৯ লাখ টাকা খরচ করে আফ্রিকা যাত্রা, পৌঁছানোর রাতেই আসে মৃত্যুর ফোন
বিদেশ পাড়ি দিতে গিয়ে চন্দনাইশের এসএসসি পরীক্ষার্থী ফাহাদের মর্মান্তিক মৃত্যু, লাশ দেশে আনার দাবি পরিবারের
- আপডেট সময় : ০৫:৪৩:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৮১ বার পড়া হয়েছে

দালালের মাধ্যমে দক্ষিণ আফ্রিকা যাত্রা, অনাহার ও অসুস্থতায় ১৫ দিনের মাথায় প্রাণ হারালেন ১৮ বছর বয়সী ফাহাদ
চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলায় বিদেশ পাড়ি দিতে গিয়ে মর্মান্তিকভাবে মৃত্যু হয়েছে এসএসসি পরীক্ষার্থী মো. ফাহাদ (১৮)-এর। উন্নত জীবনের স্বপ্ন নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্দেশ্যে রওনা দিলেও পৌঁছানোর পরপরই তার মৃত্যুর খবর আসে পরিবারের কাছে। ফাহাদের লাশ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন শোকাহত স্বজনরা।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ জানুয়ারি ঢাকা থেকে বিমানে দালালের মাধ্যমে দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন ফাহাদ। তাকে প্রথমে Ethiopia হয়ে Zimbabwe এবং পরে South Africa নেওয়ার কথা ছিল। তবে অভিযোগ রয়েছে, ইথিওপিয়ায় বিমান থেকে নামিয়ে দালালরা তাকে দুর্গম জঙ্গলের পথ ধরে জিম্বাবুয়ে নিয়ে যায়। সেখান থেকে দীর্ঘ ১৫ দিনের কষ্টকর পথযাত্রা শেষে ১৫ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ আফ্রিকায় পৌঁছান তিনি।
ফাহাদের পিতা নুর মুহাম্মদ জানান, দক্ষিণ আফ্রিকায় পৌঁছানোর রাতেই তার মোবাইলে একটি ফোন আসে। অপর প্রান্ত থেকে জানানো হয়, “আপনার ছেলে ফাহাদ আর নেই, ইন্না লিল্লাহ পড়েন।” আকস্মিক এই খবরে স্তব্ধ হয়ে যান তিনি।
পরিবারের ধারণা, অনাহার, অসুস্থতা, দীর্ঘ পথযাত্রার শারীরিক কষ্ট ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবেই ফাহাদের মৃত্যু হয়েছে। বিদেশে পাঠানোর সময় তার সঙ্গে ২০০ ডলার ও শুকনা খাবার দেওয়া হলেও জঙ্গলের পথে ছিনতাইকারীরা তা কেড়ে নেয় বলে জানা গেছে। ফলে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকায় তার শারীরিক অবস্থা ক্রমেই অবনতি ঘটে।
জানা যায়, আফ্রিকায় ফাহাদের দুই মামা বসবাস করেন। তাদের সঙ্গে থেকে কাজ করে সংসারের হাল ধরার স্বপ্ন ছিল তার। এই আশায় প্রায় ৯ লাখ টাকা খরচ করে দালালের মাধ্যমে তাকে বিদেশে পাঠান তার পিতা। নুর মুহাম্মদ একটি বীমা কোম্পানিতে চাকরি করেন। তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। ফাহাদ ছিলেন মেজ ছেলে এবং কঞ্চনাবাদ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী।
চন্দনাইশ উপজেলার জোয়ারা ইউনিয়নের উত্তর জোয়ারা গ্রামে তাদের বাড়ি। ফাহাদের মৃত্যু সংবাদে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এখন পরিবারের একমাত্র দাবি—সরকারি উদ্যোগে দ্রুত তার লাশ দেশে ফিরিয়ে আনা হোক এবং দালাল চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।





















