চট্টগ্রাম ০৩:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিঃ
বর্তমান সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় আধুনিক সকল ফিচার যুক্ত  জাতীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং মাল্টিমিডিয়া দৈনিক সারাদেশ ৭১  নিউজ পোর্টালে আপনাকে স্বাগতম। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিবন্ধনের আবেদনের  জন্য অপেক্ষমান দেশের অন্যতম প্রথম সারির অনলাইন পোর্টাল ও মাল্টিমিডিয়ার জন্য সংবাদদাতা আবশ্যক, বিশেষ সংবাদদাতা (৪),  ক্রাইম রিপোর্টার (৫), স্টাফ রিপোর্টার (১০), বিভাগীয় ব্যুরো (৩) উপজেলা প্রতিনিধি (১০), বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি (৪),  মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার (সকল জেলা ও উপজেলার জন্য) (১০) ইউনিয়ন প্রতিনিধি (৫)  আবেদনের জন্য সিভি, জাতীয় পরিচয় পত্র, আবেদন পাঠাবেন saradesh71@gmail.com এই মেইলে।
সংবাদ শিরোনামঃ
দামুড়হুদায় মটর চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে চোরের মৃত্যু চুয়াডাঙ্গায় নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে হরিরামপুরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হাতীবান্ধা-পাটগ্রামে বিজিবির পৃথক অভিযান, উদ্ধার ভারতীয় পণ্য নজরুল বর্ষ ঘিরে পীরগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজন বিদ্রোহী কবির চেতনায় উখিয়ায় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা নওগাঁয় ডিবি পুলিশের অভিযানে ৪২ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ১ পটিয়ায় পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতি, দুই প্রবাসীর ঘরে লুট: স্বর্ণ-নগদ টাকা ও সিসিটিভির হার্ডডিস্ক নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ কচুয়ায় ২৫ পিস ইয়াবাসহ ৩ জন গ্রেপ্তার, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা উখিয়ায় রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিয়ে অংশীজন সংলাপ

দুই পক্ষের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষে শতাধিক আহত, বাড়িঘর ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

সালথায় দুই মোড়লের দ্বন্দ্বে অগ্নিসংযোগ-ভাঙচুর, জিম্মি সাধারণ মানুষ

মোঃ ইলিয়াছ খান, সালথা উপজেলা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৬:৩৯:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬ ১২৭ বার পড়া হয়েছে

সালথায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে ক্ষতিগ্রস্ত একটি বাড়ি

সারাদেশ ৭১ নিউজ – নির্ভরযোগ্য অনলাইন সংবাদ মাধ্যম গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সালথা, ফরিদপুর | ৫ মে ২০২৬ :
ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় দুই প্রভাবশালী মোড়লের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে চলা বিরোধ এখন সহিংস রূপ নিয়েছে। এতে করে জিম্মি হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। সংঘর্ষ, হামলা-পাল্টা হামলা এবং বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনায় এলাকাজুড়ে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের বালিয়া গট্টি বাজার, আড়য়াকান্দী, মিরের গট্টি ও আশপাশের এলাকায় একের পর এক সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। সর্বশেষ সোমবার (৪ মে) সকালে মিয়ার গট্টি গ্রামে হামলা চালিয়ে অন্তত ২০-৩০টি বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গট্টি ইউনিয়নের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আড়য়াকান্দী গ্রামের ইউপি সদস্য নুরু মাতুব্বর এবং বালিয়া গট্টি গ্রামের জাহিদ মাতুব্বরের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলে আসছে। তারা উভয়েই এলাকায় প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত।

একসময় তারা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও গত ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর বিএনপিতে যোগ দেন বলে জানা গেছে। এরপর থেকেই এলাকায় নিজেদের প্রভাব বিস্তারে মরিয়া হয়ে ওঠেন তারা। এরই ধারাবাহিকতায় দুই পক্ষের মধ্যে অন্তত ১০টির বেশি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এসব সংঘর্ষে ইতোমধ্যে দুই শতাধিক বসতবাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে। এতে শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজন স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন।

ঘটনাপ্রবাহ অনুযায়ী, রবিবার (৩ মে) নুরু মাতুব্বরের সমর্থক আনোয়ার শেখকে মারধর করে জাহিদ মাতুব্বরের অনুসারীরা। এর জের ধরে পাল্টা হামলায় জাহিদ পক্ষের রেজাউল আহত হন। এরপর উত্তেজনা আরও বাড়ে। সোমবার সকালে নুরু মাতুব্বরের ছেলে রাজীব মাতুব্বরকে কুপিয়ে আহত করা হলে পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে। পরে নুরু মাতুব্বরের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রতিপক্ষের বাড়িতে হামলা চালায়, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।

