যমুনার প্রবল স্রোতে শহড়াবাড়ি স্পারের আরও ৬৫ মিটার নদীগর্ভে বিলীন; বসতভিটা ও কৃষিজমি রক্ষায় জিওব্যাগ ফেলছে পাউবো
যমুনার ভাঙনে ধুনটে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ হুমকিতে, উদ্বেগে হাজারো পরিবার
- আপডেট সময় : ১০:৪১:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬ ৩২ বার পড়া হয়েছে

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় যমুনা নদীর ভয়াবহ ভাঙন আবারও নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নের শহড়াবাড়ি স্পারের প্রায় ৬৫ মিটার অংশ প্রবল স্রোতের তোড়ে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, বসতভিটা, ফসলি জমি ও স্থানীয় অবকাঠামো মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
এর আগে গত ১২ জুলাই একই স্পারের সামনের প্রায় ৫০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছিল। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে পুনরায় বড় ধরনের ভাঙন দেখা দেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। নদীপাড়ের অনেক পরিবার ইতোমধ্যে ঘরবাড়ি, গবাদিপশু ও প্রয়োজনীয় মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে শুরু করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত দুই মাস ধরে প্রায় প্রতিদিনই যমুনা নদীর পাড় ধসে পড়ছে। দিন-রাত নদীভাঙনের শব্দে আতঙ্কে কাটছে তাদের জীবন। অনেকে ভিটেমাটি হারিয়ে বাঁধের ওপর কিংবা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে অস্থায়ীভাবে আশ্রয় নিয়েছেন। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম এলেই যমুনার ভাঙনে সর্বস্ব হারাতে হচ্ছে অসংখ্য পরিবারকে।
বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে যমুনা নদীর পানি ধীরে ধীরে কমছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নদীর পানি ১৫ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ৮৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে নদীতে প্রবল স্রোত ও ঘূর্ণাবর্ত সৃষ্টি হওয়ায় বাঁধের গোড়ায় তীব্র চাপ তৈরি হচ্ছে, যা ভাঙনের অন্যতম কারণ।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের আশ্বাস দেওয়া হলেও কার্যকর উদ্যোগের অভাবে প্রতি বছরই নতুন নতুন এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। বসতভিটা, কৃষিজমি, গাছপালা ও গ্রামীণ অবকাঠামো হারিয়ে অনেক পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে।
এদিকে বর্তমান গতিতে ভাঙন অব্যাহত থাকলে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধও বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হলে ধুনট উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা নতুন করে বন্যা ও নদীভাঙনের ঝুঁকিতে পড়বে।
বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, শহড়াবাড়ি স্পারের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে জরুরি ভিত্তিতে বালুভর্তি জিওব্যাগ ও জিওটিউব ফেলে ভাঙন নিয়ন্ত্রণের কাজ চলছে। প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রয়েছে।
নদীপাড়ের মানুষের প্রত্যাশা, অস্থায়ী প্রতিরোধ নয়—যমুনা নদীর ভাঙন রোধে দ্রুত একটি টেকসই ও স্থায়ী নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হোক, যাতে প্রতিবছর আর কোনো পরিবারকে ভিটেমাটি হারিয়ে দুর্ভোগে পড়তে না হয়।














