কাঁচারী নগর ঘোস্তা গ্রামে বারসিক ও গ্রিনকোয়ালিশনের সহযোগিতায় আয়োজিত মেলায় অংশ নেয় ৮৫ জন; তুলে ধরা হয় ১২০ প্রজাতির অচাষকৃত ও ভেষজ উদ্ভিদের গুরুত্ব।
মানিকগঞ্জে অচাষকৃত উদ্ভিদ মেলা অনুষ্ঠিত, ১২০ প্রজাতির উদ্ভিদ প্রদর্শনে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের বার্তা
- আপডেট সময় : ০৫:৫০:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬ ৭১ বার পড়া হয়েছে

মানিকগঞ্জ | ২৩ জুন ২০২৬ : মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার পুটাইল ইউনিয়নের কাঁচারী নগর ঘোস্তা গ্রামে অচাষকৃত উদ্ভিদ সংরক্ষণ, পরিচিতি বৃদ্ধি এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে এক ব্যতিক্রমধর্মী অচাষকৃত উদ্ভিদ মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বারসিক ও গ্রিনকোয়ালিশনের সহযোগিতায় স্থানীয় কৃষকদের উদ্যোগে আয়োজিত এ মেলায় প্রায় ১২০ প্রজাতির অচাষকৃত উদ্ভিদ প্রদর্শন করা হয়।
মেলায় এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রায় ৮৫ জন মানুষ অংশগ্রহণ করেন। প্রদর্শিত উদ্ভিদগুলোর মধ্যে ছিল বিভিন্ন ঔষধি গাছ, বনজ উদ্ভিদ, আগাছা জাতীয় উপকারী উদ্ভিদ এবং স্থানীয়ভাবে পরিচিত নানা ভেষজ উদ্ভিদ। দর্শনার্থীরা প্রতিটি উদ্ভিদের নাম, ব্যবহার, পরিবেশগত গুরুত্ব এবং সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে পারেন।
আয়োজকরা জানান, গ্রামীণ পরিবেশে স্বাভাবিকভাবে জন্মানো অনেক অচাষকৃত উদ্ভিদ বর্তমানে বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে। অথচ এসব উদ্ভিদ খাদ্য নিরাপত্তা, পরিবেশ সংরক্ষণ, মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি এবং প্রাথমিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ কারণেই স্থানীয় জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই উদ্ভিদ মেলার আয়োজন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মধ্য পুটাইল গ্রামের কৃষক রহিমা বেগম। তিনি বলেন, “গ্রামের আশপাশে জন্মানো অনেক গাছ মানুষের নানা কাজে লাগে। এসব গাছ মাটি রক্ষা করে, পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখে এবং অনেক রোগের প্রাথমিক চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। তাই অচাষকৃত উদ্ভিদকে অবহেলা না করে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।”
দক্ষিণ পুটাইল গ্রামের কবিরাজ ও কৃষক ছালেহা বেগম বলেন, “আমাদের পূর্বপুরুষরা বিভিন্ন ভেষজ উদ্ভিদ ব্যবহার করে নানা রোগের চিকিৎসা করতেন। বর্তমানে আধুনিক চিকিৎসার পাশাপাশি এসব উদ্ভিদের গুরুত্ব নতুন করে উপলব্ধি করা হচ্ছে। অনেক অচাষকৃত গাছের রয়েছে ঔষধি গুণ, যা গবেষণার মাধ্যমে আরও বিস্তৃতভাবে কাজে লাগানো সম্ভব।”
তিনি আরও বলেন, নতুন প্রজন্মের মধ্যে স্থানীয় উদ্ভিদসম্পদ সম্পর্কে জ্ঞানের পরিধি কমে যাচ্ছে। এ ধরনের আয়োজন তরুণদের মধ্যে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মেলায় উপস্থিত দর্শনার্থীরা জানান, অচাষকৃত উদ্ভিদ সম্পর্কে এত বৈচিত্র্যময় সংগ্রহ ও তথ্য একসঙ্গে দেখার সুযোগ খুবই বিরল। তারা এ আয়োজনকে সময়োপযোগী, শিক্ষামূলক এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ হিসেবে অভিহিত করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঘোস্তা টিভির সাংবাদিক মো. নজরুল ইসলাম। তিনি মেলার বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন এবং অচাষকৃত উদ্ভিদের গুরুত্ব ও সংরক্ষণ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন।
বারসিকের প্রোগ্রাম অফিসার মুকতার হোসেন বলেন, “অচাষকৃত উদ্ভিদ শুধু জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেই নয়, খাদ্য নিরাপত্তা, পরিবেশ রক্ষা এবং ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা ব্যবস্থার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। এসব উদ্ভিদ সংরক্ষণ ও গবেষণার জন্য স্থানীয় পর্যায়ে আরও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন, নগরায়ন এবং কৃষিজমির সম্প্রসারণের কারণে বহু দেশীয় উদ্ভিদ হারিয়ে যাচ্ছে। ফলে অচাষকৃত উদ্ভিদ সংরক্ষণে স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে এ ধরনের উদ্যোগ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।














