চট্টগ্রাম ০২:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিঃ
বর্তমান সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় আধুনিক সকল ফিচার যুক্ত  জাতীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং মাল্টিমিডিয়া দৈনিক সারাদেশ ৭১  নিউজ পোর্টালে আপনাকে স্বাগতম। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিবন্ধনের আবেদনের  জন্য অপেক্ষমান দেশের অন্যতম প্রথম সারির অনলাইন পোর্টাল ও মাল্টিমিডিয়ার জন্য সংবাদদাতা আবশ্যক, বিশেষ সংবাদদাতা (৪),  ক্রাইম রিপোর্টার (৫), স্টাফ রিপোর্টার (১০), বিভাগীয় ব্যুরো (৩) উপজেলা প্রতিনিধি (১০), বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি (৪),  মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার (সকল জেলা ও উপজেলার জন্য) (১০) ইউনিয়ন প্রতিনিধি (৫)  আবেদনের জন্য সিভি, জাতীয় পরিচয় পত্র, আবেদন পাঠাবেন saradesh71@gmail.com এই মেইলে।
সংবাদ শিরোনামঃ
বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে হরিরামপুরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হাতীবান্ধা-পাটগ্রামে বিজিবির পৃথক অভিযান, উদ্ধার ভারতীয় পণ্য নজরুল বর্ষ ঘিরে পীরগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজন বিদ্রোহী কবির চেতনায় উখিয়ায় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা নওগাঁয় ডিবি পুলিশের অভিযানে ৪২ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ১ পটিয়ায় পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতি, দুই প্রবাসীর ঘরে লুট: স্বর্ণ-নগদ টাকা ও সিসিটিভির হার্ডডিস্ক নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ কচুয়ায় ২৫ পিস ইয়াবাসহ ৩ জন গ্রেপ্তার, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা উখিয়ায় রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিয়ে অংশীজন সংলাপ জননিরাপত্তায় দক্ষ SWAT গড়তে চট্টগ্রামে বিশেষ প্রশিক্ষণ বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে কবি নজরুলের বিকল্প নেই: কটিয়াদীতে ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬’-এর উদ্বোধন

অভিযানে এয়ারগান উদ্ধারের কথা স্বীকার পুলিশের, তবে মামলা ও জব্দ তালিকায় না থাকায় স্বচ্ছ তদন্তের দাবি স্থানীয়দের

মৌলভীবাজারে পুলিশের অভিযানে উদ্ধার ১৩ এয়ারগান ও গুলি জব্দ তালিকায় নেই, রহস্য ঘিরে প্রশ্ন

তিমির বনিক
  • আপডেট সময় : ০৯:৩০:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬ ৬৯ বার পড়া হয়েছে
সারাদেশ ৭১ নিউজ – নির্ভরযোগ্য অনলাইন সংবাদ মাধ্যম গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মৌলভীবাজার | ২ জুলাই ২০২৬ : মৌলভীবাজারের বড়লেখা পৌর শহরের হাজীগঞ্জ বাজারে পুলিশের অভিযানে ভারতীয় অবৈধ সিগারেটের পাশাপাশি ১৩টি বিক্রয় অনুমোদনবিহীন এয়ারগান ও বিপুল পরিমাণ গুলি উদ্ধারের অভিযোগ উঠেছে। তবে উদ্ধার হওয়া এসব এয়ারগান ও গুলির কোনো উল্লেখ নেই পুলিশের প্রস্তুত করা জব্দ তালিকা কিংবা মামলার এজাহারে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৭ জুন দিবাগত রাত প্রায় ১টার দিকে বড়লেখা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) প্রলয় রায়ের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল হাজীগঞ্জ বাজারের জামিল ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানে ভারতীয় ২ হাজার ৮০০ শলাকা অওরিস সিগারেট, ১ হাজার শলাকা প্যাট্রন সিগারেট, ১০০ শলাকা সিগারস, ১৩টি বিক্রয় অনুমোদনবিহীন এয়ারগান এবং বিপুল পরিমাণ গুলি উদ্ধার করা হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেন। এ সময় দোকানের মালিক জামিল আহমেদ (৪১)কে আটক করা হয়।

পরবর্তীতে এসআই প্রলয় রায় বাদী হয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনে জামিল আহমেদকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। তবে মামলার এজাহারে শুধুমাত্র ভারতীয় অবৈধ সিগারেট উদ্ধারের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে এয়ারগান ও গুলির কোনো তথ্য নেই।

আদালতে পাঠানো জব্দ তালিকা পর্যালোচনায়ও একই তথ্য পাওয়া যায়। তালিকায় তিন ধরনের ভারতীয় সিগারেটের বিবরণ থাকলেও ১৩টি এয়ারগান কিংবা উদ্ধার হওয়া গুলির কোনো উল্লেখ নেই। এতে উদ্ধার হওয়া আলামতের আইনগত অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযানের সময় উপস্থিত থাকা হাজীগঞ্জ বাজার বণিক সমিতির দুই সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দোকান মালিক বৈধ লাইসেন্স দেখাতে ব্যর্থ হলে পুলিশ সিগারেটের পাশাপাশি এয়ারগান ও গুলিও নিজেদের হেফাজতে নেয়। পরে জব্দ তালিকায় এসবের উল্লেখ না থাকায় তারা বিস্মিত হয়েছেন।

তাদের দাবি, দোকান মালিক দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুমোদনবিহীন এয়ারগান ও গুলির বিজ্ঞাপন ও বিক্রয় কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন। এ বিষয়ে তাদের বক্তব্যের অডিও রেকর্ড প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।

