ক্লাসরুম শিক্ষার মানহীনতায় শিক্ষার্থী-অভিভাবক কোচিং নির্ভর
রাজশাহীতে কোচিং সেন্টারে রমরমা বাণিজ্য: ক্লাসরুম শিক্ষা মুখ থুবড়ে পড়ার শঙ্কা
- আপডেট সময় : ০৮:৪৯:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬ ৪৫ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহীতে কোচিং সেন্টারনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। সরকারি স্কুল–কলেজে নিয়মিত ক্লাস থাকলেও শিক্ষার্থীরা পাঠ বুঝতে না পারায় বাধ্য হয়ে ছুটছে কোচিং সেন্টারে। অভিযোগ উঠেছে, অনেক ক্ষেত্রে একই শিক্ষক স্কুলে ক্লাস নিলেও কোচিংয়েই প্রকৃত শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে।
রাজশাহীর এক নামকরা সরকারি স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীর অভিভাবক আবু সালেহ বলেন, “আমরা স্কুল ফি, পরীক্ষার ফি দিই। এরপর আবার একই শিক্ষকদের কোচিং ফি দিতে হয়। কোচিং না করলে সন্তানকে ক্লাসে উপেক্ষা করা হয়।”
আরেক অভিভাবক শাহনাজ বেগম পলি জানান, তাঁর সন্তান কলেজে নিয়মিত যায় না। তিনি বলেন, “কলেজে ক্লাস নিয়মিত হয় না, শিক্ষকদের প্রস্তুতিও থাকে না—এ জন্য কোচিংয়েই যেতে হয়।”
শিক্ষার্থীরা বলছে, ক্লাসে পাঠ উদ্ধার করতে না পারায় কোচিং ছাড়া বিকল্প নেই। উদ্বেগজনক বিষয় হলো—কোচিং সেন্টারের অধিকাংশ শিক্ষকই নিজ নিজ স্কুল ও কলেজের শিক্ষক। ফলে প্রশ্ন উঠছে শিক্ষার নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে।
এই পরিস্থিতিতে শিক্ষাব্যবস্থার মান পুনরুদ্ধারে গত ৩ ডিসেম্বর মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) রাজশাহী আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে একটি নির্দেশনা জারি করে। নির্দেশনায় বলা হয়, স্কুল ও কলেজের শিক্ষকদের বেসরকারি কোচিং সেন্টার ও কিন্ডারগার্টেনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য সংগ্রহ করে ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে তালিকা পাঠাতে হবে।
কিন্তু মাউশি সূত্র জানায়, রাজশাহী বিভাগের শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র তিনটি প্রতিষ্ঠান এ নির্দেশনার জবাব দিয়েছে। বাকি প্রতিষ্ঠানগুলো বিষয়টি কার্যত উপেক্ষা করেছে।
শিক্ষাবিদরা বলছেন, রাজনৈতিক প্রভাব, প্রশাসনিক দুর্বলতা ও তদারকির অভাবেই কোচিং বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক দীপকেন্দ্র নাথ দাস বলেন, “ক্লাসরুমে শিক্ষার মানের অভাব, জিপিএ-৫ পাওয়ার অস্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা এবং শিক্ষকদের দ্রুত ধনী হওয়ার আকাঙ্ক্ষা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।”
ফলে রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠছে অসংখ্য কোচিং সেন্টার, যেখানে চলছে রমরমা বাণিজ্য। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষাব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।














