অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, মশা-মাছির উপদ্রব ও কর্মীদের আচরণ নিয়ে ক্ষোভ; ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের হস্তক্ষেপ দাবি
নাগেশ্বরীর ‘বগুড়া দই ঘর’-এ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ, তদন্তের দাবি
- আপডেট সময় : ০৩:২০:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬ ৫৮ বার পড়া হয়েছে

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার পৌর শহরের মুক্তিযোদ্ধা অফিসের পূর্ব পাশে অবস্থিত ‘বগুড়া দই ঘর’ নামের একটি খাবারের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, মশা-মাছির উপদ্রব এবং কর্মীদের অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন সচেতন নাগরিকরা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শনিবার (২৫ জুলাই) রাত প্রায় ৯টা ৪৫ মিনিটে এক গ্রাহক প্রতিষ্ঠানটির একটি কেবিনে বসে খাবার খাওয়ার সময় অতিরিক্ত মশা ও মাছির কারণে চরম ভোগান্তির শিকার হন। তিনি দায়িত্বরত ওয়েটারের কাছে মশা তাড়ানোর জন্য স্প্রে বা কয়েলের ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানান। তবে কিছুক্ষণ পর ওয়েটার এসে জানান, এ বিষয়ে তাদের কোনো ব্যবস্থা নেই।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, পরে পানি পরিবেশন করতে আসা এক কর্মীর শরীর ঘামে ভেজা ছিল। পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তিনি অন্য কাউকে পাঠানোর অনুরোধ করলে ওই কর্মীকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
খাবার শেষে বিল পরিশোধের সময় গ্রাহক প্রতিষ্ঠানটিতে মশা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা রাখার পরামর্শ দিলে কাউন্টারে দায়িত্বরত ক্যাশিয়ার উত্তেজিত হয়ে অশালীন ভাষায় কথা বলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। ঘটনাটি উপস্থিত অন্য গ্রাহকদেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দোকানের ভেতর ও বাইরের পরিবেশ অপরিচ্ছন্ন। মেঝেজুড়ে ব্যবহৃত টিস্যুসহ বিভিন্ন ধরনের আবর্জনা পড়ে থাকতে দেখা যায়। এছাড়া মশা ও মাছির উপদ্রবও লক্ষ্য করা যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না এবং গ্রাহকসেবার মান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বলেন, জনপ্রিয় একটি খাদ্য প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, নিরাপদ খাদ্য পরিবেশন এবং গ্রাহকদের সঙ্গে শালীন আচরণ নিশ্চিত করা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। তারা নাগেশ্বরী বাজার মনিটরিং কমিটি ও জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ এবং প্রচলিত স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী খাদ্য পরিবেশনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখা এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান ‘বগুড়া দই ঘর’-এর কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী সময়ে প্রকাশ করা হবে।























