চট্টগ্রাম ০১:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিঃ
বর্তমান সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় আধুনিক সকল ফিচার যুক্ত  জাতীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং মাল্টিমিডিয়া দৈনিক সারাদেশ ৭১  নিউজ পোর্টালে আপনাকে স্বাগতম। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিবন্ধনের আবেদনের  জন্য অপেক্ষমান দেশের অন্যতম প্রথম সারির অনলাইন পোর্টাল ও মাল্টিমিডিয়ার জন্য সংবাদদাতা আবশ্যক, বিশেষ সংবাদদাতা (৪),  ক্রাইম রিপোর্টার (৫), স্টাফ রিপোর্টার (১০), বিভাগীয় ব্যুরো (৩) উপজেলা প্রতিনিধি (১০), বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি (৪),  মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার (সকল জেলা ও উপজেলার জন্য) (১০) ইউনিয়ন প্রতিনিধি (৫)  আবেদনের জন্য সিভি, জাতীয় পরিচয় পত্র, আবেদন পাঠাবেন saradesh71@gmail.com এই মেইলে।
সংবাদ শিরোনামঃ
বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে হরিরামপুরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হাতীবান্ধা-পাটগ্রামে বিজিবির পৃথক অভিযান, উদ্ধার ভারতীয় পণ্য নজরুল বর্ষ ঘিরে পীরগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজন বিদ্রোহী কবির চেতনায় উখিয়ায় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা নওগাঁয় ডিবি পুলিশের অভিযানে ৪২ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ১ পটিয়ায় পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতি, দুই প্রবাসীর ঘরে লুট: স্বর্ণ-নগদ টাকা ও সিসিটিভির হার্ডডিস্ক নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ কচুয়ায় ২৫ পিস ইয়াবাসহ ৩ জন গ্রেপ্তার, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা উখিয়ায় রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিয়ে অংশীজন সংলাপ জননিরাপত্তায় দক্ষ SWAT গড়তে চট্টগ্রামে বিশেষ প্রশিক্ষণ বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে কবি নজরুলের বিকল্প নেই: কটিয়াদীতে ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬’-এর উদ্বোধন

যমুনার প্রবল স্রোতে শহড়াবাড়ি স্পারের আরও ৬৫ মিটার নদীগর্ভে বিলীন; বসতভিটা ও কৃষিজমি রক্ষায় জিওব্যাগ ফেলছে পাউবো

যমুনার ভাঙনে ধুনটে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ হুমকিতে, উদ্বেগে হাজারো পরিবার

মোঃ আব্দুল আলীম,জেলা প্রতিনিধি বগুড়া
  • আপডেট সময় : ১০:৪১:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬ ৩২ বার পড়া হয়েছে
সারাদেশ ৭১ নিউজ – নির্ভরযোগ্য অনলাইন সংবাদ মাধ্যম গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় যমুনা নদীর ভয়াবহ ভাঙন আবারও নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নের শহড়াবাড়ি স্পারের প্রায় ৬৫ মিটার অংশ প্রবল স্রোতের তোড়ে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, বসতভিটা, ফসলি জমি ও স্থানীয় অবকাঠামো মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

এর আগে গত ১২ জুলাই একই স্পারের সামনের প্রায় ৫০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছিল। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে পুনরায় বড় ধরনের ভাঙন দেখা দেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। নদীপাড়ের অনেক পরিবার ইতোমধ্যে ঘরবাড়ি, গবাদিপশু ও প্রয়োজনীয় মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে শুরু করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত দুই মাস ধরে প্রায় প্রতিদিনই যমুনা নদীর পাড় ধসে পড়ছে। দিন-রাত নদীভাঙনের শব্দে আতঙ্কে কাটছে তাদের জীবন। অনেকে ভিটেমাটি হারিয়ে বাঁধের ওপর কিংবা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে অস্থায়ীভাবে আশ্রয় নিয়েছেন। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম এলেই যমুনার ভাঙনে সর্বস্ব হারাতে হচ্ছে অসংখ্য পরিবারকে।

বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে যমুনা নদীর পানি ধীরে ধীরে কমছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নদীর পানি ১৫ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ৮৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে নদীতে প্রবল স্রোত ও ঘূর্ণাবর্ত সৃষ্টি হওয়ায় বাঁধের গোড়ায় তীব্র চাপ তৈরি হচ্ছে, যা ভাঙনের অন্যতম কারণ।

