জলমহাল দখলের অপচেষ্টা বন্ধ ও বিনিয়োগের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি
ধুনটের সোনাইডাঙ্গা জলমহালে বৈধ ইজারাদারের অধিকার রক্ষায় মৎস্যজীবীদের মানববন্ধন, ৩৬ লাখ টাকার বিনিয়োগ সুরক্ষার দাবি
- আপডেট সময় : ০৮:০৮:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬ ৫১ বার পড়া হয়েছে

বগুড়া | ১৬ জুন ২০২৬ : বগুড়ার ধুনট উপজেলার গোপালনগর এলাকায় অবস্থিত সোনাইডাঙ্গা জলমহালে বৈধ ইজারাদারের অধিকার রক্ষা এবং প্রায় ৩৬ লাখ টাকার বিনিয়োগের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় মৎস্যজীবীরা।
সোমবার (১৫ জুন) বিকেল ৫টায় গোপালনগর গ্রামে আয়োজিত এ মানববন্ধনে গোপালনগর পশ্চিমপাড়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সদস্য, স্থানীয় মৎস্যজীবী ও এলাকাবাসী অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন গোপালনগর পশ্চিমপাড়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি ও সোনাইডাঙ্গা জলমহালের বৈধ ইজারাদার অমূল্য হাওয়ালদার। তিনি বলেন, সরকারি বিধি-বিধান ও নিয়ম-কানুন অনুসরণ করে তাদের সমিতি তিন বছরের জন্য সোনাইডাঙ্গা জলমহাল বৈধভাবে ইজারা গ্রহণ করেছে। ইজারা পাওয়ার পর জলমহালের উন্নয়ন, সংস্কার, মাছের পোনা অবমুক্তকরণ এবং উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রায় ৩৬ লাখ টাকারও বেশি বিনিয়োগ করা হয়েছে।
অমূল্য হাওয়ালদার অভিযোগ করেন, জলমহালের ইজারা নিয়ে একটি পক্ষ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আপিল করলেও তদন্ত কমিটি সরেজমিনে তদন্ত শেষে তাদের সমিতিকেই বৈধ ইজারাদার হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। তবে পরবর্তীতে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে আপিলের মাধ্যমে একটি প্রভাবশালী মহল নিজেদের পক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, “আমরা আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জলমহাল ইজারা নিয়েছি এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করেছি। এখন আমাদের বৈধ অধিকার ও বিনিয়োগের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে মৎস্য চাষ করতে চাই এবং আইনের প্রতি আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে।”
মানববন্ধনে গোপালনগর পশ্চিমপাড়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনন্দ হাওলাদারসহ সমিতির সদস্যরা বক্তব্য দেন।
এ সময় অংশগ্রহণকারী মৎস্যজীবীরা বৈধ ইজারাদারের অধিকার সংরক্ষণ, জলমহল দখলের অপচেষ্টা বন্ধ, অবৈধ মাছ শিকার প্রতিরোধ এবং বিনিয়োগের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তারা দ্রুত বিষয়টি সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
স্থানীয়দের মতে, সোনাইডাঙ্গা জলমহাল এলাকার মৎস্যসম্পদ ও জীবিকার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। তাই জলমহালের ব্যবস্থাপনা ও বৈধ ইজারাদারের অধিকার রক্ষায় প্রশাসনের স্বচ্ছ ও কার্যকর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।





















