অবৈধ খাল ভরাটে কৃষিজমি অনাবাদি, বর্ষায় দুর্ভোগে চার গ্রামের মানুষ
কুমিল্লা নাঙ্গলকোটে সরকারি খাল দখল করে রাস্তা নির্মাণ, পানি নিষ্কাশন বন্ধে ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি
- আপডেট সময় : ০৭:৫৯:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ৯৬ বার পড়া হয়েছে

এ.কে পলাশ | কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার ঢালুয়া ইউনিয়নের সিজিয়ারা গ্রামে সরকারি খাল দখল করে অবৈধভাবে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এতে চার গ্রামের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ বর্ষা মৌসুমে পানিবন্দি হয়ে পড়ছেন এবং কৃষি জমি অনাবাদি হয়ে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢালুয়া ইউনিয়নের সিজিয়ারা গ্রামের বাসিন্দা মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া তার দখলীয় জমির আইল থেকে মাটি কেটে জমির গর্ত ভরাট করতে গেলে গত ২১ ডিসেম্বর প্রতিপক্ষের লোকজন অবৈধভাবে বাধা প্রদান করে। এ সময় চান্দলা গ্রামের লিটন, সোহেল, গণি মিয়া এবং সিজিয়ারা গ্রামের আনু মিয়া ও তার ছেলে জাকের শ্রমিকদের কাজ বন্ধ করে দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঢালুয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান শাহআলম জসিম রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে রাতের আঁধারে সরকারি খাল ভরাট করে রাস্তা নির্মাণ করেন। অথচ ওই খাল দিয়েই চিয়ড়া, গো-পদুয়া, সিজিয়ারা ও পোষাই গ্রামের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র ব্যবস্থা ছিল। খাল ভরাট হওয়ায় বর্ষাকালে এসব এলাকার কৃষিজমি ও বসতঘর পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে।
ভুক্তভোগী মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, সরকারি খাস জমির ওপর থাকা খালটি ভরাট করে রাস্তা করায় তার জমি গর্ত অবস্থায় রয়েছে। নিজের জমি ভরাট করে আবাদি করতে গেলে প্রতিপক্ষ বাধা দিচ্ছে এবং জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা করছে।
চিয়ড়া গ্রামের মোশারফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ছোটবেলা থেকেই এখানে একটি খাল ছিল। খাল ভরাট করে রাস্তা করায় পানি নিষ্কাশনে মারাত্মক সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান।
সিজিয়ারা গ্রামের জসিম উদ্দিন বলেন, চার গ্রামের পানি চলাচলের একমাত্র নালাটি ভরাট করে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। এখন পানি যাওয়ার কোনো পথ নেই। দ্রুত সরকারি খাল উদ্ধার করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার দাবি জানান তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে ঢালুয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান শাহআলম জসিম বলেন, ব্রিটিশ আমল থেকে এখানে একটি নালা ছিল, তা স্বীকার করছি। নালা ভরাট করে রাস্তা করা হলেও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এলাকাবাসী অবিলম্বে অবৈধভাবে দখল করা সরকারি খাল উদ্ধার করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।





















