ভুয়া অভিযোগ ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সাময়িক বরখাস্ত, অর্থ আত্মসাতের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি
ভুরুঙ্গামারীতে বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষককে মিথ্যা অভিযোগে হয়রানি, ভুয়া ভাউচারে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০৯:১৩:০১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ ১০১ বার পড়া হয়েছে

ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারীতে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে মিথ্যা অভিযোগে হয়রানি ও ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষক উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন।
উপজেলার শিংঝাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ হাফিজুর রহমান জানান, বিধি অনুযায়ী পঞ্চম শ্রেণি উত্তীর্ণ একজন শিক্ষার্থীর বয়স ১১ বছর নির্ধারিত হলেও বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ খাইরুজ্জামান ও তার স্ত্রী মোছাঃ শাহাজাদী পারভীন ওই শিক্ষার্থীর প্রত্যয়নপত্রে বয়স ৮ বছর উল্লেখ করতে চাপ প্রয়োগ করেন। তিনি সরকারি নিয়ম মেনে এতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের সঙ্গে বিরোধের সৃষ্টি হয়।
তিনি আরও জানান, পূর্ব থেকে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ওই শিক্ষকেরা শিক্ষার্থীর অভিভাবক ও কিছু অসাধু ব্যক্তির সঙ্গে যোগসাজশ করে ২০২২ সালের ২৭ মার্চ একটি বানোয়াট ঘটনা সাজিয়ে ৪ এপ্রিল তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন।
এ ঘটনায় উপজেলা প্রশাসনের ১২ জন কর্মকর্তার সমন্বয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রমাণিত হয়। তদন্ত চলাকালে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটে, যা পুলিশ এসে নিয়ন্ত্রণ করে। এরপরও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ২০২২ সালের ২৪ মে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
দীর্ঘ তদন্ত শেষে নির্দোষ প্রমাণিত হলে পুনরায় তিনি বিদ্যালয়ে যোগদান করেন এবং পূর্ণ বেতন-ভাতা পান।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, সাময়িক বরখাস্তকালীন সময়ে বিদ্যালয়ের দায়িত্বে থাকা ওই দুই শিক্ষক ২০২১-২০২২ অর্থবছরে স্লিপ, মেরামত, প্রাক-প্রাথমিক ও বিদ্যুৎ বিল বাবদ ১ লাখ ১ হাজার ৭২৮ টাকা ব্যয় দেখিয়ে ভুয়া ভাউচার দাখিল করেন। কিন্তু কোনো বিল পরিশোধ না করে সোনালী ব্যাংক ভূরুঙ্গামারী শাখা থেকে ৯ নভেম্বর ২০২২ তারিখে ভ্যাট বাদে ৮৮ হাজার ৯০০ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগ করা হয়।
এছাড়া ২০২২-২০২৩ ও ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে বিদ্যালয় উন্নয়ন কাজে বরাদ্দ ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকার মধ্যে মাত্র ৫০ হাজার টাকার কাজ সম্পন্ন করে বাকি অর্থ আত্মসাৎ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, অভিযুক্ত দুই শিক্ষকের একজন মাদক সেবনের ঘটনায় গ্রেফতার হলেও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে ছাড় পান। তার অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস কর্তৃক চারটি ইনক্রিমেন্ট দুই ধাপে স্থগিত করা হলেও মূল অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষক দাবি করেন, উপজেলা ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও এখনো সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার হয়নি। তিনি অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং তার স্থগিত ইনক্রিমেন্ট প্রদানের দাবি জানিয়েছেন।




















