ঈদকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত ভাড়া, যানজট ও পরিবহন সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা দাবিতে বিক্ষোভ
বাঁশখালীতে অতিরিক্ত ভাড়া ও যাত্রী হয়রানির প্রতিবাদে এনসিপির মানববন্ধন, প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি
- আপডেট সময় : ০৮:১৫:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬ ৪৭ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রাম, বাঁশখালী | ২৫ মে ২০২৬ : চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ঈদুল আজহা সামনে রেখে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, যাত্রী হয়রানি, পরিবহন নৈরাজ্য ও তীব্র যানজটের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
সোমবার (২৫ মে) বিকেলে বাঁশখালী উপজেলা পরিষদের সামনে অনুষ্ঠিত এ মানববন্ধনে দলীয় নেতাকর্মী, সচেতন ছাত্রসমাজ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সাধারণ মানুষ অংশ নেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বাঁশখালী উপজেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বক্তারা অভিযোগ করেন, ঈদ এলেই চট্টগ্রাম-বাঁশখালী সড়কে পরিবহন সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে ওঠে। সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে দুই থেকে তিনগুণ বেশি ভাড়া আদায় করে সাধারণ যাত্রীদের জিম্মি করা হয়। পাশাপাশি চাঁনপুর, গুনাগরি, মিয়ারবাজার ও চাম্বল বাজার এলাকায় অবৈধ পার্কিং এবং যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামার কারণে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়।
মানববন্ধনে এনসিপির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জাওয়াদুল করিম বলেন, “ঈদকে কেন্দ্র করে বাঁশখালী রুটে এক ধরনের পরিবহন নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়। প্রশাসনের নজরদারির অভাবে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।”
নিরাপদ সড়ক আন্দোলন বাঁশখালী শাখার সভাপতি এইচ এম আব্বাস খাঁন অভিযোগ করেন, মইজ্জারটেক এলাকায় টোকেন বাণিজ্যের মাধ্যমে কিছু সিএনজিকে যাত্রী পরিবহনের সুযোগ দেওয়া হলেও বাঁশখালী থেকে যাওয়া সিএনজি চালকদের নানা অজুহাতে হয়রানি করা হচ্ছে। এতে যাত্রী সংকট তৈরি হয়ে সাধারণ মানুষকে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, “বাঁশখালীর মানুষ শহরে যাতায়াতে প্রতিনিয়ত বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। এই সিন্ডিকেট ভেঙে না দিলে যাত্রী দুর্ভোগ কমবে না।”
এসময় চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়কারী মাশফিকুর রহমান বলেন, “ভাড়ার নামে প্রকাশ্য ডাকাতি এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটের এই দুর্ভোগ বন্ধে প্রশাসনকে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে।”
উপজেলা এনসিপির প্রধান সমন্বয়ক সাকিবুল ইসলাম বলেন, “ঈদের সময় বাঁশখালীবাসী আনন্দ নিয়ে বাড়ির পথে বের হলেও স্টেশনে পৌঁছে অতিরিক্ত ভাড়া ও হয়রানির কারণে সেই আনন্দ ম্লান হয়ে যায়। বছরের পর বছর ধরে এ সমস্যা চললেও কার্যকর সমাধান হয়নি।”
মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা এনসিপির সংগঠক মুহাম্মদ তাওহীদুল ইসলাম, যুগ্ম সমন্বয়কারী মোহাম্মদ আব্দুল আলীম, মোহাম্মদ আরিফুর রহমানসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা।
মানববন্ধন শেষে এনসিপির একটি প্রতিনিধি দল বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রহুল আমিন এবং বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রবিউল হকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন।
স্মারকলিপিতে প্রতিটি স্টেশনে ভাড়ার তালিকা টানানো, তৈলারদ্বীপ সেতু এলাকায় বিশেষ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, গুনাগরি-মিয়ারবাজার-চাম্বল এলাকায় নির্দিষ্ট পিক-অ্যান্ড-ড্রপ জোন স্থাপন, ট্রাফিক স্কোয়াড গঠন এবং ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধের দাবি জানানো হয়।
উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশ ঈদকে সামনে রেখে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে।














