অরাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করে উপাচার্যকে চিঠি, ‘মেধাবী’ প্রকল্পকে হল না ধরার আহ্বান
জবির ‘মেধাবী’ প্রকল্পকে আবাসিক হল হিসেবে বিবেচনা না করার অনুরোধ আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের
- আপডেট সময় : ০৭:৪৮:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ৪৪ বার পড়া হয়েছে

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) চলমান আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের ‘মেধাবী’ প্রকল্পকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক বা আবাসিক হল হিসেবে বিবেচনা না করার অনুরোধ জানিয়েছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে নিজেদের অরাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করে জানিয়েছে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন।
গত ১৩ ডিসেম্বর আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক মো. সাব্বির আহমদ স্বাক্ষরিত একটি চিঠি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দপ্তরে পাঠানো হয়।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন একটি সম্পূর্ণ দাতব্য ও অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান। তবে সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ফাউন্ডেশন এবং ‘মেধাবী’ প্রকল্পের নাম জড়িয়ে মন্তব্য করা হচ্ছে, যা তাদের মূলনীতি ও আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এতে ফাউন্ডেশনের নিয়মিত কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলেও চিঠিতে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
চিঠিতে আরও বলা হয়, ‘মেধাবী’ প্রকল্পটি আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের একটি স্বতন্ত্র উদ্যোগ। এটি কোনোভাবেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক হল বা আবাসিক হল নয়। তাই প্রকল্পটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল হিসেবে বিবেচনা না করার জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ১০ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের মাধ্যমে ‘মেধাবী’ প্রকল্পের যাত্রা শুরু হয়। এর আওতায় ১৬ জুলাই ২০২৫ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকল্পটির কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে এই প্রকল্পে ৬৪৫ জন শিক্ষার্থী অবস্থান করছেন।
চিঠিতে প্রকল্পটির ব্যয় সংক্রান্ত তথ্যও তুলে ধরা হয়। এতে জানানো হয়, ‘মেধাবী’ প্রকল্প প্রতিষ্ঠায় আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যয় করেছে। প্রকল্প পরিচালনার মোট ব্যয়ের প্রায় ৯০ শতাংশ ফাউন্ডেশনের নিজস্ব তহবিল থেকে বহন করা হয়, আর বাকি ১০ শতাংশ শিক্ষার্থীরা তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী প্রদান করেন।
এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি ইংরেজি ভাষা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), আইসিটি ও লিডারশিপ-সহ বিভিন্ন দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
দেশের কল্যাণে এই উদ্যোগ এগিয়ে নিতে আগ্রহ প্রকাশ করে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন জানায়, প্রয়োজনে ১০ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে পরিবর্তন আনতে তারা প্রস্তুত, যাতে ফাউন্ডেশন তার নীতি ও আদর্শ অক্ষুণ্ন রেখে প্রকল্পটি পরিচালনা করতে পারে।














