চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসী আশ্রয় বন্ধের ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর—কঠোর অবস্থান সরকারের
- আপডেট সময় : ০৭:২৯:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬ ১২৬ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রাম | ৩১ মে ২০২৬ :
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় আর কোনো সন্ত্রাসী বা অপরাধী চক্রের অভয়ারণ্য থাকবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
আজ (শনিবার) জঙ্গল সলিমপুর এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। এ সময় তিনি এলাকাটিতে দীর্ঘদিন ধরে চলা অপরাধচক্রের প্রভাব, অবৈধ দখল, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিগত সময়ে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের কারণে রাষ্ট্রের ভেতরে ‘দুর্বৃত্তের রাষ্ট্র’ তৈরির চেষ্টা হয়েছিল, যার একটি উদাহরণ জঙ্গল সলিমপুর। তিনি জানান, সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রামে কিছু সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, ব্যবসায়ীদের বাড়িতে হামলা ও চাঁদাবাজির ঘটনা সরকারের নজরে আসে, যার পরিপ্রেক্ষিতে ৯ মার্চ যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
তিনি আরও বলেন, সন্ত্রাসীরা জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সিসিটিভি, পাহারা ও সমান্তরাল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল, যা যৌথ অভিযানের মাধ্যমে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। তবে তথ্য ফাঁসের কারণে অভিযানের শতভাগ লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
র্যাবের নির্মাণাধীন ক্যাম্প ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের কঠোরভাবে চিহ্নিত করা হচ্ছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভূমিদস্যু ও ইন্ধনদাতাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্দেশে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, প্রকৃত বাসিন্দাদের আপাতত উচ্ছেদ করা হবে না এবং তাদের পুনর্বাসনের জন্য সরকার একটি টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণ করবে। তিনি জনগণকে প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বজায় রাখার আহ্বান জানান।
এছাড়া জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় আধুনিক সড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবকাঠামো উন্নয়ন এবং নিরাপত্তা জোরদারের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, বায়েজিদ লিংক এলাকার খাস জমিতে কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তরের প্রস্তাব দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বেতুয়া ও চা-বাগান এলাকায়ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম নির্মূলে অভিযান চলবে।
মন্ত্রী গণমাধ্যম ও সাধারণ জনগণকে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো জনগণকে নিরাপত্তা দেওয়া এবং দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা।














