নিখোঁজের ৪৮ ঘণ্টা পর পাটক্ষেত থেকে উদ্ধার মরদেহ, মাথায় আঘাতের চিহ্ন; তদন্তে নেমেছে পুলিশ
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে নিখোঁজের দুইদিন পর যুবকের মরদেহ উদ্ধার, হত্যাকাণ্ডের সন্দেহ
- আপডেট সময় : ০৫:৪৫:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬ ৯৭ বার পড়া হয়েছে

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার দুইদিন পর তৌহিদ মিয়া (২৮) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (৩ জুন) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার শেখর ইউনিয়নের ভাটপাড়া গ্রামের একটি পাটক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়ায় ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
নিহত তৌহিদ মিয়া ভাটপাড়া গ্রামের আব্দুল কাইয়ুম মিয়ার ছেলে। তিনি একটি জাহাজে কর্মরত ছিলেন এবং পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি উপলক্ষে কয়েকদিন আগে বাড়িতে এসেছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (১ জুন) বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকে তৌহিদের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। এক পর্যায়ে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়, যা পরিবারের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দেয়।
বুধবার সকালে স্থানীয় কৃষকরা পাটক্ষেতে কাজ করতে গিয়ে একটি মরদেহ দেখতে পান। পরে কাছে গিয়ে তারা তৌহিদ মিয়াকে শনাক্ত করেন এবং পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে বোয়ালমারী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
নিহতের স্বজনরা অভিযোগ করে বলেন, সোমবার রাত ১২টার পর থেকেই তৌহিদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িসহ সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তাদের দাবি, তৌহিদের কিছু মাদকসেবী বন্ধুর সঙ্গে চলাফেরা ছিল এবং পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তারা হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
ঘটনাস্থলে মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে শত শত মানুষ সেখানে ভিড় করেন। নিহতের স্বজনদের কান্নায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
এ বিষয়ে বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। নিহতের মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। একই সঙ্গে ঘটনার রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে।














