেড়ে নিচ্ছে না, বাপ-দাদার ভিটাও কেড়ে নিচ্ছে। এই মাটির সঙ্গে আমাদের জীবন ও স্মৃতি জড়িয়ে আছে।ভিটাটুকু হারালে আমাদের যাওয়ার জায়গা থাকবে না।”

স্থানীয়রা আরও জানান, নদীভাঙনের কারণে প্রতিবছর নতুন করে জমি হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়। স্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা না থাকায় নদীর গতিপথ পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নতুন নতুন এলাকা ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। তাই দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এমপি নদীভাঙন মোকাবিলায় আরও মহাপরিকল্পনা গ্রহণের আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, নদীভাঙন রোধে সরকার বেশ কয়েকটি পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। প্রয়োজন অনুযায়ী জিও ব্যাগ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে নদীভাঙন থেকে মানুষের ঘরবাড়ি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রতিমন্ত্রীর সরেজমিন পরিদর্শন ও আশ্বাসে নদীতীরবর্তী মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। তবে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত জিও ব্যাগ স্থাপনসহ প্রতিরোধমূলক কাজ শুরু হবে এবং দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙন থেকে রক্ষা পাবে তাদের জনপদ।
চিলমারী, রৌমারী ও কোদালকাটির মানুষের এখন একটাই প্রত্যাশা—নদীভাঙনের কবল থেকে রক্ষা পাক তাদের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও বাপ-দাদার ভিটেমাটি।