অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বরফ ও আইসক্রিম উৎপাদন, বৈধ কাগজপত্র না থাকায় জরিমানা ও কার্যক্রম বন্ধ
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান: অননুমোদিত দুই খাদ্য উৎপাদন প্রতিষ্ঠান বন্ধ, জরিমানা ৮ হাজার টাকা
- আপডেট সময় : ১০:৪১:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬ ৩৭ বার পড়া হয়েছে

কিশোরগঞ্জ | ৭ জুন ২০২৬ : কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার নতুনবাজার এলাকায় অননুমোদিতভাবে পরিচালিত বরফ ও আইসক্রিম উৎপাদনকারী দুই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠান দুটিকে মোট ৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
গতকাল শনিবার (৬ জুন) পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করে আসছিল। এছাড়া খাদ্য উৎপাদনের পরিবেশ ছিল অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
অভিযানকালে ভ্রাম্যমাণ আদালত প্রতিষ্ঠান দুটিতে আইসক্রিম ও বরফ তৈরির অনুপযুক্ত পরিবেশ, অপরিচ্ছন্ন উৎপাদন ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের একাধিক প্রমাণ পায়। এ সময় উৎপাদন কাজে ব্যবহৃত কিছু সন্দেহজনক রাসায়নিক উপাদান ও অন্যান্য সামগ্রী জব্দ করা হয়।
প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকদের কাছে বৈধ ট্রেড লাইসেন্স, অনুমোদনপত্র ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রদর্শনের জন্য বলা হলে তারা তা দেখাতে ব্যর্থ হন। ফলে বিদ্যমান আইনের আওতায় তাদের বিরুদ্ধে অর্থদণ্ড আরোপ করা হয় এবং জনস্বার্থে উৎপাদন ও বিপণন কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন হোসেনপুর উপজেলার এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহসী মাসনাদ। তিনি বলেন, “জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় অনুমোদন গ্রহণ এবং স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “অনুমোদন ছাড়া ব্যবসা পরিচালনা কিংবা খাদ্যপণ্যে ক্ষতিকর উপাদান ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে।”
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, বাজারে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা প্রয়োজন। এতে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার পাশাপাশি অসাধু ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় আনা সহজ হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকারের চলমান তদারকি কার্যক্রম আরও জোরদার হলে ভোক্তারা স্বাস্থ্যঝুঁকিমুক্ত খাদ্যপণ্য পেতে উপকৃত হবেন।





















