দুর্নীতি প্রমাণিত, তবু প্রশাসনিক নীরবতা—ক্ষুব্ধ পুঠিয়া পৌরবাসী
তদন্তে দুর্নীতি প্রমাণিত, তবু শাস্তি নেই—পুঠিয়া পৌরসভায় বিচারহীনতার ভয়াবহ নজির
- আপডেট সময় : ০৪:৪২:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬ ৪২ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহী জেলার পুঠিয়া পৌরসভায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ সরকারি তদন্তে প্রমাণিত হলেও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান প্রশাসনিক কিংবা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এতে স্থানীয় সরকার বিভাগ ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে জনমনে তীব্র প্রশ্ন ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
পৌরসভা ও স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পুঠিয়া পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোঃ শফিকুল ইসলামের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি প্রথম জেলা প্রশাসনের নজরে আসে। অভিযোগে পৌরসভার উন্নয়ন প্রকল্প (এডিপি) ও নিজস্ব রাজস্ব তহবিল থেকে অর্থ আত্মসাৎ, ভুয়া পিআইসি গঠন, কাজ না করেই বিল উত্তোলন এবং ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে সরকারি অর্থ লোপাটের বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করা হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই জারি করা এক স্মারকে পুঠিয়া পৌরসভার তৎকালীন মেয়র মোঃ আল মামুন খান এবং ভারপ্রাপ্ত পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সাইদ মোঃ শহিদুল আলমের বিরুদ্ধে আনা ১৪টি গুরুতর অভিযোগ সরেজমিন তদন্তের নির্দেশ দেয়। পরে ২০২৫ সালের ২৮ জানুয়ারি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে তদন্তসংক্রান্ত পত্র স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানো হয়।
সরকারি তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে। তদন্ত প্রতিবেদনে সাবেক মেয়র মোঃ আল মামুন খান, সহকারী প্রকৌশলী ও ভারপ্রাপ্ত পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সাইদ মোঃ শহিদুল আলম এবং হিসাব রক্ষক মোঃ মাসুদ রানার বিরুদ্ধে পৌরসভার এডিপি ও নিজস্ব রাজস্ব তহবিল থেকে পিআইসি’র নামে অর্থ আত্মসাৎ, কাজ না করেই বিল উত্তোলন, ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি ও হিসাব জালিয়াতিসহ মোট ১৪টি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।
তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা শেষে স্থানীয় সরকার বিভাগ ২০২৫ সালের ২৭ এপ্রিল জারি করা এক সরকারি স্মারকে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের স্পষ্ট নির্দেশনা দেয়। তবে বিস্ময়ের বিষয় হলো, প্রায় এক বছর পার হলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো বরখাস্ত, বিভাগীয় মামলা কিংবা ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়নি।
স্থানীয় একাধিক সূত্র দাবি করেছে, অভিযুক্তদের একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাববলয় রয়েছে। এই প্রভাবের কারণেই তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলেও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে গড়িমসি করা হচ্ছে। ফলে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
সরকারি তদন্তে দুর্নীতি প্রমাণিত হওয়ার পরও কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় পুঠিয়া পৌরসভার সাধারণ মানুষ, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সাইদ মোঃ শহিদুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। হিসাব রক্ষক মাসুদ রানার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সরকারি তদন্তকে মিথ্যা দাবি করে বলেন, তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। সাবেক মেয়র মোঃ আল মামুন খানের মোবাইল ফোন একাধিকবার চেষ্টা করেও বন্ধ পাওয়া যায়।














