মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা ও অবৈধ আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ; এএসআইয়ের দাবি, অভিযোগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত
মৌলভীবাজারে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ: শেরপুর ফাঁড়ির এএসআই শফিকুলকে ক্লোজ করে পুলিশ লাইনে
- আপডেট সময় : ০২:২৭:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬ ৩৮ বার পড়া হয়েছে

মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুর পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শফিকুল ইসলাম শফিককে ক্লোজ করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা ও মাদকের আস্তানা থেকে অবৈধভাবে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ ওঠার পরিপ্রেক্ষিতে জেলা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ৩১ জুলাই ২০২৬ তারিখের একটি আদেশে এএসআই শফিকুল ইসলামকে শেরপুর পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্ব থেকে সরিয়ে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়। তবে অভিযোগের বিষয়ে কোনো তদন্ত প্রতিবেদন বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।
বিষয়টি শেরপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই ওবায়দুল হাসান নিশ্চিত করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মৌলভীবাজার সদর উপজেলার সরকার বাজার এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল। বিভিন্ন সময় এ বিষয়ে পুলিশকে অবহিত করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে স্থানীয় কয়েকজনের দাবি। তাদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হতো।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, গত ৩১ জুলাই সরকার বাজার এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মজনু মিয়াসহ কয়েকজনকে স্থানীয় বাসিন্দারা আটক করেন। এ সময় তাদের কাছ থেকে গাঁজা ও ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। খবর পেয়ে মৌলভীবাজার সদর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আটক ব্যক্তিদের হেফাজতে নেয়। পরে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাদের থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় কয়েকজন পুলিশের উপস্থিতিতেই এএসআই শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ তোলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে তাকে শেরপুর পুলিশ ফাঁড়ি থেকে ক্লোজ করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে জানা যায়।
তবে এএসআই শফিকুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। মুঠোফোনে তিনি বলেন, লন্ডনপ্রবাসী সোহাগের এক ভাইকে পূর্বে আটক করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি ক্ষোভের শিকার হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে তিনি বলেন, তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।
উল্লেখ্য, প্রশাসনিকভাবে কোনো পুলিশ সদস্যকে ক্লোজ বা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হলে তা নিজেই অপরাধ প্রমাণের সমতুল্য নয়। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও পরবর্তী সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ।














