মৌলভীবাজারে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ‘নজরুল বর্ষ (২০২৬-২০২৭)’ উদ্বোধন; বছরজুড়ে সাংস্কৃতিক কর্মসূচির ঘোষণা
মৌলভীবাজারে নজরুল বর্ষ ২০২৬-২৭ উদ্বোধন, বছরজুড়ে নানা সাংস্কৃতিক কর্মসূচি
- আপডেট সময় : ১১:৪৩:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬ ৬২ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংগীত, মানবতাবাদ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মৌলভীবাজার-৩ (সদর-রাজনগর) আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এম নাসের রহমান। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে সাম্য, মানবিকতা ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠায় নজরুলের দর্শন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও বেশি প্রাসঙ্গিক।
রোববার (৫ জুলাই) বিকেলে মৌলভীবাজার পৌর মুক্তমঞ্চে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ‘নজরুল বর্ষ (২০২৬-২০২৭)’-এর উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এম নাসের রহমান বলেন, “নজরুলের চেতনার কোনো মৃত্যু নেই। অসাম্প্রদায়িক, মানবিক ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে তাঁর দর্শন আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। কাজী নজরুল ইসলাম কেবল বাংলা সাহিত্যের একজন কবি নন; তিনি সাম্য, দ্রোহ, প্রেম, মানবতা ও সম্প্রীতির অবিসংবাদিত কণ্ঠস্বর। তাঁর সাহিত্য, সংগীত ও দর্শন যুগে যুগে মানুষকে অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর শক্তি যুগিয়েছে।”
তিনি বক্তব্যে জাতীয় কবির জীবনের একটি অধ্যায় স্মরণ করে বলেন, “১৯৭৬ সালের দিকে ভারত সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে কবিকে বাংলাদেশে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গ থেকে বাংলাদেশে আসার কিছুদিন পরই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নজরুলের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও আকর্ষণ ছিল।”
তবে ইতিহাস অনুযায়ী, কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ সরকার ১৯৭২ সালে বাংলাদেশে নিয়ে আসে এবং তাঁকে বাংলাদেশের জাতীয় কবির মর্যাদা প্রদান করা হয়। তিনি ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক জানান, নজরুল বর্ষ উপলক্ষে বছরজুড়ে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আলোচনা সভা, সাহিত্য পাঠ, নজরুলসংগীত, আবৃত্তি, রচনা প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কর্মশালা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হবে।
তিনি বলেন, প্রশাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সুশীল সমাজের সমন্বয়ে জাতীয় কবির সাহিত্য, সংগীত ও মানবিক দর্শন তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবুল খায়েরসহ জেলার বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, সাহিত্যিক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং সুধীজন।
আলোচনা সভা শেষে স্থানীয় ও আমন্ত্রিত শিল্পীদের পরিবেশনায় নজরুলসংগীত, কবিতা আবৃত্তি এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। দেশাত্মবোধ, সাম্য, প্রেম ও মানবতার বাণীতে সমৃদ্ধ পরিবেশনাগুলো দর্শকদের মুগ্ধ করে।
অনুষ্ঠানস্থলে বিভিন্ন বয়সী মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি নজরুলচর্চার প্রতি মানুষের আগ্রহেরই বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা যায়।
বক্তারা বলেন, বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির অন্যতম শ্রেষ্ঠ নির্মাতা কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংগীত ও মানবিক দর্শনের চর্চা যত বিস্তৃত হবে, ততই সমাজে অসাম্প্রদায়িকতা, সম্প্রীতি, ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধ আরও সুদৃঢ় হবে। এ লক্ষ্যেই ‘নজরুল বর্ষ (২০২৬-২০২৭)’ উদযাপনকে একটি সাংস্কৃতিক আন্দোলনে রূপ দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন আয়োজকরা।





