বিষয়টি জানতে চাইলে বড়লেখা থানার এসআই প্রলয় রায় টেলিফোনে বলেন, “এয়ারগানে সরাসরি মামলা দেওয়া যায় না। তাই প্রথমে জব্দ তালিকায় এগুলো উল্লেখ করা হয়নি। পরে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং আদালতের কাছে পরবর্তী করণীয় বিষয়ে লিখিত মতামত চাওয়া হয়েছে।”

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো অভিযানে উদ্ধার হওয়া আলামত সাধারণত জব্দ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে আদালতে উপস্থাপন করা হয়। পরবর্তীতে তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় সেই আলামতের আইনগত মূল্যায়ন করা হয়। ফলে উদ্ধার হওয়া কোনো আলামত জব্দ তালিকায় উল্লেখ না থাকলে তার সংরক্ষণ, হেফাজত ও আইনগত ব্যবস্থাপনা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি হয়।

স্থানীয়দের দাবি, পুরো বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ করা হোক এবং উদ্ধার হওয়া সব আলামতের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সরকার জননিরাপত্তা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের স্বার্থে পূর্বে জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট শর্ত ছাড়া এয়ারগান আমদানি, বিক্রয়, বিপণন ও ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের ব্যবসা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অভিযানে এয়ারগান উদ্ধারের কথা স্বীকার পুলিশের, তবে মামলা ও জব্দ তালিকায় না থাকায় স্বচ্ছ তদন্তের দাবি স্থানীয়দের

মৌলভীবাজারে পুলিশের অভিযানে উদ্ধার ১৩ এয়ারগান ও গুলি জব্দ তালিকায় নেই, রহস্য ঘিরে প্রশ্ন

আপডেট সময় : ০৯:৩০:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

মৌলভীবাজার | ২ জুলাই ২০২৬ : মৌলভীবাজারের বড়লেখা পৌর শহরের হাজীগঞ্জ বাজারে পুলিশের অভিযানে ভারতীয় অবৈধ সিগারেটের পাশাপাশি ১৩টি বিক্রয় অনুমোদনবিহীন এয়ারগান ও বিপুল পরিমাণ গুলি উদ্ধারের অভিযোগ উঠেছে। তবে উদ্ধার হওয়া এসব এয়ারগান ও গুলির কোনো উল্লেখ নেই পুলিশের প্রস্তুত করা জব্দ তালিকা কিংবা মামলার এজাহারে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৭ জুন দিবাগত রাত প্রায় ১টার দিকে বড়লেখা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) প্রলয় রায়ের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল হাজীগঞ্জ বাজারের জামিল ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানে ভারতীয় ২ হাজার ৮০০ শলাকা অওরিস সিগারেট, ১ হাজার শলাকা প্যাট্রন সিগারেট, ১০০ শলাকা সিগারস, ১৩টি বিক্রয় অনুমোদনবিহীন এয়ারগান এবং বিপুল পরিমাণ গুলি উদ্ধার করা হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেন। এ সময় দোকানের মালিক জামিল আহমেদ (৪১)কে আটক করা হয়।

পরবর্তীতে এসআই প্রলয় রায় বাদী হয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনে জামিল আহমেদকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। তবে মামলার এজাহারে শুধুমাত্র ভারতীয় অবৈধ সিগারেট উদ্ধারের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে এয়ারগান ও গুলির কোনো তথ্য নেই।

আদালতে পাঠানো জব্দ তালিকা পর্যালোচনায়ও একই তথ্য পাওয়া যায়। তালিকায় তিন ধরনের ভারতীয় সিগারেটের বিবরণ থাকলেও ১৩টি এয়ারগান কিংবা উদ্ধার হওয়া গুলির কোনো উল্লেখ নেই। এতে উদ্ধার হওয়া আলামতের আইনগত অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযানের সময় উপস্থিত থাকা হাজীগঞ্জ বাজার বণিক সমিতির দুই সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দোকান মালিক বৈধ লাইসেন্স দেখাতে ব্যর্থ হলে পুলিশ সিগারেটের পাশাপাশি এয়ারগান ও গুলিও নিজেদের হেফাজতে নেয়। পরে জব্দ তালিকায় এসবের উল্লেখ না থাকায় তারা বিস্মিত হয়েছেন।

তাদের দাবি, দোকান মালিক দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুমোদনবিহীন এয়ারগান ও গুলির বিজ্ঞাপন ও বিক্রয় কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন। এ বিষয়ে তাদের বক্তব্যের অডিও রেকর্ড প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।

বিষয়টি জানতে চাইলে বড়লেখা থানার এসআই প্রলয় রায় টেলিফোনে বলেন, “এয়ারগানে সরাসরি মামলা দেওয়া যায় না। তাই প্রথমে জব্দ তালিকায় এগুলো উল্লেখ করা হয়নি। পরে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং আদালতের কাছে পরবর্তী করণীয় বিষয়ে লিখিত মতামত চাওয়া হয়েছে।”

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো অভিযানে উদ্ধার হওয়া আলামত সাধারণত জব্দ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে আদালতে উপস্থাপন করা হয়। পরবর্তীতে তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় সেই আলামতের আইনগত মূল্যায়ন করা হয়। ফলে উদ্ধার হওয়া কোনো আলামত জব্দ তালিকায় উল্লেখ না থাকলে তার সংরক্ষণ, হেফাজত ও আইনগত ব্যবস্থাপনা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি হয়।

স্থানীয়দের দাবি, পুরো বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ করা হোক এবং উদ্ধার হওয়া সব আলামতের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সরকার জননিরাপত্তা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের স্বার্থে পূর্বে জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট শর্ত ছাড়া এয়ারগান আমদানি, বিক্রয়, বিপণন ও ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের ব্যবসা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।