স্থানীয় শিক্ষক ও চাকরিজীবীরা অভিযোগ করেছেন, এই দুই মোড়ল নিজেদের স্বার্থে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রেখেছেন। তাদের পক্ষে না গেলে এলাকায় বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এছাড়া সহিংসতা সৃষ্টি করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগও উঠেছে।

তারা আরও বলেন, একের পর এক ঘটনা ঘটলেও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দৃশ্যমান কঠোর পদক্ষেপের অভাব রয়েছে। মামলা হলেও অনেক আসামি ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে নুরু মাতুব্বর দাবি করেন, প্রতিপক্ষের হামলায় তাদের ১০-১২ জন সমর্থক গুরুতর আহত হয়েছেন এবং তারা যথাযথ প্রতিকার পাচ্ছেন না।
অন্যদিকে জাহিদ মাতুব্বর জানান, তিনি অসুস্থ এবং কোনো ধরনের বিরোধে জড়িত নন।

সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. বাবলুর রহমান খান বলেন, দুই পক্ষের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ নিরপেক্ষভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।

সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. দবির উদ্দিন বলেন, সহিংসতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন তৎপর রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

দুই পক্ষের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষে শতাধিক আহত, বাড়িঘর ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

সালথায় দুই মোড়লের দ্বন্দ্বে অগ্নিসংযোগ-ভাঙচুর, জিম্মি সাধারণ মানুষ

আপডেট সময় : ০৬:৩৯:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

সালথা, ফরিদপুর | ৫ মে ২০২৬ :
ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় দুই প্রভাবশালী মোড়লের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে চলা বিরোধ এখন সহিংস রূপ নিয়েছে। এতে করে জিম্মি হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। সংঘর্ষ, হামলা-পাল্টা হামলা এবং বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনায় এলাকাজুড়ে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের বালিয়া গট্টি বাজার, আড়য়াকান্দী, মিরের গট্টি ও আশপাশের এলাকায় একের পর এক সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। সর্বশেষ সোমবার (৪ মে) সকালে মিয়ার গট্টি গ্রামে হামলা চালিয়ে অন্তত ২০-৩০টি বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গট্টি ইউনিয়নের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আড়য়াকান্দী গ্রামের ইউপি সদস্য নুরু মাতুব্বর এবং বালিয়া গট্টি গ্রামের জাহিদ মাতুব্বরের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলে আসছে। তারা উভয়েই এলাকায় প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত।

একসময় তারা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও গত ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর বিএনপিতে যোগ দেন বলে জানা গেছে। এরপর থেকেই এলাকায় নিজেদের প্রভাব বিস্তারে মরিয়া হয়ে ওঠেন তারা। এরই ধারাবাহিকতায় দুই পক্ষের মধ্যে অন্তত ১০টির বেশি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এসব সংঘর্ষে ইতোমধ্যে দুই শতাধিক বসতবাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে। এতে শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজন স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন।

ঘটনাপ্রবাহ অনুযায়ী, রবিবার (৩ মে) নুরু মাতুব্বরের সমর্থক আনোয়ার শেখকে মারধর করে জাহিদ মাতুব্বরের অনুসারীরা। এর জের ধরে পাল্টা হামলায় জাহিদ পক্ষের রেজাউল আহত হন। এরপর উত্তেজনা আরও বাড়ে। সোমবার সকালে নুরু মাতুব্বরের ছেলে রাজীব মাতুব্বরকে কুপিয়ে আহত করা হলে পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে। পরে নুরু মাতুব্বরের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রতিপক্ষের বাড়িতে হামলা চালায়, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।

স্থানীয় শিক্ষক ও চাকরিজীবীরা অভিযোগ করেছেন, এই দুই মোড়ল নিজেদের স্বার্থে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রেখেছেন। তাদের পক্ষে না গেলে এলাকায় বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এছাড়া সহিংসতা সৃষ্টি করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগও উঠেছে।

তারা আরও বলেন, একের পর এক ঘটনা ঘটলেও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দৃশ্যমান কঠোর পদক্ষেপের অভাব রয়েছে। মামলা হলেও অনেক আসামি ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে নুরু মাতুব্বর দাবি করেন, প্রতিপক্ষের হামলায় তাদের ১০-১২ জন সমর্থক গুরুতর আহত হয়েছেন এবং তারা যথাযথ প্রতিকার পাচ্ছেন না।
অন্যদিকে জাহিদ মাতুব্বর জানান, তিনি অসুস্থ এবং কোনো ধরনের বিরোধে জড়িত নন।

সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. বাবলুর রহমান খান বলেন, দুই পক্ষের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ নিরপেক্ষভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।

সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. দবির উদ্দিন বলেন, সহিংসতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন তৎপর রয়েছে।