স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের আশ্বাস দেওয়া হলেও কার্যকর উদ্যোগের অভাবে প্রতি বছরই নতুন নতুন এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। বসতভিটা, কৃষিজমি, গাছপালা ও গ্রামীণ অবকাঠামো হারিয়ে অনেক পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে।

এদিকে বর্তমান গতিতে ভাঙন অব্যাহত থাকলে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধও বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হলে ধুনট উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা নতুন করে বন্যা ও নদীভাঙনের ঝুঁকিতে পড়বে।

বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, শহড়াবাড়ি স্পারের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে জরুরি ভিত্তিতে বালুভর্তি জিওব্যাগ ও জিওটিউব ফেলে ভাঙন নিয়ন্ত্রণের কাজ চলছে। প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রয়েছে।

নদীপাড়ের মানুষের প্রত্যাশা, অস্থায়ী প্রতিরোধ নয়—যমুনা নদীর ভাঙন রোধে দ্রুত একটি টেকসই ও স্থায়ী নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হোক, যাতে প্রতিবছর আর কোনো পরিবারকে ভিটেমাটি হারিয়ে দুর্ভোগে পড়তে না হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

যমুনার প্রবল স্রোতে শহড়াবাড়ি স্পারের আরও ৬৫ মিটার নদীগর্ভে বিলীন; বসতভিটা ও কৃষিজমি রক্ষায় জিওব্যাগ ফেলছে পাউবো

যমুনার ভাঙনে ধুনটে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ হুমকিতে, উদ্বেগে হাজারো পরিবার

আপডেট সময় : ১০:৪১:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় যমুনা নদীর ভয়াবহ ভাঙন আবারও নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নের শহড়াবাড়ি স্পারের প্রায় ৬৫ মিটার অংশ প্রবল স্রোতের তোড়ে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, বসতভিটা, ফসলি জমি ও স্থানীয় অবকাঠামো মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

এর আগে গত ১২ জুলাই একই স্পারের সামনের প্রায় ৫০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছিল। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে পুনরায় বড় ধরনের ভাঙন দেখা দেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। নদীপাড়ের অনেক পরিবার ইতোমধ্যে ঘরবাড়ি, গবাদিপশু ও প্রয়োজনীয় মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে শুরু করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত দুই মাস ধরে প্রায় প্রতিদিনই যমুনা নদীর পাড় ধসে পড়ছে। দিন-রাত নদীভাঙনের শব্দে আতঙ্কে কাটছে তাদের জীবন। অনেকে ভিটেমাটি হারিয়ে বাঁধের ওপর কিংবা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে অস্থায়ীভাবে আশ্রয় নিয়েছেন। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম এলেই যমুনার ভাঙনে সর্বস্ব হারাতে হচ্ছে অসংখ্য পরিবারকে।

বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে যমুনা নদীর পানি ধীরে ধীরে কমছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নদীর পানি ১৫ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ৮৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে নদীতে প্রবল স্রোত ও ঘূর্ণাবর্ত সৃষ্টি হওয়ায় বাঁধের গোড়ায় তীব্র চাপ তৈরি হচ্ছে, যা ভাঙনের অন্যতম কারণ।

স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের আশ্বাস দেওয়া হলেও কার্যকর উদ্যোগের অভাবে প্রতি বছরই নতুন নতুন এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। বসতভিটা, কৃষিজমি, গাছপালা ও গ্রামীণ অবকাঠামো হারিয়ে অনেক পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে।

এদিকে বর্তমান গতিতে ভাঙন অব্যাহত থাকলে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধও বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হলে ধুনট উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা নতুন করে বন্যা ও নদীভাঙনের ঝুঁকিতে পড়বে।

বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, শহড়াবাড়ি স্পারের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে জরুরি ভিত্তিতে বালুভর্তি জিওব্যাগ ও জিওটিউব ফেলে ভাঙন নিয়ন্ত্রণের কাজ চলছে। প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রয়েছে।

নদীপাড়ের মানুষের প্রত্যাশা, অস্থায়ী প্রতিরোধ নয়—যমুনা নদীর ভাঙন রোধে দ্রুত একটি টেকসই ও স্থায়ী নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হোক, যাতে প্রতিবছর আর কোনো পরিবারকে ভিটেমাটি হারিয়ে দুর্ভোগে পড়তে না হয়।